বেতনসহ সাময়িকভাবে গার্মেন্টস বন্ধের দাবি

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকের জীবন এবং শিল্প খাত রক্ষায় অবিলম্বে সকল কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা এবং সবেতন ছুটি প্রদানের জন্য সরকার এবং মালিক পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। সংহতির প্রধান তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন বাবু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামা শনিবার (২১ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানায়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য চলতি মাসের পূর্ণ বেতন, যাতায়াত ভাতা, রেশনিংসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘এর মধ্যে সারা বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, এসেছে হল খালির নির্দেশ, নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সভা-সমাবেশ, বাতিল হয়েছে ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ লোক সমাগমের যেকোনো আয়োজন। মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় থমথমে অবস্থা।’ নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে মহামারী প্রাণনাশী ভাইরাস থেকে শ্রমিকের জীবন এবং শিল্প খাতের ভবিষ্যত রক্ষায় দ্রুত কারখানা সাময়িকভাবে সবেতন ছুটি নিশ্চিত করতে সরকার এবং মালিককে ত্বরিৎ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানান। তারা আরো বলেন, বেশির ভাগ কারখানায় নিরাপদে হাত ধোয়া, মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, কোনে বস্তু যেখানে সেখানে স্পর্শ না করা কিংবা বেশি বেশি পানি বা ভিটামিন সি গ্রহণসহ হাইজিন রক্ষার যাবতীয় নিয়ম পালন করার সুযোগ নেই।

শ্রমিকরা কর্মপরিবেশে বাধ্য হয়ে অপরিচ্ছন্ন হাতে মেশিন ও অন্যান্য দ্রব্য স্পর্শ করছেন এবং হাজার মানুষের মাঝে মৃত্যু আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছেন। বিদেশি বায়াররাও কারখানায় আসা-যাওয়া করেন। সাম্প্রতিক করোনার পরিস্থিতিতে এই রোগ ছড়ালে তা এক নিদারুণ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। আরো যুক্ত করেন, মহামারির আতঙ্কে বাজারেও সংকট দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ করে দ্রুত রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।

মন্তব্য করুন