পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে জনতার গায়ে হাত তোলা নিপিড়ক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

শেখ ফজলুল করীম মারুফ

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিলম্বিত ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ হলেও সহযোগিতা করতে চাই। কোভিড-১৯ সংক্রামন বিস্তাররোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে নিজেদের বিপদের আশংকা উপেক্ষা করে কাজ করছে সেজন্য তাদেরকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের সুরক্ষার জন্য দোয়া করি।

তবে গতকালের কিছু চিত্র আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোথাও কোথাও নাগরিকদেরঙ  লাঠিপেটা করছে বা কানে ধরে ওঠবস করাচ্ছে। এই সংবাদে আমরা বিচলিত বোধ করছি এবং নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই ধরনের আচরন বন্ধ করার দাবী জানাচ্ছি।

কারণ, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। জনগনের রক্তের দিয়ে কেনা হয়েছে এই স্বাধীনতা। আমাদের সংবিধানমতে জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। সরকার, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এই জনগণের হয়েই রাষ্ট্রের কাজ করে। জনতা সেজন্য তাদেরকে বেতন-ভাতাও প্রদান করে। জনগণ কতৃক প্রশাসন কোন অবস্থাতেই জনতার গায়ে হাত তুলতে পারে না।

আইন মাানতে বাধ্য করার নামে বা তথাকথিত “জনতার স্বার্থের” নামে জনতার গায়ে হাত তোলা নিপিড়ক সরকারের বহুদিনের ঘৃণ্য প্রবনতা। সাম্রাজবাদী শাসকরা ও স্বৈরশাসকরা জনতার মনে ভয় ধরানোর জন্য এব্য জনমানসকে হীনমন্য করতে জনতাকে নানা ছলে, কারণে-অকারণে লাটিপেটা করে এবং কানে ধরে ওটবস করানোর মতো লাঞ্চনাকর শাস্তি দেয়। যাতে করে সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও স্বৈরশাসক সম্পর্কে জনতার মনে ভয় জন্ম নেয়। ফলে তারা সাম্রাজ্যবাদ ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই জনতাকে মারধোর করার স্বৈরচারীপন্থা অবলম্বন করে আসছে। সকল ধরনের রাজনৈতিক বাদ-প্রতিবাদ ও ভিন্নমতকে তারা শক্তিপ্রয়োগ করে দমন করেছে। এখন দেখছি, মহামারি প্রতিরোধের মতো মানবিক কাজেও তারা জনতাকে ধাওয়া করছে, লাঠিপেটা করছে।

এর সহজ অর্থ হলো, এই সরকার জনতাকে রাষ্ট্রের মালিক মনর করে না। বরং নিজেদেরকে মালিক মনে করে জনতাকে তাদের দয়ার পোষ্য মনে করে। এজন্যই এভাবে ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে মানুষকে আইন মানায়।

কথা উঠতে পারে যে, নাগরিকদের কারো কারো এই অবাধ বিচরন জনস্বার্থের ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। বৃহৎ স্বার্থে এই লাঠিপেটা দরকার আছে।

সেক্ষেত্রে আমরা বলবো, যারা এমন মনে করেন তারা এখনো পরাধীন মানসিকতা নিয়ে বেঁচে আছেন। মনে রাখবেন, এই জনতাই ১৯৭১ এ এক ঘোষণার মাধ্যমে সম্মুখ সমরে এসে দাড়িয়েছিলো। ইতিহাসে তারা বহুবার রাজনৈতিক নেতৃত্বের চোখের ইশারায় জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তাহলে এখন করছে না কেন? কারণ, মানুষ এখন আর রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিশেষ করে আওয়ামী সরকারকে বিশ্বাস করে না।  আওয়ামী লীগ ও সরকারের দায়িত্বশীলরা এই করোনা নিয়েই এতো এতো অসত্য ও চটুল কথাবার্তা বলেছে যে, মানুষ তাদেরকে নিন্মস্তরের ভাঁড় বৈ কিছু মনে করে না। ফলে তাদের ঘোষণার সাথে সাথেই সকল মানুষ তা মান্য করবে এটা ভাবার কোন যৌক্তিকতা নাই।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।  সরকার দশ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই দশ দিন মানুষ কি করে চলবে, দিনমজুরদের খাবারে কি হবে তার কোন ব্যবস্থা করেনি। ফলে স্বভাবতই মানুষ এনিয়ে চিন্তিত। তাই তারা এই ক্রান্তিকালের আহারের ব্যবস্থা নিয়ে দৌড়ঝাপ করছে। সেজন্য রাস্তায় মানুষ দেখা যাচ্ছে।

এই আহার চিন্তায় ব্যাকুল দিশেহারা মানুষদের লাঠিপেটা করা এবং তাদেরকে কানে ধরে ওঠবস করানো যে কত বড় অমানবিকতা তা কল্পনাও করা যায় না।

এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং সরকারকে বলবো, সাম্রাজ্যবাদী ও স্বৈরাচারী মনোভাব ত্যাগ করে নিজেদেরকে জনতার সেবক ভাবতে শিখুন। এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অসত্য ও চটুল বাক্যালাপ পরিহার করুন।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অব্যহত অসত্য ও চটুল বাক্যালাপ জনতার মনে রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা তৈরী হবে। এতে করে গণনৈরাজ্য তৈরী হবে। আশা করবো, দেশকে গণ নৈরাজ্যর দিকে ঠেলে দেবেন না।

লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট, রাজনীতিবীদ

এই লেখকের আরও লেখা পড়ুন : 

“বাঙ্গালীয়ানা ইসলাম” : মতামত

মাও. মামুনুল হকের ঐক্য আহ্বান; শেখ ফজলুল করীম মারুফের বিশ্লেষণ

ধর্ষণ রাজনীতি; শেখ ফজলুল করীম মারুফ

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ইসলামভিত্তিক সংগঠন: শেখ ফজলুল করীম মারুফ

ইসলামী শরিয়ায় নারী : তরুণ দুই বিশ্লেষকের মতামত

মন্তব্য করুন