দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ত্রাণ কমিটি গঠনে লুটপাট আরও বাড়বে : আতাউর রহমান

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২০

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে করোনা বিপর্যয়ের সময় ত্রাণ বিতরণের ঘোষণা ‘ত্রাণ লুটপাটের’ ক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরার আশঙ্কা – মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, সরকারদলীয় লোকজনের মধ্যে কাড়াকাড়ি এবং লুটপাট আরো বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, সর্বত্র দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ত্রাণ কমিটি গঠন করার জন্যে। দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী উদারতার পরিচয় দিতে পারতেন। তিনি সর্বদলীয় ত্রাণ কমিটি গঠনের কথা বলতে পারতেন। অথবা যেসব সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠন সারাদেশে নিরলসভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে সম্পৃক্ত করার কথা বলতে পারতেন। কমপক্ষে সমাজের ইমাম এবং শিক্ষক শ্রেণীকেও ত্রাণ তৎপরতার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারতেন। (অথচ) তিনি তা করেননি। কারণ, দেশে যাই হোক; দলই তার কাছে বড়। দলীয় চিন্তার উর্ধ্বে তিনি উঠতে পারলেন না।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, তবে ত্রাণ কিন্তু আওয়ামী লীগের দলীয় কোষাগার থেকে নয়, বরং জনগণের সম্পদ; রাষ্ট্রের ত্রাণ ভান্ডার, রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে দেয়া হচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, সরকারদলীয় লোকজনের মধ্যে কাড়াকাড়ি এবং লুটপাট আরো বেড়ে যাবে।

অন্য সময় যাই হোক বর্তমান সংকটকালে আমরা চাই, সরকার থেকে যাই বরাদ্দ হোক; তা যেন দুর্দশাগ্রস্থ এবং ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে। এর জন্য জনগণের দল হিসাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকেও কিছুটা দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্খীদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ শুকরিয়া যে, আপনারা মুহতারাম আমীরের নির্দেশ বাস্তবায়নে নিজেদের সমস্যা এবং সংকট থাকা সত্ত্বেও করোনা পরিস্থিতিতে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের সহযোগিতায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমরা সকলেই একথা জানি যে, আমাদের সাধ্য খুবই সীমিত এবং আমাদের মাঝেও অনেকে অভাবগ্রস্থ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির যদি দ্রুত পরিবর্তন না হয়, তাহলে অভাবগ্রস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যাভাবে হাহাকার দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় অভাবী মানুষেরা যাতে ন্যূনতম সরকারি ত্রাণ পায়, সেজন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং সহযোগী সংগঠন সমূহের স্থানীয় নেতাকর্মীদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনার এলাকার অভাবী মানুষের সঠিক তালিকা যথাযথভাবে মেম্বার, চেয়ারম্যান অথবা কাউন্সিলরের কাছে পৌঁছল কি না, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে হবে। রাজনৈতিক কারণে অথবা অন্য কোন কারণে তালিকা থেকে কারো নাম বাদ পড়লে, তাকে তালিকাভুক্ত হতে সহযোগিতা করতে হবে। মেম্বার চেয়ারম্যানরা অসহযোগিতা বা বৈষম্য করলে, ইউএনওর কাছে অভিযোগ করতে হবে।

মানুষকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা দলীয় পরিচয় বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করবো না। কে কোন দলের বা কে কোন ধর্মের, তা বিবেচনা না করে; সে অভাবী কি না এবং ত্রান পাওয়ার যোগ্য কি না, কেবল সেটাই দেখতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সারাদেশের ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং পৌর কমিটিগুলোকে বেশি তৎপর হতে হবে। আমরা আশা করব, আমাদের এই নির্দেশনার আলোকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সবগুলো জেলা, মহানগর এবং সহযোগী সংগঠন তাদের অধস্তন শাখাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবে। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সহায় হোন।

মন্তব্য করুন