মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া: করোনা আতঙ্ক বিবেচনায় সাজা স্থগিত ৬ মাস

করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

শর্ত সাপেক্ষে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্ক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, বিদেশে গমন না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে গিয়েও তিনি চিকিৎসা নিতে পারবেন। তবে তাকে ঢাকার নিজ বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে এবং এই সময় তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে মুক্তি দিলেই এ আদেশ কার্যকর হবে।

গতকাল সোমবার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ৭৫ বছর বয়সোর্ধ্ব খালেদা জিয়ার শিগগির মুক্তি দাবি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

তিনি বলেন, কারাবন্দি এবং বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন আজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে শত শত ডাক্তার এবং নার্স যেখানে প্রতিনিয়ত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি ছাড়া কাজ করছেন এবং হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা করছেন। তারা আবার খালেদা জিয়ারও চিকিৎসা করছেন। সুতরাং যেকোনো সময় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আল্লাহ না করুক ডাক্তার, নার্সসহ খালেদা জিয়ার জীবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে। মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশ কারাবন্দিদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থয় খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষার্থে শিগগির তার মুক্তি দাবি করছি।

মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন বক্তব্যের ঠিক একদিন পরেই সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা জানানো হলো।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সেখানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বছরের ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন।

মাহিন মুহসিন/পাবলিকভয়েস/এসএস

মন্তব্য করুন