করোনায় বাহরাইনে কপাল খুললো ৪০ হাজার বাংলাদেশির

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে বাহরাইনে থাকা বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর দিল দেশটির সরকার। প্রাণঘাতী করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট ‍উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেসব বিদেশি কর্মী অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন, সেসব কর্মীদের বৈধতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাহরাইন।

বিদেশি কর্মীদের জন্য বাহরাইন সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াসহ যথাযথ কাগজপত্রের জন্য বাহরাইনে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিরা এই সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

জানা যায়, বাহরাইনে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতা দেয়ার জন্য বেশ কিছু দিন ধরেই অনুরোধ জানাচ্ছিল বাংলাদেশ হাই কমিশন। সেই অনুরোধ ও করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশটির বাদশাহ অনিয়মিত হয়ে পড়া বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসে বাহরাইন সরকার এখানে অনিয়মিত হয়ে পড়া ৫৫ হাজার বিদেশি কর্মীকে বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে অনিয়মিত ৪০ হাজার বাংলাদেশি বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ জন্য দূতাবাস থেকে কর্মীদের যথাযথভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তারা যাতে এই সিদ্ধান্তের সর্বোচ্চ সফলতা পান সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মীদের বৈধতা দেয়ার পাশাপাশি আগামী জুন মাস পর্যন্ত তাদের মাশুলও মওকুফ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাহরাইনে বর্তমানে দুই লাখের মতো বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে ৫০ হাজার নানা কারণে অনিয়মিত হয়ে গেছেন। এদের অধিকাংশই নির্মাণ শ্রমিক, গাড়ি চালক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করে থাকেন।

কর্মীদের বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের অনিয়মিত থেকে বৈধ হতে দূতাবাস থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। তাদেরকে বাহরাইন পোস্টের মাধ্যমে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু কিংবা পাসপোর্ট নবায়ন করে দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে তারা যেন অনলাইনে স্বাচ্ছন্দে নিবন্ধন করতে পারেন সেজন্য বাহরাইন ফাইন্যান্স কোম্পানিকে নিযুক্ত করেছি আমরা।

বাহরাইনের শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা এলএমআরএ’র প্রধান নির্বাহী ওসামা আল আবসি বলেন, মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাহরাইন সরকার। নিয়মিত কাজ করার সুযোগ পেয়ে এইসব অভিবাসী যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যাদের নামে বিভিন্ন মামলা প্রক্রিয়াধীন, যারা ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে এখানে অবস্থারত এবং যাদের বাহরাইন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তারা এই বৈধ কার্যক্রমের অংশ হতে পারবে না।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন