৯ এপ্রিল শবে বরাত

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০
শবে বরাত। ছবি : পাবলিক ভয়েস

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রজব মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সে হিসেবে শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে শুরু হবে শাবান মাস গণনা।

আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার (১৪ শা’বান) দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। দিন হিসেবে পরবর্তি শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তথা ১৫ শা’বান হবে বরাতের দিন।

ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাংলাদেশে চাঁদ দেখা কমিটি আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা দেশের কোথাও চাঁদ দেখেনি মর্মে বিবৃতিতে জানিয়েছে।

কোভিড-19 বা করোনাভাইরাসের প্রকোপে এ বছরের শবে বরাতে মসজিদে গমন বা একত্রিত হয়ে পবিত্রতার আবহে তেমন কিছু করার ক্ষেত্রে কিছুটা বিধি-নিষেধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে শবে বরাত একটি পবিত্র রাত। এ রাতে মুসলমানরা ইবাদত বন্দেগী করে কাঁটান। কেউ কেউ এ রাতে সেহরী খেয়ে পরের দিন রোজাও রেখে থাকেন।

শবে বরাতে রোজা রাখা সম্পর্কে মুসলিম স্কলারদের বর্ণনা পড়তে ক্লিক করুন

শবে বরাতের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) শবে বরাতের ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাজি.)-দের যুগেও এ রাতের ফজিলত থেকে উপকৃত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে যুগের লোকেরা এ রাতের ইবাদতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকতেন। সুতরাং এটা ফজিলতপূর্ণ রাত। এ রাতে জাগরণ করা, ইবাদত করা পূণ্য লাভের মাধ্যম এবং এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।

এ রাতে ইবাদতের কোন বিশেষ পদ্ধতি নেই যে, অমুক পদ্ধতিতে ইবাদত করা হবে। কেউ কেউ নিজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করে নিয়েছে, শরীয়তে যার কোনো প্রমাণ নেই। এসব একেবারেই ভিত্তিহীন কথা। নফল ইবাদত তা যেভাবেই হোক আদায় করা যাবে। নফল নামাজ পড়বে। কুরআন তেলাওয়াত করবে। যিকির করবে। তাসবীহ পড়বে। দোয়া পড়বে। এ জাতীয় সকল ইবাদত এ রাতে করা যেতে পারে। কিন্তু এসবের বিশেষ পদ্ধতি নেই।

শবে বরাত করণীয় সম্পর্কে ভারতের বিদগ্ধ আলেম মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী চারটি সংক্ষিপ্ত পন্থা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর ইবাদত করা, কোন হৈ হুল্লোড় না করাসহ এ রাতের ব্যাপরে তিনি ভারসম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা বলেছেন।

শবে বরাত সম্পর্কে আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরীর চারটি করণীয় সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান এ রাত সম্পর্কে বলেন, শবে বরাতের ব্যপারে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হলো, এ রাতের ফজিলত সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সম্মিলিত কোনো রূপ না দিয়ে আর এই রাতকে উদযাপনের বিশেষ কোনো পন্থা উদ্ভাবন না করে বেশি বেশি ইবাদত করা নির্ভরযোগ্য হাদিসে প্রমাণিত।

শবে বরাত সম্পর্কে আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেবের আরও বিশদ বর্ণনা পড়তে ক্লিক করুন

এ ছাড়াও শবে বরাত সম্পর্কে একই মত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বিদগ্ধ আলেম, মারকাযুদ দাওয়ার পরিচালক মুফতী আ. মালেক। তার কাছে শবে বরাত সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করা হলে তিনি কুরআন হাদীসের আলোকে এ রাত সম্পর্কে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন।

মুফতী আবদুল মালেকের কাছে করা পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর পড়ুন

এছাড়াও শবে-বরাত সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন :

শাবান মাস, শবে বরাত : যা করতেন নবীজী (সা.)

শবে বরাতে বাজি ফোটানোর বিরুদ্ধে শিশুদের পদযাত্রা

শবে বরাত সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্য

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন