প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ তহবিলের আবেদন দৌলতদিয়ার যৌণকর্মীদের

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে দৌলতদিয়া পতিতালয়টিতে প্রায় ১,০০০ এর বেশি যৌনকর্মী রয়েছেন, যা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত ১২টি পতিতালয়ের মধ্যে একটি, এবং প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখানে যৌণকর্মীদের নিকট আসা-যাওয়া করে।

করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে যৌণপল্লিতে যে কোন ধরণের যৌণ সংশ্রব এবং মানুষের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

এরপর এই যৌণপল্লীর এক যৌনকর্মী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে পতিতালয়ে যৌণ সংশ্রব’র উপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার পরে গত সোমবার জরুরী তহবিলের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করেছিল।

সরকার গত শুক্রবার থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পতিতালয় বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই দৌলতদিয়ার এই যৌণপল্লিতে এক ধরণের হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। অনেকেই তাদের পরবর্তি বেলার খাবারের বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রশাসন প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি চাল এবং কিছু নগদ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়াত হোসেন জানিয়েছেন, এই সপ্তাহের শেষ দিকে এই সহায়তা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে দৌলতদিয়ায় কর্মরত যৌণকর্মীরা তাত্ক্ষণিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন, হঠাৎ পতিতালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের বা তাদের বাচ্চাদের খাবারের জন্য এখন আর কোনও অর্থ তাদের হাতে নেই বলেও জানিয়েছেন তারা।

তারা বলেন, “আমাদের যদি আগেই জানানো হত, আমরা যতটা সম্ভব অর্থ এবং খাবার সংরক্ষণের চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু এখন, আমাদের অনেককে খাবারের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়তে হচ্ছে। কেউ কেউ বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নেওয়ারও চেষ্টা করতেছে।

প্রায় দুই দশক ধরে যৌণপল্লিতে থাকা কল্পনা বেগম বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকারী সহায়তা প্রয়োজন”।

আল জাজিরা থেকে

আরও পড়ুন : যৌনকর্মী : জানাজার আবেগ নয়, মুক্তির অধিকার দিন

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন