খিলগাঁও কবরস্থানে করোনা সন্দেহভাজন নারীর দাফনের ভিডিও ভাইরাল

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২০

গত দুইদিন ধরে আইইডিসিআর থেকে বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়া নতুন কোনো বা মৃতের খবর না এলেও একাধিক মানুষের মৃত্যুর পর তাদের করোনা সন্দেহেভাজন হিসেবে দাফন-কাফনে উঠছে প্রশ্ন। গতকাল রোববার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে এক নারীর মৃতদেহ কবরস্থ করা হয়েছে পূর্ণ সতর্কতার সাথে।

এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানান মহলে। সামাজিক মাধ্যেমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন কেন এই খবরগুলো আমাদের থেকে লুকানো হচ্ছে। আইইডিসিআর গত দুদিন ধরে বলছে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি এবং কারো মৃত্যু হয়নি। তাহলে এই নারীকে করোনা সন্দেহভাজন হিসেবে দাফন করা হচ্ছে কেন?

দাফনের আগে কেন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হচ্ছেন না সে করোনা আক্রান্ত কিনা? কেউ কেউ বলছেন, এতে ফাঁকি দেওয়াটা সহজ। করোনা রোগীকে দাফনের পর পরীক্ষা করে বলবে করোনা হয়নি। কিন্তু দাফনের আগে বললে তো স্বাভাবিকভাবে দাফন করতে হবে, তখন বাস্তবিকই করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে বিপদ হবে। এজন্য পরীক্ষার ফল ঘোষণা পরে করে যাতে সন্দেহভাজন বলে দাফন সেরে নেওয়া যায়। এতে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে।

জানা যায়, ঠাণ্ডা-জ্বর ও সর্দিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মৃত্যু হওয়া ৫০ বছর বয়সী এক নারীকে রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ওই নারী রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।

ভিডিওতে দেখা গেছে যারা ওই নারীর দাফন করেছেন তারা পুরো শরীরেই ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই) পরিহিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে সেই দাফনের একটি ভিডিও ঘুরতে দেখা গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে কবরস্থানের কোনো বাসা থেকে কেউ ভিডিওটি ধারণ করেছে। ভিডিওতে বাসায় অবস্থানরত একজন নারী, পুরুষ এবং একটি শিশুর আওয়াজ পাওয়া যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স করে পাঁচজন ব্যক্তি এসে কবরস্থানের শেষ মাথায় ঝিলপাড়ের প্রান্তে এসে থামে। তাদের প্রত্যেকের পরনে ছিল পিপিই। তারা প্রথম অ্যাম্বুলেন্স থেকে একটি স্ট্রেচারে করে সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ নামান। এরপর কবরস্থানের ইমাম ও উপস্থিত আটজন মিলে জানাজা পড়েন। জানাজা শেষে স্ট্রেচারে করে তারা মৃতদেহটি কবরের কাছে আনেন।

এরপর পিপিই পরা তিনজন মিলে মৃতদেহটি কবরে নামান। কবরে দেহ নামানোর পর মাটি দেওয়া হয়। সব শেষে দাফনে অংশ নেওয়া ওই পাঁচজন কবরস্থানের ঝিলের পাড়ে এসে পিপিই খুলে ফেলেন। পিপিইগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তা নষ্ট করেন তারা।

দাফনের বিষয়ে খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের স্টাফ মো. ফেরদৌস বলেন, দাফনের সময় ওই নারীর স্বামী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন। দাফনের আগে তারা কয়েকজন মিলে জানাজা পড়েন।

ওই নারীর স্বামী জানান, তার স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা এখনো জানা যায়নি। তার স্ত্রী কয়েক দিন ধরেই সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অল্প অল্প অসুস্থ ছিলেন। তবে তারা হাসপাতালে যাননি।

স্বামী জানান, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) জানানো হলে আজ (গতকাল ২৯ মার্চ) রোববার সকালে তাঁদের মোহাম্মদপুরের বাসায় এসে নমুনা নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেই পরীক্ষার ফল আসেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এখন আর পরীক্ষার ফল দিয়ে কী হবে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

/এসএস

মন্তব্য করুন