করোনা: আল্লামা তাকী উসমানী ও বেফাক পাকিস্তানের বিশেষ নির্দেশনা (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২০
ইনসেটে বেফাক পাকিস্তানের লিখিত নির্দেশনা

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সরকারি-বেসরকারি সমস্ত প্রতিষ্ঠানে পড়েছে এর বিরুপ প্রভাব। স্বাভাবিক চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপের দিকে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব।

এমন অবস্থায় ধর্মী বিষয়ে বিধি নিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকারী সিদ্ধান্ত মানার ক্ষেত্রে করণীয় কী এ ব্যাপারে গূরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তান দারুল উলুম করাচীর শায়খুল হাদীস, বিশ্ববিখ্যাত আলেম, শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুফতী তাকী উসমানী।

পাকিস্তানের বিখ্যাত দীনী প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুর রশীদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে (JTR Media House Official) এ সংক্রান্ত এক ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের বেফাক বোর্ডও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। ১৪ মার্চ শনিবার ভিডিওটি ইউটিউবে আপলোড করা হয়।

আল্লামা তাকী উসমানীর বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

আজকাল বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কথা শোনা যাচ্ছে। ক্রমেই এর বিস্তৃতি বাড়ছে। একে প্রতিরোধ করার জন্য ও সর্তকতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে।

তবে কেউ কেউ মনে করেন, এক্ষেত্রে পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা ইসলামের তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী। কিন্তু এ কথাটি একেবারেই সঠিক নয়। স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকম পরিস্থিতিতে পূর্ব সতকর্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

যেমন, তাউন বা প্লেগ রোগ কোথাও ছড়িয়ে পড়লে বাহির থেকে কাউকে সেখানে যেতে নিষেধ করেছেন। আর ভিতরের লোককে বাহিরে যেতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা শরীয়তের চাহিদার অন্তর্ভু্ক্ত।

অতএব এ ব্যাপারে সরকার প্রধান বা স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে, তা অনুসরণ করা শুধু উচিত-ই নয়; বরং শরীয়াতের দৃষ্টিতেও জরুরী।

আল্লামা তাকী উসমানী বলেন, অধিক হারে লোক সমাগম হয় এমন কোনো প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে যেহেতু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আংশকা প্রবল, তাই এ মুহূর্তে এমন প্রোগ্রামের আয়োজন না করাই উচিত।

বিয়ে-শাদীর প্রোগ্রাম ছোট পরিসরে করা উচিত। লোক সমাগম যেনো কম হয়। তাছাড়া বিয়ে শাদী ছোট পরিসরে হওয়াই সুন্নাত। বিয়ে শাদীর প্রোগ্রাম এ মুহূর্তে পিছিয়ে দিন অথবা পরিসর ছোট করুন।

জুমা ও অন্যান্য ফরয নামাযের ক্ষেত্রে শুধু ফরজটি মসজিদে পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরো বলেন, সুন্নাত ও নফল নামায ঘরেই আদায় করতে হবে। তাছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায়ও নফল নামায ঘরে পড়াই উত্তম। এমনকি বাসা থেকে বের হতেই অযু করে নিতে হবে। এমনকি জুমা ও অন্যান্য নামাযের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবগণ ক্বেরাত সংক্ষেপ করাই উত্তম হবে।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় থেকে যদি মুসাফাহা না করার পরামর্শ দেয়া হয় তবে সেটাও পালন করা উচিত। মুসাফাহা করবে না। কারণ তা ফরয বা ওয়াজিব নয়। আর যা ফরয বা ওয়াজিব নয়, সেটা এ মুহূর্তে ত্যাগ করতে কোনো সমস্যা নেই।

পূর্বে যা বলা হল তা অনুসরণ করাই ভালো। এতে নিজ ও দেশ সকলেরেই কল্যাণ রয়েছে। এটি শরীয়াহ্ ও নববী নির্দেশনার সম্পূর্ণ অনুকুল। সুতরাং এর উপর আমল করা চাই।

এছাড়াও পাকিস্তান মাদারাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক এক বিশেষ নির্দেশনায় বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া-আস্তাগফার করার পরামর্শ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মানা ও বিয়ে-সাদিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিথিল করার পরমর্শ দেয়া হয়েছে নির্দেশনায়।

আল্লামা তাকী উসমানীর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য

/এসএস

মন্তব্য করুন