এ যেন ঈদের বাজার, মাইকিং করে নিষেধাজ্ঞার পরও ঠাঁই নেই তিল ধারণের

করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০
সরিষাবাড়ী উপজেলা ২নং পগোলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজারে আজকের সাপ্তাহিক হাট, ছবি: পাবলিক ভয়েস

এ যেন ঈদের বাজার। গ্রামীণ জনপদের মানুষের ভাষায় চাঁন রাতের বাজার। ঈদের আগে ঘুরমুখো মানুষের ভিড় জমে গ্রামে। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার সব জায়গায় অতিরিক্ত লোক সমাগম হয়। আর সেটা যদি হয় ঈদের আগের রাতের কিংবা ঈদের আগের সর্বশেষ সাপ্তাহিক তাহলে বাজারে তিল ধারণের ঠাঁই হয় না।

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায় ২নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজারের এমন জনসমাগমই হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ এর পক্ষ থেকে আগেরদিন মাইকিং করে বাজারে আসতে নিষেধাজ্ঞা জানানোর পরও থামানো যায়নি জনগণের শ্রোত।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে সৃষ্ট বিপর্যয়ের থাবা পড়েছে বাংলাদেশেও। আজ বুধবার পর্যন্ত দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। বিপর্যয় নেমে এসেছে গোটা দেশে।

স্থবিরতা নেমেছে কল-কারখানা, শিল্প-উৎপাদনসহ স্কুল, কলেজ, মাদরাস, ভার্সিটি, অফিস, আদালতসহ সর্বত্র। দেশের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে সাপ্তাহিক হাটের দিনে স্থানীয়দের শঙ্কাহীন উপস্থিতি ঈদের বাজারের রুপ নিয়েছে পগোলদিঘার বয়ড়া বাজার।

কাঁচাবাজার দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়, ছবি: পাবলিক ভয়েস

জানা যায়, পোগলদিঘা ইউনিয়নে সর্ববৃহত বাজার বয়ড়া বাজার। বয়ড়া বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে শনি ও বুধবার। আজকে বুধবার ছিলো বয়ড়া বাজারের নিয়মিত হাটের দিন। করোনাভাইরাসে সৃষ্ট দূর্যোগ পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে হাট বন্ধ থাকার কথা ঘোষণা করা হয়।

স্বং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সামস উদ্দিন নিজে মাইকিং করে ঘোষণা দেন যে, আগামীকাল (আজ বুধবার) বয়ড়া বাজারে হাট বসবে না। করোনা প্রতিরোধে সহযোগিতায় জনগণকে বাজারে না আসার আহ্বান জানান চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন। কিন্তু এলাকাবাসী এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো আজকেও বাজারে এসেছেন দলবেঁধে।

দলবেঁধে বাজারে আসছে লোকজন, ছবি: পাবলিক ভয়েস

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মোঃ সামস উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার আমি নিজে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে বাজারে না আসার জন্য অনুরোধ করেছি। বাজারে পাহাড়া বসিয়েছি। প্রবেশ মুখে গ্রাম পুলিশ নিযুক্ত করেছি যাতে কেউ বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। তারপরও কিছু লোকজন বাজারে এসেছে। শোনার পর আমি বাজারে গিয়েছি। ইউএনও স্যার এসেছিলেন। সবাইকে চলে যেতে নির্দেশনা দেয়ার পর সবাই চলে গেছে।

চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন বলেন, ঢাকা থেকে লোকজন আসছে। ঢাকায় বিভিন্ন কল-কারখানায় প্রচুর লোকজন কাজ করে। তারা বাড়ি এসেছে। অনেকে বুঝতে পারেনি। কিছু লোকজন এসে পড়েছে। কিছু টুকটাক কাঁচাবাজার করেছে। আমরা গিয়ে নিষেধ করেছি।

এ ঘটনার পরবর্তী করণী কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আজকেও মাইকিং করেছি, কালকেও করবো। জনগণকে সচেতন করবো যাতে কেউ ভিড় সমাগম না করে।

স্থানীয় মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আশরাফুল আলম বলেন, গতকাল বিকেলে জরুরি কাজে উপজেলা শহরে গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় হঠাৎ মাইকে চেয়ারম্যান সাহেবের গলা শুনতে পাই। শুনলাম আজকের হাট বন্ধ ঘোষণা করার কথা। আজকে সকালেও দেখেছি বাজারের দুই পাশে গ্রাম পুলিশের টহল। কিন্তু দুপুরের পর পুরো চিত্রটাই বদলে যায়।জনশ্রোত কোনো টহল-পাহাড়ার তোয়াক্কাই করেনি!

কেউ কেউ এসেছেন মাস্ক পড়ে, ছবি: পাবলিক ভয়েস

আশরাফুল আলম জানান, এক গলি সম্পন্ন বিশাল এই বাজারে দুইটা প্রবেশমুখ। কালকে থেকেই দুই প্রবেশ মুখে গ্রাম পুলিশ পাহাড়া ছিলো। কিন্তু এমন কঠিন মূহুর্তের মধ্যে কোনো কিছু তোয়াক্কা না করেই স্থানীয়রা বাজারে আসতে থাকেন। দুপুরের পর পুরো বাজার লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। আমার তো মনে হলো অন্যান্য সময়ের চেয়ে বাজারে আজকে ভিড় বেশিই ছিলো। যেমনটা ঈদের আগে হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পাঠিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম

/এসএস

মন্তব্য করুন