মোবাইল করলেই খাবার নিয়ে হাজির হবেন রামগতির বড়খেরী ইউপি চেয়ারম্যান

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

পাবলিক ভয়েস: করোনাভােইরাস সৃষ্ট বিপর্যয়ের মুখে দেশ আস্তে আস্তে আনুষ্ঠানিক লকডাউনের দিকে যাচ্ছে। ঢাকার প্রায় ৫২টি এলাকাসহ মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ সর্বশেষ আজকে যুক্ত হওয়া খুলনা, লালমনিরহাট ফুল লকডাউনে চলে গেছে।

আর অঘোষিত এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে লকডাউনে পুরো দেশ। লক্ষ্মীপুরের রামগতিও এর বাইরে নয়। আর এই পরিস্থিতিতে কর্মহীন, রোজগারহীন দিনমজুর থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। খাদ্যসংকটে অনেকেই চাপা কষ্টে সময় পার করছেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়া অসহায় লোকগুলো যখন ঘরবন্দী, তখন এসব অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন ৮নং বড়খেরীর ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হাসান মাকসুদ মিজান।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার এই অবস্থায় নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে এক বার্তায় তিনি  জানালেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা। তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে কল দিলে খাবার নিয়ে হাজির হওয়ার ঘোষণা দিলেন চেয়ারম্যান নিজেই।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন,
“সম্মানিত ৮নং বড়খেরী ইউনিয়নবাসী। যারা নিম্নবিত্ত আছেন, যাদের ঘরে খাবারের সমস্যা তারা আমাকে ফোন করে জানাবেন। আমি আপনাদের সন্তান, আপনার সম্মান, আমার সম্মান। আমি আপনাদের খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিবো ইনশাল্লাহ। রিযিকের মালিক আল্লাহ।

নিজের ব্যবহৃত ০১৭১৬২৬৫০৩১ এই মোবাইল নাম্বার তিনি দিয়েছেন এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরে কমলনগর উপজেলার ৮নং চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ ব্যতিক্রমি উদ্যোগ নিয়ে সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘চর কাদিরা ইউনিয়নে অভাবের কারণে কেউ যদি না খেয়ে থাকতে হয়, আমি সাইফুল্লাহ সর্বপ্রথম না খেয়ে থাকবো। কারো ঘরে ভাতের চাউল না থাকলে, কারো পকেটে সদায় করার টাকা না থাকলে, সরাসরি আমার সাথে সাক্ষাত করবেন। আমার পকেটে টাকা থাকতে, আমার ঘরে একমুঠ চাল থাকতে, চর কাদিরায় কেউ না খেয়ে থাকবে না ইনশাআল্লাহ।’

বলেই ক্ষ্যান্ত নন তিনি। চলতি করোনাভাইরাস এর সংকটময় মুহূর্তেও মানুষের ঘরে ঘরে তিনি ডাল-চাল ইত্যাদি পৌঁছে দিচ্ছেন প্রতিদিন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সারাদেশে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় দু’চারজন জনপ্রতিনিধির নামে এই সময়ে যে অপ্রত্যাশিত খবর কয়েকদিনে গণমাধ্যমে এসেছে তাতে লক্ষ্মীপুরের এই দুই চেয়ারম্যান সারাদেশের জনপ্রতিনিধিদের জন্য আদর্শ হতে পারেন।

এ ব্যাপারে পাবলিক ভয়েসকে চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ বলেন, ‘আমার বাবা পরপর দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি ঢাকায় থাকতাম। বাবা মারা যাওয়ার পর জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হই। মানুষকে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছি। ব্যক্তিগত এবং সরকারী সহায়তায় সর্বোচ্চ দিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবো’।

কোত্থেকে এই অনুপ্রেরণা পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মানুষ বাবার প্রতি ভালোবাসা থেকে আমাকে নির্বাচিত করেছে। আমি চাই জনগণের ভালোবাসার প্রতিদানস্বরুপ সব সময় তাদের পাশে থাকতে’।

প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সুলতান মাহমুদ আরিফ

/এসএস/শাহনূরশাহীন/পাবলিকভয়েস/

মন্তব্য করুন