সবার উপরে মানুষ সত্য

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

গনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এটা একটা প্রচলিত  পদ্ধতি- সমাজের বিশৃঙ্খলা দূর করতে নির্দয়ের সুযোগ রাখা আছে বা প্রাক্টিস আছে। আবার কেতাবে সুন্দর সুন্দর বচনও লেখা থাকে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নাকি জনগনের বন্ধ! তাদের দায়িত্ব জনগনকে সাইজে রাখা, লাইনে রাখা। গুরুত্ব বুঝে লাঠি বের করে জনগনকে ঠ্যাঙ্গায়। আটকায়।

বিশ্বব্যাপী মহামারী চলছে। খোদ আমেরিকায় মহাবিপদ। এক লাখের মতো আক্রান্ত। প্রতিদিন শত শত লোক মারা যাচ্ছে। ইতালী, স্পেন তো মরতে মরতে শেষ। ইংল্যান্ড কঠিন সময় পার করছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় ভুগছে। জার্মান চ্যান্সেলর কোয়ারেনটাইনে। এ তথ্যগুলো তো ভয়ানক। বাংলাদেশের বিবেচনায় আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালা অনেক ভাল রাখছেন। অনেক। আলহামদুলিল্লাহ।

করোনার চিকিৎসা কী? ঔষধ নাই। ম্যালেরিয়ার কিছু ঔষধ নাকি কাজ করছে। এ ছাড়া একাকী রেস্টে থাকা। যারা বৃদ্ধ তাদের দেহে অন্য রোগ থাকলে ভাইরাসটি সহজেই কাবু করে। মৃত্যু ঘটায়। ভাইরাসটি ছোঁয়াচে, তাই সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অর্থাৎ নিজ ঘরে আবদ্ধ থাকতে হবে। কতদিন? দুই সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ লাগে ভাইরাস আক্রান্ত প্রকাশ হতে। ১৪ দিনের মধ্যে কারো দেহে ভাইরাসটি ধরা না পড়লে ফ্রি। স্বাধীন বাংলাদেশ।

সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। একে অপরের সাথে মেশা যাবে না। করমর্দন করা যাবে না। কাছাকাছি থেকে একে অপরের শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া যাবে না। হাত ধরা যাবেনা। দেহের সাথে আক্রান্তদের স্পর্শ লাগলে ভাইরাসটি চলে আসে। আমরা বাংলাদেশী। আইন না মানার জাতি।

সরকার বিলম্বে হলেও কঠোরতা দেখাচ্ছে জনগনের স্বার্থেই। করোনায় ভাইরাস আসায় সবাই কিন্তু নিজ নিজ মৃত্যুর কথা কল্পনা করে ফেলেছে। সহসা মরে যাচ্ছি। মহামারী ব্যাপক আকার ধারন করলে মরনের থাবায় আমরা যে কেউ মরহুম হতে পারি।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লক ডাউন কার্যকর করতে লাঠি চালাচ্ছে। পথে ঘাটে দীর্ঘ লাঠির অসদ্ব্যবহার চলছে। মাইরের নিউজ পেয়ে সবাই ঘরবন্দি থাকছে। মাইর শুরু না হলে বাজার ও রাস্তাঘাটে মানুষ ঠিকই ঘোরাফেরা করতো কাজে বা অকাজে। মাইলের উপর অষুধ নাই, প্রমানিত।

যদিও মার দেয়াটা অসাংবিধানিক। অমানবিক। এখানে সুশীলগিরি খাটেনা।  কিন্তু লোকজনকে ঘরে পাঠাতে মাইর একটা অব্যর্থ ঔষধ। পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

বুকে হাত দিয়ে বলুন তো!  পুলিশের এ মারমুখী এ্যাকশন না হলে লকডাউন কার্যকর হতো?  আরো বলুন, লকডাউন কার্যকর হলে অর্থাৎ ভাইরাসে আদৌ আক্রান্ত না হলে বা সীমিত আকারে হলে সুফল ভোগ করবে কারা? উত্তর হলো- আমরা জনগন।

হায়াত-মৌয়াত আল্লাহর হাতে। সে জন্য কি মরণঘাতী ভাইরাস নিজের দেহে ঢুকায়ে অতঃপর আল্লাহর করুণা চাইতে হবে! এটাকে তাওয়াক্কুল বলেনা। সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একদম।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতার জন্য তারা আলাদা বোনাস পাবেন না। তবে প্রশংসা ও দোয়া পাবেন সকলের, সেটাই তাঁদের পুঁজি। 

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লাঠি নিয়ে ধাওয়া করলেও লোকজন পালায়। সেক্ষেত্রে মাইর দেয় কেন? এর জবাব আমার কাছে নাই। মানুষজন তো ঠেকায় পড়েও বের হয়। তারা বিনা দোষে মার খাবে কেন? এটা ননস্টপ চলতে থাকলে জনগন সরকারকে আরো ঘৃণা করবে।

আমরা বাঙালিরা একটু বেশী অকৃতজ্ঞ জাতি। পুলিশের এ্যাকশনে লোকজন যে ঘরে থেকে পারিবারিক হয়ে গেছে, ভাইরাস থেকে ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে, সেজন্য কিন্তু ধন্যবাদ দিবে না বরং মাইরের ঘটনা ভুলবে না। এটা নিয়া সমালোচনা করতে ভুল করবে না। কিসের ধন্যবাদ? মারছে ক্যা?

মানবজাতির অস্তিত্ব ধরে টান দিয়েছে এ মহামারী। গবেষকরা আগাম বলতেছেন, বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ লোক মারা যাবে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কভিট ১৯ এর কারণে।

সব দেশের সব সরকার জনগনকে বাঁচাতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দিকশূন্য হয়ে আসমানের করুণাপ্রার্থী তারা। দুনিয়াটা থমকে গেছে। যা গত একশো বছরেও ঘটেনি। সারা বিশ্ব অচল এখন। সবাই ইয়া নাফসী ইয়া নাফসী করছে।

এখন নন প্রাক্টিস মুসলিমরা প্রাক্টিসিংদের কাতারে। সমানে আল্লাহ বিল্লাহ করছে। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাদের প্রভুর ইবাদাতে শামিল হচ্ছে। তারাও ধার্মিক হচ্ছে। আকাম কুকামে সময় কাটাচ্ছে না। কোন অপরাধে জড়াচ্ছে না

সারা পৃথিবীতে কোন ক্রাইমের সংবাদ নাই। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর নাই। চুরি ডাকাতি ধর্ষণ বাটপারী লুচ্চামি নাই। সবাই এখন এক কাতারে যেন নামাজে দাঁড়িয়েছে। এ ইস্যুতে বিশ্বের মানুষেরা একটি দলে পরিণত হয়েছে।

মানুষ বাঁচতে চায়। এ পৃথিবীর তারাই ভোক্তা। এ যমীন ছেড়ে  কেউই যেতে চায়না। অবশ্য পাক্কা ঈমানদার মুমিনরা দ্রুত অপার্থিব জীবনে পদার্পন করতে চায়, আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে।

সংস্কৃত পন্ডিত কালীদাস বলেছিলেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।”

লেখকঃ গবেষক ও বিশ্লেষক।

মন্তব্য করুন