ব্রিটিশরা কেন তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ছাড়তে বলছে ?

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২০

কিছু সম্ভব্য ভয়!

বাংলাদেশে থাকা ব্রিটিশ দূতাবাসের ভেরিফাইড পেইজ থেকে নিচের দেয়া ছবিটি নেয়া। দেশে সব ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও তারা তাদের রাষ্ট্রিয় চাপে ব্রিটিশ ফ্লাইট এখনো খোলা রাখিয়েছে এবং বাংলাদেশে থাকা তাদের নাগরিকদের তাদের দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য ঘোষণা দিচ্ছে।

অথচ আমাদের থেকে যুক্তরাজ্যের অবস্থাই নাজুক! করোনার মৃত্যু এবং আক্রান্তের কাউন্টে তরা নবম অবস্থানে। প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক! তারা কেন বাংলাদেশ থেকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে চাচ্ছে?

‘ব্রিটিশ’ শব্দটা আমরা বাঙালিরা এক্সট্রা ট্যালেন্টেড শয়তান পোলাপানরে গালি হিসাবে ব্যাবহার করি। তারা বিখ্যাতই দূরদর্শী চিন্তার জন্য। সে হিসাবে তারা কি, বাংলাদেশকে করোনার ইস্যুতে তাদের চাইতেও বিপদজনক দেখছে? বাংলাদেশও কি ইতালির মতো মৃত্যুপল্লি হতে যাচ্ছে?!

  • নেতাগিরি তো শীর্ষে থাকা আমেরিকা, এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে। একদিনের ব্যবধানে সংক্রমণে তারা অন্যান্য রাষ্ট্রের চাইতে ডবল হয়ে গেছে। অথচ তারা আমাদের কাছে সতর্ক এবং মডেল জাতি হিসেবে পরিচিত। ফার্মাসিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে মেড ইন ইতালি এটা খুব পরিচিত নাম এবং কোয়ালিটি ফুল নাম। স্বয়ং তারাই এখন মৃত্যুপুরী।

সেই হিসাবে বাংলাদেশে যদি মহামারী ছড়িয়ে পড়ে আমাদের অবস্থা তো আমরা জানি। সাথে তো ঘনবসতির ব্যাপারটা আছেই। স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে পৃথিবী থেকে বাংলাদেশের নামটাও মুছে যেতে পারে যদি এমন হয়।

আমাদের দেশে প্রায় প্রত্যেক দিনই চার-পাঁচজন করোনা আক্রান্ত নিশ্চিত শনাক্ত করা হচ্ছে। এরা সবাই কিন্তু বিদেশ ফেরত না। বাংলাদেশের মৃত দ্বিতীয় জন আমাদের মিরপুর ১ এর। তার ব্যাপারে যতটুকু জানতে পেরেছি তিনি সংক্রমিত হয়েছেন মসজিদ থেকে। মসজিদের নিয়মিত নামাজ পড়তেন। যাইহোক এই তথ্যগুলো অফিসিয়ালি। অনিশ্চিত আর আনঅফিসিয়ালি তথ্যের ব্যাপারটা না-ই বললাম।

যতটুকু শুনলাম প্রায় সব মসজিদগুলোতে জুমার নামাজে প্রচুর পরিমাণে মুসল্লী হয়েছে। সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। রাস্তায়ও নাকি মানুষ জায়গা পাচ্ছে না। কি আজিব!! অথচ আমাদের দেশের শীর্ষ আলেমরা জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেছে।

শুধু আমাদের দেশ না স্বয়ং দারুল-উলুম-দেওবন্দ, মুফতি তাকি উসমানী এনআরআই স্পষ্ট ফতোয়া দিয়েছেন। তবুও আমাদের মুসলিম জাতির আবেগী ঈমান অনিয়ন্ত্রিত। রাষ্ট্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে, মসজিদ বাদে। এমনিতেই একাত্তর টিভিতে মসজিদে জামাত বন্ধের ব্যাপারে বলায় আমাদের মুসলিম সমাজ ক্ষেপে গিয়েছিলেন।

সরকার হয়তো এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভয় মসজিদের ব্যাপারে করা হতে চাচ্ছেন না। হয়তো মসজিদের ব্যাপারে খুব বেশি শক্ত হলে করোনার চাইতে হরতাল আর অবরোধে হয়তো দেশ বন্ধ হয়ে যাবে।

আজকেও আমার নিকটতম একজন আমাকে বললেন-

করোনার ভয়ে জামাত ত্যাগ করলেন,মসজিদে যাওয়া ছেড়ে দিলেন!কেউ গলায় ছুরি ধরলে তো ঈমানহারা হয়ে যাবেন!!

চিন্তা করেন আমাদের দেশের মানুষগুলো এখনো কিভাবে ভাবছে? আপনি দেশের প্রত্যেকটা মানুষকে কিভাবে বোঝাবেন, যে আপনার জীবনের জন্য মসজিদে যেতে বলতে বারণ করা হচ্ছে না। বরং আপনার জন্য আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে এই জন্যই বন্ধ করা হচ্ছে!

অফিস-আদালত, দোকান, ব্যবসা-বাণিজ্য, যানবাহন সবকিছু বন্ধ রাখলেও এই মুহূর্তে মুসলিম উম্মাহকে যদি জামাত থেকে বিরত না রাখা যায়, এই মুসলিম উম্মাহ খুব দ্রুতই বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের এখনই আরো চিন্তা করা উচিত কিনা। আর এই জায়গাটায় সরকারের চাইতে আলেমদের চিন্তা বেশি কার্যকরী হবে আলেমদের উদ্যোগ বেশি কার্যকরী হবে।

আল্লাহ আমাদেরকে এই গজব থেকে রক্ষা করুক।

লেখক: গাজী সাকিব আহমেদ
অনলাইন এক্টিভিটিষ্ট

মন্তব্য করুন