বিশ্বের মুসলিমদের শবে বরাতের ‘মোবারকবাদ’ জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২০

করোনাভাইরাসের এই দুঃসময় সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শবে বরাতের ‘মোবারকবাদ’ (শুভেচ্ছা) জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীও দিয়েছেন। বাণীতে তারা উভয়েই করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে বসেই ইবাদত বন্দেগী করার জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হয়ে করোনা মোকাবিলা করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। পবিত্র শবেবরাতের রাতে নিজ নিজ ঘরে বসে আল্লাহর ইবাদত করতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে বসে ইবাদত বন্দেগী করার জন্য দেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক ‘মোবারকবাদ’ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানবজাতির জন্য সৌভাগ্যের এই রজনী বয়ে আনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত ও বরকত। এ রাতে আল্লাহপাক ক্ষমা প্রদর্শন এবং প্রার্থনা পূরণের অনুপম মহিমা প্রদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’ তিনি বলেন, ‘রহমতের এই রাত আমাদের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের বার্তা বয়ে আনুক- এ প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমিন।’

করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর কবরস্থান ও মাজারে জনসমাগম না করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। ইফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজ নিজ ঘরে বসে এই পবিত্র রজনীতে ইবাদত-বন্দেগী করা এবং করোনাভাইরাস থেকে পরিত্রান পেতে বিশেষ দোয়া করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ কামনা করে পবিত্র শবে বরাতের রাতে বিশেষ দোয়া করতে এবং কবরস্থান ও মাজারে জনসমাগম না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ।

বুধবার বিকেলে ইফার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। বিরাজমান এ পরিস্থিতিতে মহিমান্বিত এ রজনীতে নিজ নিজ ঘরে বসে ইবাদত বন্দেগীর সময় ব্যক্তিগত দোয়া ও প্রার্থনা ছাড়াও করোনা ভাইরাসের মহামারীর আক্রমণ থেকে দেশবাসী, প্রিয় মাতৃভূমি, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ববাসীকে সুরক্ষা ও নিরাপদ রাখতে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করার জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বলেন, ইতোপূর্বে লক্ষ্য করা গেছে, পবিত্র শবে বরাতে যিয়ারতের জন্য কবরস্থান ও মাজারে অনেক লোকের সমাগম হয়। এছাড়া কবরস্থান ও মাজারের ভিতরে ও বাহিরে অনেক ভিক্ষুক, অসহায়, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি সাহায্যের জন্য সমবেত হয়। এ ধরনের জনসমাগমের কারণে করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে শবে বরাতে কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরস্থানে না গিয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করে মৃত আত্মীয়-স্বজনের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে কবরস্থান ও মাজারের গেট বন্ধ রাখাসহ কবরস্তানের ভিতর ও বাহিরে কোনো ধরনের জনসমাগম না-করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুরোধ করা হয়।

এছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। গুজব ছড়ানো ও গুজবে বিশ্বাস হতে বিরত থাকার জন্যও সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম থেকে জানানো হয়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শবে বরাতের নামাজ পড়াসহ অন্যান্য ইবাদত বাসায় সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

বুধবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান নগরবাসীকে এ অনুরোধ জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, মসজিদ, মাজার, কবরস্তান, মিলাদ মাহফিল বা অন্য যে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানও এ অনুরোধের অন্তর্ভুক্ত। মূলত সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতেই সাধারণের প্রতি এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাসস।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন