মুক্ত খালেদা ‘দুই বছর দেড়মাস’ পর নিজ বাসায়

করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

দুই বছর এক মাস ১৭ দিন (৭৭৬দিন) পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। খালেদা জিয়াকে বহন করা ঢাকা মেট্রো-ভ ১১-০৬৯২ নিশান প্রোটোল বিকেল পাঁচটায় গুলশানে পৌঁছে।

খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাসপাতাল) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল থেকে ছোটভাই শামীম ইস্কান্দরের জিম্মায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে মুক্তির আদেশের নথি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের হাত ঘুরে বুধবার বিকালে ৩টার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পৌঁছায়। হাসপাতালে মুক্তি প্রক্রিয়া শেষ করার পর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে করে লিফটে নিচে নেমে আসেন।

এদিন প্রথমে খালেদা জিয়া সাজা স্থগিতের আবেদনের ফাইলে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কারা অধিদফতরে পৌঁছায়। পরে জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী সেই চিঠি বিএসএমএমইউতে নিয়ে যান।

এসময় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও হাসপাতালের নার্স এবং আনসার সদস্যরা ছিলেন। ৪টা ২০ মিনিটে তাকে নিয়ে স্বজনরা হাসপাতাল থেকে গুলশানে বেগম জিয়ার ভাড়া বাসা ফিরোজার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

খালেদা জিয়াকে ঢাকা মেট্রো-ভ ১১-০৬৯২ নিশান প্রোটোল গাড়িতে নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পরিবার সদস্যরা বিএসএমএমইউ হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে রওনা দিয়েছেন। সঙ্গে চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঁচটি গাড়ি ও মাইক্রোবাসও রয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্ক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির কথা জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ করে ডাকা সংবাদ সম্মেলন ডাকেন আইনমন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গুলশানের নিজ বাসভবনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বেগম জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, বিদেশে গমন না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কী?

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট কী?

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালেই ছিলেন।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন