গত ৪ মাসে বাংলাদেশ হারালো শীর্ষস্থানীয় ১০ আলেম

প্রকাশিত: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০

বাংলাদেশের ইসলাম, মুসলমান ও আলেম সমাজের জন্য বিগত চার মাস যেন একের পর এক বিষাদময় খবর নিয়ে এসেছে। ২০২০ সাল শুরু হওয়ার পর থেকে গত চার মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদায় নিয়েছেন দেশের প্রায় ১০ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম। এর মধ্যে গত দেড় সপ্তাহে বিদায় নিয়েছেন প্রায় ৬ জন শীর্ষস্থানীয় আলেমেদ্বীন।

এত অল্প সময়ে এতজন শীর্ষস্থানীয় আলেমের মৃত্যু এর আগে কখনওই হয়নি। বিগত চার মাসে মারা যাওয়া শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়, মৃত্যু সময়ের তালিকা জমা করেছে পাবলিক ভয়েস।

এক. শায়খুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী রহ.

২০১৯ সালের শেষ দিন অর্থাৎ ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন দেশের বর্ষীয়ান ও প্রবীণ মুরুব্বী আলেম আল্লামা আশরাফ আলী। তিনি জামিয়া শারঈয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস ছিলেন। বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া’র কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮০ বছর।

বর্ষীয়ান এই আলেম ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। বার্ধ্যক্যজনিত কারণে ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে অসুস্থতায় আল্লামা আশরাফ আলীর ইন্তেকাল হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিসহ দেশের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম শোক প্রকাশ করেছেন। জাতীয় সংসদেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ব্যাপারে শোক প্রকাশ করেছেন।

দুই. শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী রহ.

২০২০ সালের ৫ জানুয়ারী বাংলাদেশের প্রবীণ আলেমদের মধ্যে অন্যতম ও সিলেটের প্রতিথযশা আলেম আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী ইন্তেকাল করেছেন। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দেশের বর্ষিয়ান আলেম এবং জামেয়া আরাবিয়া উমেদনগর মাদরাসা হবিগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর।

৫ জানুয়ারী রোববার বিকাল ৪ টা ৩৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরে ওলামায়ে কেরামগণ শোক প্রকাশ করেছেন।

তিন. শায়খুল হাদীস আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ রহ.

২০২০ সালের জানুয়ারী মাসের ২৯ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন দেশের আর এক প্রবীণ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ। তিনি কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদ মসজিদের প্রধান খতিব ও কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সদস্য, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া’র (বেফাক) সহ-সভাপতি, এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ-এর মুহতামিম ছিলেন।

তিনি ২৯ জানুয়ারী বার্ধক্যজনিত কারণে ধানমণ্ডির ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভার্থী রেখে গেছেন।

চার. শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হাই রহ.

২০২০ সালের ২৮ মার্চ সিলেটের বরেণ্য আলেম ও বাংলাদেশের প্রবীণ আলেমদের মধ্যে অন্যতম শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হাই ইন্তেকাল করেন। নিজ বাড়ির পাশেই মারকাজু তালীমিন্নিসা বংশিবপাশা, আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ নামে একটি মহিলা দ্বীনী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। একই সাথে তিনি সিলেটের একাধিক মাদরাসার শায়খুল হাদীস ছিলেন।

২৮ মার্চ ১২ টা ৩০ মিনিটে এই বর্ষিয়াণ আলেম নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯৮ বছর। তিনি পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন গুনাগ্রহী ও ছাত্র রেখে যান ।

পাঁচ. আল্লামা আব্দুল মোমিন রহ.(শায়খে ইমামবাড়ি)

গত ৮ এপ্রিল বুধবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানি রহ.-এর খলিফা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ও জামেয়া দারুল কোরআন সিলেটের শায়খুল হাদিস, প্রখ্যাত বুযুর্গ পীরে কামেল আল্লামা শাহ আব্দুল মোমিন (শায়খে ইমামবাড়ি)।

৮ এপ্রিল রাত ১২ টা ৪৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ গৃহে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯৯ বছর। মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন তিনি বিভিন্ন শারিরীক অসুস্থতায় ভুগেছেন।

ছয়. মুফতি ড. আবদুল্লাহ বিক্রমপুরী রহ.

৮ এপ্রিল বুধবার বাদ মাগরিব ইন্তিকাল করেছেন, ইসলামী অর্থনিতিবিদ, শায়খুল হাদিস, মুফতি ড. আবদুল্লাহ বিক্রমপুরী। তিনি কর্মজীবনে ঢাকা ইসলামপুর তাতিবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঐতিহ্যবাহী মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস ছিলেন। এবং তিনি জামালুল কুরআন মাদরাসা গেন্ডারিয়ায় বুখারীর দরস দিতেন । তিনি ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফির শীর্ষস্থানীয় খলিফাদের মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়াও তিনি সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও ট্রাস্ট ব্যাংক শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন ।

৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কুর্মিটোলা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬০ বছর। তাঁর মৃত্যু নিয়ে ‘করোনাভাইরাস জড়িয়ে’ কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হলেও মরহুমের পরিবার থেকে প্রমাণ্য উপস্থাপনার মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন হজমজনিত ও ডায়াবেটিকের পেশেন্ট ছিলেন। রাজধানীর আজগর আলী মেডিকেলে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। পূর্ব অসুস্থতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

সাত. মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী রহ.

১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় ইন্তেকাল করেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ মাওলানা সৈয়দ মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী (মির্জাপুরের পীর সাহেব)।

মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিলো ৭০ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে ও দীর্ঘদিন শারিরীক অসুস্থতায় ভুগে তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

আট. মাওলানা আবদুর রহীম বুখারী রহ.

১৬ এপ্রিল ইন্তেকাল করেছেন মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুর রহীম বুখারী। তিনি জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বোখারীর ছোট ভাই। আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ-এর পরিদর্শক ও চকরিয়া ইমাম বোখারী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। দার্শনিক রাজনীতিবিদ খতীবে আজম আল্লামা ছিদ্দিক আহমদ রহ. এর একান্ত শিষ্য, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা, পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম ও সুবক্তা ছিলেন।

তিনি ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি ডায়াবেটিক ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ডাক্তারের নিবিড় পরিচর্যায় ছিলেন। তাঁর আনুমানিক বয়স হয়েছিলো ৭১। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার মেয়ে সন্তানসহ অসংখ্য শাগরিদ ও গুণগ্রাহী রেখে যান।

নয়. আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারী রহ.

১৭ এপ্রিল ইন্তেকাল করেছেন, বিশ্ব নন্দিত মুফাচ্ছিরে কুরআন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির, বি-বাড়ীয়ার বেড়তলা জামিয়া রাহমানিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারী।

তিনি ১৭ এপ্রিল মাগরিবের পূর্বে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো আনুমানিক ৭০ বছর। মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারী দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি দেশ বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি দীর্ঘ সময় আমেরিকায় ছিলেন। তার বেশ কয়েকবার অপারেশন এবং কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিলো। সর্বশেষ গত কয়েক মাস ধরে তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারী বাংলদেশের একজন প্রখ্যাত ওয়ায়েজ। তিনি প্রায় তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি দাওয়াতী ময়দানে কাজ করেছেন। দাওয়াতী কাজে সফর করেছেন ইউরোপ আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ।

দশ. আল্লামা আবদুল আলীম আল-হুসাইনী রহ.

১৮ মার্চ রাত ইন্তেকাল করেন নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী হাজীপাড়া মাদরাসার শাইখুল হাদীস ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দীন আল্লামা আবদুল আলীম আল-হুসাইনী। তিনি তিনি ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেম, ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার, শাইখুল আরব ওয়াল আজম, সাইয়িদ হুসাইন আহমাদ মাদানী র. -এর দীর্ঘ আট বছর সান্নিধ্য পাওয়া একজন সুযোগ্য শাগরিদ ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমাদ শফী দা.বা. -এর সহপাঠী ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো প্রায় ১০৪ বছর।

দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবত দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় বুখারী শরীফের দরস দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ মারকাযুল উলূম আল ইসলামিয়া হাজীপাড়া মাদরাসায় তের বছর যাবত শাইখুল হাদীস হিসেবে বুখারী শরীফের দরস দিচ্ছিলেন।

এদিন রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থতায় ভুগতেছিলেন। তিনি চার ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত, অনুরাগী রেখে গেছেন।

বাংলাদেশের আলেম সমাজের মধ্যে এমন শ্রদ্ধাভাজন ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের এত অল্প সময়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাওয়া নিয়ে আলেমদের অনেকেই তাদের দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এত অল্প সময়ের ব্যাবধানে এতজন প্রতিথযশা আলেমের ইন্তেকাল বাংলাদেশের ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য দুঃখজনক অধ্যয়।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী তাঁর ফেসবুক আইডিতে লেখেন, বিগত এই এক সপ্তাহ এদেশের আলেমসমাজের জন্য ছিল খুবই মর্মান্তিক ও বেদনার। এক সপ্তাহ সময়ে পাঁচজন বড় বড় হক্কানী বুযূর্গ আলেম ইন্তেকাল করেছেন৷ আমরা হারালাম দেওবন্দী কাফেলার প্রতিথযশা রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি সম্পন্ন যুগসচেতন পাঁচজন মুরুব্বিদেরকে। যারা ছিলেন পথপ্রর্দশক।

প্রত্যেকেই ওলামায়ে কেরামের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য কায়েম, কুরআনের শিক্ষা বিস্তার এবং দ্বীনের খেদমতে সারা জীবন ত্যাগ ও কুরবানী দিয়েছেন। শিরক বিদআত ও কুসংস্কারমুক্ত এবং সুন্নাতে রাসুলের সা. পরিপূর্ণ অনুসরণে আজীবন প্রচেষ্ঠা চালিয়েছেন। মানবতার কল্যাণে, ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্টীর মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন