বাঁচতে চাইলে ক্ষেতে যান, বাহাদুরি পরে কইরেন : ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২০

করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে খাদ্য সংকট থেকে বাঁচতে সবাইকে নিজের নিরাপত্তা ঠিক রেখে মাঠে-ময়দানে ক্ষেতে-খামারে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।

যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ এলাকায় মাঠে ময়দানে বিশেষ করে কৃষকের সাথে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে একটি ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, করোনার এই মহামারীতে সবাইকে অবশ্যই খাদ্য সংকট মোকাবেলায় কাজ করে যেতে হবে। সবাইকে ক্ষেতে-খামারে ফিরতে হবে। এখন কোন বাহাদুরি বা নিজের মান-ইজ্জত দেখার সময় নয়।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে যদি লকডাউন চলতে থাকে তাহলে দেশের অবস্থা দুর্ভিক্ষের দিকে চলে যেতে পারে। এ থেকে বাঁচতে সবাইকেই যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন আমরা যেভাবে খাদ্য আমদানীর বিষয়ে ভারতের উপর নির্ভরশীল তাতে যদি ভারত থেকে আমদানি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এদেশে খাদ্যের দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে সময় লাগবে না।

তিনি বলেন, এর থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো দেশের কোথাও এক ইঞ্চি জমি খালি না রাখা। বিশেষ করে জমি চাষাবাদের তিনটি মৌসুম তথা আউশ, আমন ও বোরো ধানের সময়ে কোথায় কোন জমি খালি রাখা যাবে না।

ব্যারিস্টার সুমনের সাথে লাইভে সংযুক্ত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভেকেট আবু জাহির। অ্যাডভোকেট আবু জাহের কৃষকদের আউশ প্রণোদনা পৌঁছে দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

লাইভে আবু জাহের জানান, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২০০০ কৃষকের জন্য বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ এবং স্যার বিতরনের জন্য এসেছেন. একইসাথে করোনা ভাইরাসের এই সময়ে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদেরকে সর্বোচ্চ নির্দেশনা দিয়েছেন যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য। এবং তিনি নিজেও জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ চুরির বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমনের এক প্রশ্নের উত্তরে এডভোকেট আবু জাহের বলেন, আমরা এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স এর ভূমিকায় রয়েছি। আমাদের এই অঞ্চলে বা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কেউ যদি ত্রাণের কোন কার্যক্রমে অনিয়ম করে তাহলে তাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেবো আমরা।

একই সাথে তিনি বলেন, যারা এই দুর্যোগের মুহূর্তে ত্রাণ চুরির মত ঘৃণিত কাজ করে যাচ্ছে তারা কখনোই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হতে পারে না। হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আরও বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কৃষকের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন এবং এই দুর্যোগের সময় দেশের এক ইঞ্চি মাটি ও যাতে কোথাও খালি না থাকে সে ব্যাবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছান।

এছাড়াও হবিগঞ্জ অঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছি বন্যার আগেই ফসল ঘরে তুলতে। যাতে কৃষকের কোন ক্ষতি না হয়।

ব্যারিস্টার সুমন করোনাভাইরাস এর সময় অ্যাডভোকেট আবু জাহেলের বিভিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, আপনি যেভাবে মাঠে ময়দানে জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। একই সাথে ব্যারিস্টার সুমন সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা সবাই অবশ্যই ঘরে থাকবো কিন্তু যার যার সাধ্যমত মাঠে ময়দানে কাজ করার চেষ্টা করব। এই মুহূর্তে আমরা সবাই কৃষক হয়ে যেতে হবে এবং কৃষকের সঙ্গে থেকে দেশে খাদ্যে যেন কোন দুর্ভিক্ষ না দেখা দেয় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন