করোনা সংকটে দরিদ্রদের জাকাত প্রদান করুন

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০

করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে পুরো পৃথিবী স্থবির হয়ে পড়েছে৷ আমাদের বাংলাদেশও থমকে দাঁড়িয়েছে৷ বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে৷ ছয় কোটির বেশি মানুষ দিন মজুর৷

করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে দরিদ্র লোকেরা৷ চোখের সামনে অন্ধকার ছাড়া তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না৷ চোখের পলকেই আয়ের সামান্য পথ বাধ্য হয়ে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে৷

এ সময় বিত্তবানরা জাকাত আদায়ের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াই৷ কারণ, বছর পূর্ণ না হলেও অগ্রিম জাকাত প্রদানের অনুমতি শরিয়ত আমাদের দিয়ে রেখেছে৷ আপনার জাকাতের কয়েকটি টাকা এ সময় একটি পরিবারের বেঁচে থাকার মাধ্যম হয়ে ওঠবে৷ আসুন, নিজে জাকাত প্রদান করি, অন্যকে উৎসাহ প্রদান করা উচিত।

নামাজের মতো জাকাতও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত৷ কুরআনে অাশির্ধো জায়গায় নামাজ কায়েম করার সাথে সাথে জাকাত প্রদানের কথা বলা হয়েছে৷

কেউ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এবং সে সম্পদ এক বছর তার মালিকানায় থাকলে তার উপর জাকাত ফরজ হয়ে যায়৷

স্বর্ণের হিসাবে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ এবং রৌপ্যের হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মালিক হলে জাকাত ফরজ হয়ে যায়৷ স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্যবসায়িক মালের উপর জাকাত ওয়াজিব হয়৷

কারও কাছে যদি টাকা থাকে, অথবা কিছু স্বর্ণ এবং টাকা থাকে এবং উভয়টি মিলে রুপার নেসাব পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে ওই ব্যক্তির উপর জাকাত ফরজ হয়ে যায়৷

বর্তমানে রুপার বাজার মূল্য সাড়ে নয়শো থেকে এক হাজার দুইশো টাকার মধ্যে উঠানামা করে৷ জাকাতের ক্ষেত্রে সাধারণত জুয়েলারির মূল্যের প্রতি খেয়াল না করে অনেক ফকিহ রুপার বিস্কুটের ভরি হিসেবে মূল্য নির্ধারণ করেন৷ উভয় মূল্য হিসাবে কারও কাছে ৫৫ হাজার টাকা এক বছর পরিমাণ সময় থাকলে তার উপর জাকাত ফরজ হয়ে যায়৷

এ ক্ষেত্রে ধর্তব্য হবে বছরের শুরু এবং শেষ সময়ের৷ মধ্যভাগে কমে গেলে গেলেও সমস্যা নেই তবে বছরের মধ্যখানে সম্পদ যোগ হলে সে সম্পদের আলাদা বছর গণনা করা হবে না, বরং পূর্বের সম্পদের সাথে গণ্য হয়ে বছর শেষে একসাথে জাকাত প্রদান করতে হবে৷

কারও উপর জাকাত ফরজ হলে চল্লিশ টাকায় এক টাকা, আশি টাকায় দুই টাকা, একশো টাকায় আড়াই টাকা জাকাত প্রদান করতে হবে৷ এ হিসাবে কেউ এক লাখ টাকার মালিক হলে তাকে আড়াই হাজার টাকা জাকাত প্রদান করা ফরজ৷

মন্তব্য করুন