অ্যাসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের অমানবিক আচরণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিন বৃদ্ধকে কানে ধরানোর শাস্তি দিয়েছেন যশোরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান। একই সঙ্গে তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার ছবি মোবাইলে ধারণ করেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই। পরে এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

জানা যায়, মাস্ক না পরায় ওই তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিনাটোলা বাজারে অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন দুই বৃদ্ধ। এর মধ্যে একজন বাইসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। অপরজন রাস্তার পাশে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছিলেন। এ সময় তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। এজন্য পুলিশ ওই দুই বৃদ্ধকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে শাস্তি হিসেবে তাদের কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েমা হাসান।

একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই তার মোবাইল ফোনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য ধারণ করেন। পরবর্তীতে আরেক ভ্যানচালককে একইভাবে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েমা হাসানের ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এর আগে বিষয়টি স্বীকার করে মণিরামপুরের সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় তিনি বিব্রত। ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী তিনি।

এমন অমানবিক আচরণ কিভাবে করতে পারেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেই প্রশ্ন তুলছেন সবাই। ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল নেসার আহমেদ ফেসবুকে ওই ছবি সংযুক্ত করে লিখেন,

মানুষরুপী অমানুষের উপযুক্ত বিচার চাই। পিতৃতুল্য বৃদ্ধ মানুষগুলোকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে মোবাইলে ছবি তোলা এটা কোন ধরনের শিক্ষার বহিঃপ্রকাশ তা আমার জানা নেই। ক্যামেরাধারী মহিলাটি হয়তোবা প্রশাসনের কেউ হবেন।

ক্ষমতার বড়াই মানুষকে এতটা নিচু মানসিকতায় নিয়ে যেতে পারে এটা ভাবতেও অবাক লাগে। বয়োবৃদ্ধ এই মানুষগুলো এদেশেরই নাগরিক। কোন কারণে হয়তোবা তারা ভুল করেছেন অথবা আইন লঙ্ঘন করেছেন । তাই বলে এমন শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

ক্যামেরাধারী কর্মকর্তা- মনে রাখা উচিত, আপনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর ট্যাক্সের পয়সায় আপনারা আজ অফিসার হয়েছেন। দামী গাড়ী হাকিয়ে চলেন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করেন, এসি রুমে অফিস করেন। নেমকহারামের এতটা চরম পর্যায়ে পৌঁছা কোন মানুষের আচরণ নয়, বরং আপনার অমানুষ রুপটাকেই প্রকাশ করেছে।

আমি নিশ্চিত আপনি একটি থার্ডক্লাস পরিবার থেকে ভাগ্যক্রমে উঠে এসেছেন। যে কারণে নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, প্রজাতন্ত্রের এই অমানুষগুলোকে উচিৎ শিক্ষা দিতে দেশের অভিভাবক হিসেবে আপনার কাছে ন্যায্য বিচারের প্রত্যাশায় রইলাম।

কালান্তর প্রকাশনীর কর্ণধার আবুল কালাম আজাদ লেখেন, যারা চাকরি করেন, তারা চাকর। এটা কোনো গালি নয়। কিন্তু জনগণের টাকায় যারা সরকারি নামের চাকরি করেন, তাদের চাকর বললে গোস্বা করেন। কেনরে বাবা?

এই চাকরদের অধিকাংশ ইতর, নির্লজ্জ। কোনো কোনোটা পশুর থেকেও নিকৃষ্ট। কিন্তু এদের নিয়ে কিছু বলা যাবে না, এতে নাকি রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়, তাদের মানহানি হয়। আমার টাকার চাকর, আর তাকে কিছু বলতে পারব না? জুতোপেটাও করব প্রয়োজনে। কারণ, যে চাকর রাখে, বেতন দেয়, তার অধিকার আছে শাসন করার।

এই চাকুরেরা আজ হয়ে গেছে রাষ্ট্রের মালিক, দেশের হর্তাকর্তা। গুণ্ডামি করে বাপ-দাদার বয়সি লোকদের সঙ্গে। আজ থেকে এরকম গুণ্ডামি যদি কেউ করে, বসে থাকবেন না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণপিটুনি দেবেন। উলঙ্গ করে রাস্তায় ছেড়ে দেবেন। এরা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর না। এবার থামানোর দরকার।

এ ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য অ্যাক্টিভিস্টরা বিষয়টির প্রতিবাদ করেছেন এবং ওই অ্যাসিল্যান্ডের শাস্তি চেয়েছেন।

মন্তব্য করুন