ঘৃণ্য মিথ্যাচারের কারণে সময় টিভিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে : মামুনুল হক

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারী (রহ.) এর জানাযায় লোক সমাগম নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মাহফুজুল হক ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের সাথে ‘কল্পিত ফোনালাপ’ প্রকাশ করে মিথ্যাচার করার কারণে বেসরকারী স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সময় টিভিকে’ অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে বলেছেন আল্লামা মামুনুল হক।

শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয় বরং এমন একটি ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘৃণ্য কাজ করার কারণে তাদের ব্যাপারে কঠোর আইনি ভূমিকা নিতে এবং ওই প্রতিবেদককে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করারও জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি ও আল্লামা মাহফুজুল হকের সহোদর মাওলানা মামুনুল হক।

সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মিথ্যাচারমূলক ওই কল রেকর্ডিং প্রকাশের এক ঘন্টার মধ্যেই মাওলানা মামুনুল হকের ফেসবুক পেজ থেকে এক লাইভে তিনি এই দাবি করেন।

তিনি বলেন, মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারী রহ. এর জানাযা নিয়ে লোক সমাগম বিষয়ে দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে, তার মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা মুফতী মাহফুজুল হক সাহেব-এর পক্ষ থেকে ঘটনা সম্পূর্ণ বিবরণ গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এবং এটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হয়েছে সেই কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। তাই, এই ঘটনার সাথে অন্য কোনভাবেই অনভিপ্রেত কোনো বিতর্কে জুড়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা অবশ্যই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার একটি অসভ্য প্রয়াস বলেই আমরা মনে করি।

মামুনুল হক বলেন, আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং দুঃখ নিয়ে এ কথা বলছি যে আজকে বাংলাদেশের একটি জাতীয় প্রচার মাধ্যম, একটি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’ অত্যন্ত ঘৃণ্যভাবে এবং সুপরিকল্পিতভাবে শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ-এর সন্তান, তার পরিবার, তার সংগঠন এবং এদেশের আলেম সমাজকে কলঙ্কিত করার অশুভ প্রয়াস চালিয়েছে। তারা একটি কল্পিত ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রমূলক একটি সংবাদ প্রচার করেছে।

যোগাযোগ মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সারাদেশ থেকে আমাদের কাছে উপর্যুপরি ফোন আসছে। বিষয়টি নিয়ে সারাদেশের আলেম-ওলামারা ক্ষুব্দ হয়ে উঠছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং তৌহিদী জনতা তারা এই অবস্থাতেও তাদের ক্ষোভ মাত্রাতিরিক্ত ভাবেই পুঞ্জীভূত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা অবাক হই, বিস্মিত হই যে একটি গণমাধ্যম কিভাবে এই ধরনের একটি বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্রমূলক একটি সংবাদ প্রকাশ করতে পারে।

তিনি বলেন, আল্লামা মাহফুজুল হক তিনি বাংলাদেশে কোন অপরিচিত ব্যাক্তি নন। তিনি বাংলাদেশের অত্যন্ত দায়িত্বশীল, প্রতিনিধিত্বশীল একজন শীর্ষ আলেমেদ্বীন। বাংলাদেশের একটি জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া প্রিন্সিপাল। বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের দায়িত্বশীল। তিনি কওমী মাদরাসা সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া এর কেন্দ্রীয় কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি কোনো অপরিচিত ব্যক্তিত্ব নন। তিনি শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সুযোগ্য সন্তান। তার বক্তব্য গণমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়ায় শত শত নয় বরং হাজার হাজার প্রচারিত রয়েছে। তার কণ্ঠস্বর এদেশের মানুষের কাছে অপরিচিত নয়। এদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছেও অপরিচিত থাকবার কথা নয়। কিন্তু আমরা অবাক এবং বিস্মিত হই ষড়যন্ত্রের গভীরতা দেখে। আমরা যে দেশে বসবাস করছি সেই দেশের জনগণ, ইসলাম এবং সে দেশের ইসলামী নেতৃত্বকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

তিনি বলেন, আমরা কিভাবে এর প্রতিবাদ জানাবো সেই প্রতিবাদের ভাষা আমাদের জানা নেই। ইউটিউবের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপের একটি কল্পিত, একটি ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেবের প্রচার করা কোনভাবেই কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, মাওলানা মাহফুজুল হক তাঁর যে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন রয়েছে সেখানে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের কোন অ্যাপস ব্যবহার করেন না। এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে কিভাবে এরকম একটি বক্তব্য তৈরি করেছে।

মাওলানা মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন- আমরা মনে করি যে টেলিভিশন এই তথ্যটি প্রচার করেছে এবং এই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করে জাতির মধ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে সম্পূর্ণ ঘটনার সঙ্গে এবং এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তারা জড়িত রয়েছে। সময় টিভির এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ভূমিকা এটা কোনোভাবেই এদেশের তৌহিদী জনতা মেনে নেবেনা।

তিনি বলেন, আজ শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সারাদেশে ছাত্র, ভক্ত, ও কর্মীরা সময় টিভির এই মিথ্যা, বানোয়াট, কল্পনাপ্রসূত, ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র মূলক এই সংবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়েছে। যদি কোনভাবে আজকের এই পরিস্থিতিতে এর কোন বিস্ফোরণ ঘটে তাহলে এর জন্য সম্পূর্ণ দায় সময় টিভিকে বহন করতে হবে। যদি প্রশাসন তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এর দায়দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে। আমরা অবশ্যই যথাযথভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আল্লামা মাহফুজুল হকের পক্ষ থেকেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন- আমি এই মুহূর্তে বলতে চাই ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি সময় টিভি কর্তৃপক্ষ নিঃস্বার্থভাবে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করে এবং এই ষড়যন্ত্রকারীকে যদি উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাহলে সময় টিভির ব্যাপারে এদেশের তৌহিদী জনতা আগামীদিনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রশাসন এবং সরকারের কাছে আমাদের বক্তব্য হলো এই পরিস্থিতিতে দেশের মধ্যে একটি অনভিপ্রেত বিশৃঙ্খলা তৈরি করবার জন্য এইভাবে ন ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এবং সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সময় টিভি কর্তৃপক্ষ এবং সময় টিভির রিপোর্টার অবশ্যই জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন সেটা প্রশাসন এবং সরকারের দায়িত্ব যদি। কিন্তু অনাকাঙ্খিত কোন পরিবেশ এবং পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় তাদের দায়িত্ব কিন্তু জনগণের কাধে চাপালে হবেনা। তার দায়িত্ব সরকারকে এবং প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

মাওলানা মামুনুল হক ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন- এটা মগের মুল্লুক নয় যে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা হবে। দেশের সম্মানিত মানুষদের অসম্মানিত করা হবে। যেকোনো মানুষের চরিত্র হনন করা হবে। যেকোনো মানুষের নামে মিথ্যাচার করা হবে। এই প্রচারণার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে অনুমোদন দেওয়া হয় না। আমরা এ কথা বলতে চাই এই দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ প্রকাশ করবার কারণে তাদের অনুমোদন বাতিল করতে হবে। সরকার যদি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সরকারের উপর থেকে প্রশাসনের উপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যায় সেটি আরও গভীর সংকট তৈরি করবে।

তিনি গনমাধ্যমের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন- সময় টিভি সহ যে সকল গণমাধ্যম রয়েছে তাদের সকলকে আহ্বান জানাই- ‘সাংবাদিকতা করবেন, সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করবেন তো সৎভাবে করবেন’। একটি সংবাদমাধ্যম অনেক দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে হয়, দায়িত্বশীল হতে হয়। দেশের লক্ষ-কোটি মানুষ আপনাদের দিকে তাঁকিয়ে থাকে। আপনাদের প্রচারিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে তারা তাদের দায়িত্ব নির্ণয় করে। সেই গণমাধ্যম যদি এরকম গাঁজাখুরী কোন ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য প্রচার করে তাহলে মানুষের আস্থা থাকবে কিভাবে।

তিনি বলেন – আমি অন্যান্য প্রিন্ট মিডিয়া ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ গণমাধ্যমকে বলবো- গণমাধ্যমের উপর গণমানুষের আস্থা এবং নির্ভরতা অটুট রাখবার জন্য এই ধরণের হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যদি আপনারা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হন – সংবাদমাধ্যম কিন্তু মানুষের আস্থা হারাবে।

তিনি বলেন- আজকের আধুনিক বিশ্বের মানুষ কিন্তু সচেতন। মানুষের চোখ কান খোলা। শুধু যা ইচ্ছা তাই গনমাধ্যমে টেলিভিশনের বসে বসে প্রচার করবেন আর মানুষ সেটা যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস করবে মানুষকে এতটা বোকা ভাববার দিন শেষ। মানুষ এখন অনেক চৌকান্না, অনেক সচেতন। তারা জানে তারা বুঝে কোত্থেকে কি হচ্ছে। কাজেই আমরা চাইনা দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের মধ্যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। তাই আমরা সময় টিভি কর্তৃপক্ষকে ঘন্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানাই।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন