ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সর্বোচ্চ নেতৃত্বগুনে উন্নীত একটি দল

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০

যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশিত ‘ইসলামপন্থী রাজনীতি কেন সফল হয় না’ শিরোমানে পলাশ রহমানের লেখার বিশেষ জবাব।

(১)

বিপ্লবের জন্য আনুগত্য একটি আবশ্যকীয় শর্ত। আনুগত্য হলো, নেতা ও দলের নির্দেশ, কৌশল, বক্তব্য ও কর্মসূচিকে দ্বিধাহীন সমর্থন করা ও পালন করা।

যথার্থ আনুগত্যের উপাদান তিনটি।

১. যথা সময়ে নির্দেশ পালন করা।
২. যথা নিয়মে পালন করা
৩. আন্তরিকতার সাথে পালন করা।

একটি শর্তের ব্যত্যয় না ঘটলে আনুগত্য হতে হয় প্রশ্নাতীত ও নিরংকুশ। শর্তটা হলো, কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী না হওয়া। এখানে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার। মুখতালাফ ফিহ মাসয়ালায় যদি নেতা ও সংগঠন জমহুরের খেলাফ মতের ওপরে ভিত্তি করে কোন নির্দেশনা দেয় তাহলে সেটাও প্রশ্নাতীত মান্য করা উচিৎ।

মুখতালাফ ফিহ মাসয়ালা হলো, যে মাসয়ালায় ফুকাহা ও সালাফ থেকে একাধিক মত রয়েছে কিন্তু জমহুরে উলামা বা মাজহাবি সালাফগন বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে একটি রায়ের ওপরে ফতওয়া দিয়েছেন।

এমন মাসয়ালায় যদি ইসলামী বিপ্লবকামী সংগঠনের বিজ্ঞ আলেম নেতৃত্ব সমকালীন বাস্তবতার ভিত্তিতে জমহুর সালাফের মতের বাহিরে অন্য সালাফের মতের ভিত্তিতে ফতওয়া দেন তাহলে সেই ফতওয়াও প্রশ্নাতীত মান্য করা কর্মীদের জন্য আবশ্যক।

বারবার “প্রশ্নাতীত” শব্দ ব্যবহার করছি। কারণ হলো, কোন নেতা বা সংগঠনের প্রতিটি কৌশল, কার্যক্রম, বক্তব্য ও বিবৃতিকে যদি কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এবং সেই সংগঠন ও নেতাকে যদি সেই কৌশল, কার্যক্রম ও বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয় তাহলে কোন সংগঠন পরিচালনা করা ও সংগঠনকে গতিশীল করা সম্ভব না।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, তাহলে কি অন্ধ আনুগত্য করবো?

এখানে একটা বিষয় বুঝতে হবে। আপনি কোন সংগঠন করবেন বা কাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবেন সেটা আপনাকে বিচার বিবেচনা করে যুক্তি-তর্কের আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু কোন সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে বা কাউকে নেতা মেনে নেয়ার পরে তার সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও কৌশল নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তোলা যায় না। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে,

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥﴾ [النساء: ٦٥]

“আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার ওপর অর্পণ না করে। অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫]

এর যৌক্তিক কারণও আছে। সংগঠন ও নেতাকে যদি প্রতি পদে পদে সিদ্ধান্ত, কৌশল ও যৌক্তিকতার ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয় তাহলে পথচলা কঠিন হয়ে যাবে।

হ্যা! তার মানে এই নয় যে, সংগঠনে স্বৈরতন্ত্র চলবে। বরং ইসলামের প্রকৃত অনুসারী যে কোন নেতা ও সংগঠনই সিদ্ধান্ত, কৌশল ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে পরামর্শ করে নেয়। যদি সংগঠন ও নেতার প্রতি আপনার এই আস্থা না থাকে তাহলে সেই সংগঠন আপনার না করাই উচিৎ। আর যদি আস্থা থাকে তাহলে কোন প্রশ্নই তোলা উচিৎ না। বরং বুঝে আসুক আর না আসুক সংগঠন ও নেতার সিদ্ধান্ত, কৌশল ও বক্তব্যকে প্রশ্নাতীত সমর্থন করা উচিৎ।

মনে রাখা ভালো যে, পরামর্শ বিহীন সংগঠন চললে সেই সংগঠনে স্থবিরতা আসে। আবার বেশি বেশি পরামর্শ দিলে ও প্রশ্ন করলে নৈরাজ্য তৈরি হয়। স্থবিরতা ও নৈরাজ্যের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয়।

(২)

উপযুক্ত ভুমিকা বোঝার পরে আরেকটি ভুমিকা বোঝা দরকার।

সুফিবাদ ও ‘পীর সংস্কৃতি’ নিয়ে বাংলাদেশে একধরনের মুর্খতা আছে। বাংলাদেশে এই মুর্খতার সূচনা হয়েছে পাকিস্তানের একজন বিখ্যাত তাত্ত্বিক ইসলামী চিন্তকের সুফি ও পীর সম্পর্কিত ভুল লেখনি থেকে। তিনি নির্দিষ্ট কিছু সুফি ও পীরদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে, সুফি ও পীরগন সমাজবিমুখ, আরামপ্রিয়, জাহেলিয়াতের নিরব সমর্থক এবং ইসলামের রাজনৈতিক আবেদন সম্পর্কে উদাসিন।

তার এই ভুল সিদ্ধান্তের মুল কারণ হলো, তিনি Research Sample বা গবেষণার নমুনা বাছাইয়ে কোন স্বীকৃত পদ্ধতির অনুসরন না করে তার জানা-শোনার মধ্য থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এবং গুটিকয়েক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তকে Generalize বা বিশ্বজনীন করেছেন।

গবেষণার রীতি অনুসারে এটা একবারেই ভুল একটি গবেষণা। তারপরেও তার এদেশীয় অনুসারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশেও সুফি ও ‘পীর সংস্কৃতি’ সম্পর্কে এই মুর্খতা ছড়িয়েছে যে, সুফি ও পীরগন সমাজ বিমুখ, আরামপ্রিয়, রাজার হালে থাকা ভোগবাদী মানুষ ও ইসলামের রাজনৈতিক আবেদন সম্পর্কে উদাসিন মানুষ।

এটা নিরেট মুর্খতা ছাড়া কিছু না। আপনি বাংলাদেশের যত পীর ও সুফিদের মাজার আছে তাদের সম্পর্কে একটু খোজ নিলেই জানতে পারবেন যে, তারা সবাই ছিলেন সামাজিক কর্মকান্ডের মুল কেন্দ্র, প্রত্যেকেই বিপ্লবী এবং প্রত্যেকেই একেকজন সংগ্রামী জননেতা।

শাহজালাল, শাহ মাখদুম, শাহ আমানত, শাহ জালাল, হাজী শরিয়ত উল্লাহ, দুদু মিয়াসহ আরো যত নাম আপনি খুজে পাবেন তাদের সম্পর্কে খোজ নিয়ে দেখেন, তারা সবাই একেকজন বিপ্লবী ও সংগ্রামী জননেতা। তারা মানুষের মধ্যে থেকে মানুষকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রিচার্ড ইটনের বিখ্যাত বই ‘বাংলাদেশে ইসলাম’ ও বাঙ্গালী জাতিসত্ত্বার ইতিহাস নিয়ে লিখিত যেকোন গ্রন্থেও আপনি এর প্রমান পাবেন।

কিন্তু একদল মুর্খ পাকিস্তানি সেই চিন্তকের ভুল থিসিসের ওপরে ভিত্তি করে বাংলাদেশের ‘পীর সংস্কৃতি’ নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করে এবং বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভবনাময় সুফি ধারার নেতৃত্ব সম্পর্কে মুর্খতা উগড়ে দেয়।

(৩)

উপর্যুক্ত দুই ভুমিকা বোঝার পরে কথা হলো, বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে উদীয়মান ও সম্ভবনাময় সুফি ধারা এবং ইসলামের ঐতিহবাহী, স্বীকৃত ও স্থানিক বয়ানের অনুসারী ইসলামপন্থী সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও তার নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি দল “ধীর প্রক্রিয়ায়” (Slow poisoning) অনাস্থা তৈরি করছে এবং কর্মীদের মাঝে নৈরাজ্য তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এরা ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের চরিত্র সম্পর্কে ইউরোপ আমেরিকার ‘প্রাচ্যবিদ’ ( Orientalist) থেকে ধারনা নিয়েছে। এরা জানে যে, ইসলামপন্থীদেরকে সরাসরি আঘাত করে উদ্দেশ্য হাসিল করা যায় না। বরং “ধীর প্রক্রিয়া” য় এগুলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাই এরা ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে খানিকটা প্রশংসা করে নিয়ে এই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে ভুল-ভাল তথ্য ও তত্ত্ব দিয়ে অনাস্থা তৈরি করে।

প্রাচ্যবিদরাও ইসলাম সম্পর্কে একই কাজ করে। তারা বড় বড় জ্ঞানগর্ভ সব তাফসির ও সিরাত গ্রন্থ রচনা করেছে। সেগুলোর ৮০-৯০% ভালো কথা কিন্তু মাত্র ২০-১০% জায়গায় ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ সঃ সম্পর্কে এমনসব মন্তব্য করা হয়েছে যার মাধ্যমে ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ সঃ সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি হয়।

এরাও ঠিক তাই করে। শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্পর্কে চমৎকার কিছু প্রশংসা করে। তারপরে এই সংগঠনের প্রাণকেন্দ্র মুহতারাম আমীর, মুহতারাম শায়খে চরমোনাই, মুহতারাম মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে মিথ্যা, অজ্ঞতা এবং ভুল তথ্য, তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা দিয়ে সংগঠনের প্রাণকেন্দ্র সম্পর্কে কর্মীদের মনে অনাস্থা তৈরি করে।

জনাব পলাশ রহমানকে আমার এই দলের মুখপাত্র বলে মনে হয়। তার সবগুলো লেখা প্রাচ্যবিদদের আদলে লিখিত। কিছুটা প্রশংসা করে নেতৃত্ব সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি করার অপচেষ্টা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে (যদিও এটা প্রবন্ধের মানোত্তীর্ণ না) একই ধরনের আরেকটি অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

তার লেখার জবাব লিখতে গিয়ে মনে হলো, এগুলোর জবাব না দিয়ে বরং এই ধরনের লেখার পেছনের ধূর্তামিটা সামনে নিয়ে আসা দরকার।  তাই এই লেখার অবতারনা।

এই চক্র ইউরোপ-আমেরিকার অশুভ প্রাচ্যবিদদের আরেকটি কৌশলও প্রয়োগ করে। সেটা হলো, তাদের দুরভিসন্ধিমূলক লেখার কোন প্রতিবাদ করলেই এরা “সহনশীলতা, সমালোচনা সহ্য করা ও উদারতার বয়ান” সামনে নিয়ে আসে। এবং তাদের দুরভিসন্ধির প্রতিবাদকে উগ্রতা, দলান্ধতা ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করে।

(৪)

ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কিত সকলকে বলবো, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই পর্যন্ত হাওয়া খেতে খেতে আসেনি। প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা, আলোচনা ও আত্মসমালোচনা করা এবং সমকালকে অনুধাবন করা ও সমকালের কৌশল রপ্ত করার নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে এসেছে।

হ্যা! যেহেতু এখনো ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা হয় নি তাই একথা স্বীকার করতেই হবে যে, আমাদের কৌশলে, তৎপরতায় ও আত্মনিবেদনে ঘাটতি আছে।

কিন্তু সেটা পুরনের জন্য এবং নিজেদের সমস্যা পর্যালোচনার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিজস্ব সক্রিয় ও মজবুত  mechanism বা প্রক্রিয়া রয়েছে। একজন কর্মী হিসেবে আপনাকে সংগঠনের সেই প্রক্রিয়া বা mechanism এর ওপরে পুর্ন আস্থা রাখা উচিৎ। বাহিরের কারো থেকে আসা ভিতরকার সমালোচনা ও পর্যালোচনাকে চোখ বন্ধ করে প্রত্যাখ্যান করা উচিৎ।

হ্যা! বাহির থেকে আমাদের কৌশল ও নেতৃত্ব সম্পর্কে নানা তীর্যক সমালোচনা আসতে পারে। কিন্তু সেটাকে সেই তীর্যকভাবেই দেখা উচিৎ। বাহির থেকে আসা তীর্যক সমালোচনাকে ‘আত্মসমালোচনা’ বলে গ্রহণ করার প্রবনতা বিপদজনক।

এখানে জেনে রাখা ভালো যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দ্বৈত নেতৃত্বে চলে না বরং মুহতারাম আমীরের নেতৃত্বে পরামর্শ ভিত্তিক চলে। আমাদের মুহতারাম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় আমেলা সুদক্ষ রাজনৈতিক না হলে এই সংগঠন এতো বাঁধা বিপত্তি এড়িয়ে রাজনীতিতে আজকের অবস্থানে আসতে পারতো না।

আমাদের নেতৃবৃন্দের নামের শুরুতে আমরা কোন লকব ব্যবহার করবো সেটা একান্তই আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। শুধু এতটুকুই বলি, রাজনীতিতে Figure বা ব্যক্তিত্ব তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আর ‘পীর সংস্কৃতি’ ও মুহতারাম শায়খে চরমোনাই নিয়ে যা বলা হয়েছে তা নিখাদ মুর্খতাসুলভ মিথ্যা প্রপাগান্ডা। এর জবাব দেয়ার মতো রুচি নেই।

যাইহোক! কর্মীদের বলবো, সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতি পুর্ণ আস্থাশীল হোন। এবং প্রশ্নাতীতভাবে সংগঠন ও নেতৃত্বের বক্তব্য, কৌশল ও কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ব্যাক্ত করুন এবং নিরংকুশ আনুগত্য করুন।

প্রচেষ্টা আমাদের, বিজয় আল্লাহ তায়ালার। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

লেখক : শেখ ফজলুল করীম মারুফ। রাজনৈতিক, লেখক, বিশ্লেষক।

আরও পড়ুন : ইসলামী আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন ও গাজী আতাউর রহমানের বিশ্লেষণ

পাঠকের সুবিধার্থে যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশিত পলাশ রহমানের লেখাটিও এখানে সংযুক্ত করে দেওয়া হলো :

গত কয়েক বছর থেকে একটি বিষয় খেয়াল করছি, দেশে এক একটি নির্বাচন হয় এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলোচনায় উঠে আসে। সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করে। আলাদাভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ঢাকার সিটি নির্বাচনের পরেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। দুটি লিডিং পত্রিকাসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্থান এবং চোখে পড়ার মতো ভোট সংগ্রহ বিষয়ে বড় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে দুটি কথা বলার চেষ্টা করেছে, ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্থান বা উল্লেখ করার মতো ভোট পাওয়ার প্রধান কারণ হলো সরকারের আনুকুল্যে থাকা এবং জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির মাঠে না থাকা।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনকে সরকার সব সময় রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসছে। ভোটের মাঠে বিএনপি বা অন্য দলের প্রার্থীদের প্রচারনা সরকারপক্ষ সহ্য না করলেও ইসলামী আন্দোলনকে তেমন কোনো বাঁধার মুখে পড়তে হয় না। তারা বেশ জোর দিয়ে হাতপাখার প্রচারণা করতে পারেন।

অপর দিকে ভোটের মাঠে বা দেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান অন্য কোনো ইসলামী দল নেই। যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে।

ইসলামপন্থী অন্যান্য ছোট দলগুলো ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার বাসনায় নির্বাচনী জোট বেধেছে বড় দুই দলের সঙ্গে। যা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বরাবরই এসব কথা বা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন হঠাৎ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এই দলের প্রাপ্ত ভোটও হঠাৎ করে আসেনি বা কারো দয়ার ফসল নয়।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন তিন দশক ধরে ধারাবাহিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে আসছে। জনআস্থা অর্জন করতে পেরেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর প্রাপ্ত ভোট তারই প্রতিফলন।

আতাউর রহমান বলেন, যদিও এসব ভোটফল দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না। কারণ কেয়ারটেকার সরকারের পরে দেশের আর কোনো নির্বাচনে জনগণ স্বাধীন ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এসব নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি।

তিনি বলেন, ঢাকার মিডিয়াগুলো ইসলামপন্থীদের ছোট বড় কোনো অর্জনকেই পজেটিভভাবে উপস্থাপন করতে চায় না। তারা ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং ভোটপ্রাপ্তির কৃতিত্ব কখনোই এর নেতৃত্বকে দেয় না। তিন দশকের রাজনীতির স্বীকৃতি দেয় না। কৌশলে সকল অর্জন ভিন্ন পথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে, যা খুবই দুঃখজনক।

সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান বলেন, আমরা জানি- যতোদিন ইসলামী আন্দোলন আওয়ামীলীগ বা বিএনপির সঙ্গে জোটের রাজনীতিতে নাম না লেখাবে ততদিন এসব কটুকথা, অপবাদ সহ্য করতে হবে। একপক্ষ আমাদের ললাটে অন্যপক্ষের তকমা লাগাবে। মিডিয়াগুলো সঠিক মূল্যায়ন করবে না। আমাদের অর্জনগুলো অন্যপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করবে।

তবে একটা কথা খুব পরিস্কার করে বলতে চাই- অন্যকারো চাপে বা দুই একজন মন্ত্রী এমপির লোভে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক স্ট্রাটেজি পরিবর্তন করবে না।

দুই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এর নেতৃত্ব দিয়েছেন চরমোনাইর মরহুম পীর সাহেব সৈয়দ ফজলুল করিম। তার অবর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি ইসলামী আন্দোলনের আমির এবং চরমোনাই তরিকার বর্তমান পীর।

সৈয়দ রেজাউল করিমের আরেক ভাই সৈয়দ ফয়জুল করিমও এই দলের এবং তরিকার গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির এবং তরিকা অর্থাৎ বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটিরও নায়েবে আমির। ইদানিং তার নামের সঙ্গে ‘শায়েখ চরমোনাই’ লিখতে দেখা যায়। কিছু দিন আগে লেখা হতো ‘পীরে কামেল চরমোনাই’।

সৈয়দ রেজাউল করিম রাজনৈতিক দলের আমির এবং ধর্মীয় তরিকার পীর হলেও দৃশ্যত এগুলো চলছে দ্বৈত নেতৃত্বে। ক্ষেত্রবিশেষ দলের আমির থেকে নায়েবে আমিরকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। দলের নেতাকর্মীদেরও নায়েবে আমিরকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

বিশেষ করে রাজনীতির মাঠে সৈয়দ ফয়জুল করিম এখন একজন পরিচিত এবং আলোচিত মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তার গর্জে উঠা, হুংকার দেয়া সচেতন মহলে আলোচিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন দেশের জাতীয় নির্বাচন বা অন্য কোনো নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপির সঙ্গে জোট করে না। অতীতে তারা ইসলামি ঐক্যজোট নামে ইসলামপন্থী দলগুলোর জোটে ছিল। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করে।

এসব জোটের অভিজ্ঞতা এবং দেশের ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে তারা ২০০৬ সালের পরে থেকে একলা চলার নীতি গ্রহণ করে।

এ দলের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বলার চেষ্টা করেন, আওয়ামীলীগ বিএনপি তাদের দৃষ্টিতে আলাদা কিছু নয়। দল দুটির সর্বশক্তি, মেধা এবং কৌশল ব্যায় হয় একে অপরকে পরাজিত করার জন্য। দেশের উন্নয়নে তাদের কোনো কৌশল নেই। জাতীর উন্নয়নে তাদের মেধা কাজ করে না।

সুতরাং এসব দলের সঙ্গে জোট করে হয়তো ক্ষমতায় স্বাদ গ্রহণ করা যাবে, কিন্তু দেশের এবং মানুষের কোনো উপকার হবে না।

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলেন, তারা দেশের ইসলামপন্থী শক্তিকে অন্য কারো ক্ষমতার সিড়ি হতে দিতে চান না। তারা চান রাজনীতিতে ইসলামপন্থীরা স্বতন্ত্ররুপে প্রতিষ্ঠিত হোক।

তারা বলার চেষ্টা করেন, জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির সঙ্গে জোট করে দীর্ঘ দিন রাজনীতি করেছে, এতে ইসলাম বা ইসলামপন্থীদের কী উপকার হয়েছে?

বরং ইসলামপন্থীরা যে রাজনীতিতে স্বতন্ত্র একটা ধারা তা দেশের জনগণ ভুলে গেছে। সাধারণ মানুষ ইসলামি ধারা এবং প্রচলিত ধারাকে এখন আর আলাদা করতে পারে না। এ দায় তথাকথিত জোট রাজনীতির।

তিন

বাংলাদেশের পীর সংস্কৃতির সঙ্গে যারা পরিচিত তারা সবাই জানেন একজন পীর মানে একজন ছোটখাট রাজা। সম্পদে সম্মানে তারা রাজার মতোই জীবন যাপন করেন। সাধারণত তারা এত বেশি আরামপ্রিয় হন যে আরামকেদারায় বসে এক ঘন্টার ওয়াজ করার সময়ও তাদের পায়ের নিচে নরম তুলতুলে বালিশ দিতে হয়।

পীররা সাধারণত ভক্ত মুরিদদের সেবা যত্ম বা সালাম শ্রদ্ধা পেয়ে অভ্যস্ত হন। তাদের ছেলে মেয়েরাও একই পরিমন্ডলে বড় হয়। তারাও ছোট বেলা থেকে নিজেদেরকে ভক্তি শ্রদ্ধার পাত্র ভাবতে শেখেন। অঢেল সম্পদের মধ্যে বড় হন।

তাদের মধ্যে এক ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন মানসিকতার জন্ম হয় ছোট কাল থেকে। সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে তারা নিজেদের আলাদা ভাবতে শেখেন। তারা নিজেদের উচু চেয়ারের মানুষ ভাবতে শেখেন। সুতরাং তাদের দারা রাজনীতি করা, জনতার সেবা করা, জননেতা হওয়া খুব একটা সহজ হয় না।

যেমন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করিম। তাকে দেশের ইসলামপন্থীরা নতুন নেতা হিসাবে মেনে নিতে শুরু করেছিল। তাকে সামনে রেখে মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। কিন্তু তিনি সেই জায়গায় যেতে পারছেন না। জনতার চাহিদা পুরণ করতে পারছেন না।

কিছু কিছু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করে, গর্জে উঠা বক্তৃতা করে আলোচনায় আসতে পারলেও সত্যিকারার্থে জননেতা হতে পারছেন না। বারবার সেখান থেকে সরে যাচ্ছেন।

বাস্তবে জননেতা হতে হলে জনগণের মধ্যে থাকতে হয়। জনগণের ভেতর থেকে উঠে আসতে হয়। নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর একজন নেতার মধ্যেও এই গুন দেখা যায় না।

তারা সহজ করে জনগণের সঙ্গে মিশতে পারেন না। সুবিধা অসুবিধায় জনগণ তাদের পাশে পায় না।

বাংলাদেশে একজনও ইসলামপন্থী নেতা পাওয়া যাবে না যার বাসায় প্রতিদিন দুই একশ নেতাকর্মী পেট ভরে ভাত খেতে পারে। এমন একজন নেতাও পাওয়া যাবে না যার দুয়ার নেতাকর্মীদের জন্য সব সময় খোলা থাকে।

গ্রামের অসুস্থ, অসহায় সাহায্য প্রত্যাশীরা বিনাভয়ে নেতার বাড়ি যেতে পারে, থাকতে পারে বা সহযোগিতা পেতে পারে।

কারন একটাই- তাদের বেড়ে ওঠা, তাদের পরিমণ্ডল কখনোই জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা নিজেদের জনগণের অংশ ভাবতে পারেন না। তারা সব সময় পেয়ে অভ্যস্ত হন, দিয়ে নয়।

ইসলামী আন্দোলনের প্রধান দুই নেতা সারা বছর ওয়াজ মাহফিল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নিয়মিত ঢাকায় থাকেন না। ঢাকায় তাদের কোনো ঠিকানা নেই যেখানে নেতাকর্মীরা সুবিধায় অসুবিধায় ছুটে যেতে পারে। প্রয়োজনে সহযোগিতা পেতে পারে। তাদের দলের মহাসচিবও কোনো বিচক্ষণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত নন।

ধর্মীয় ইস্যুভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক গ্যাদারিং ছাড়া জনগণের কাতারে তাদের দেখা মেলে না। তারা যা করেন তাকে বড় জোর শ্রেণী সংগ্রাম বলা যেতে পারে, জনগণের রাজনীতি নয়।

জননেতা হতে হলে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে জনতার মাঝে থাকতে হবে। নিয়মিত রাজনৈতিক অফিসে বসতে হবে। রাজনীতির মূল শ্রোতে, মিডিয়ার সঙ্গে, কূটনৈতিক পাড়ায় যোগাযোগ বাড়াতে হবে। নেতাকর্মীর কাছে উচু চেয়ারের মানুষ না হয়ে সহজ হতে হবে। তারা যেনো বিশ্বাস করে বিপদের সময় নেতাকে পাশে পাবে। তারা যেনো নেতাকে ‘ভাই’ ভাবতে পারে।

ইসলামী আন্দোলনের জন্য সব থেকে বড় সম্ভবনা হলো ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক কারনে দেশের প্রান্তিক মানুষ বা মেহনতি মানুষের মধ্যে দলটির জনপ্রিয়তা আছে। কিন্তু তারা এটাকে সঠক ভাবে কাজে লাগাতে পারছে না।

ঢাকায় তারা বড় কোনো শ্রমিক সমাবেশ করে না। সুখে দুঃখে শ্রমিক শ্রেণির পাশে তাদের দেখা যায় না। অথচ তারা যদি প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন জোরদার করতো তবে স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মাঠে আরো ভালো করতে পারতো।

সৈয়দ ফয়জুল করিম তার নির্বাচনী এলাকায় ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বড় করে, বর্ণাঢ্য করে পালন করেন। কিন্তু ঢাকায় তেমন কোনো কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায় না। গতানুগতিক ধারার বাইরে মানুষের দৃষ্টি কাড়ার মতো আলাদা কোনো কর্মসূচি থাকে না।

তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় শীতের কম্বল বিলান, কিন্তু ঢাকায় তাকে দেখা যায় না। ঢাকার রাজনীতি তাদের কাছে সব সময় উপেক্ষিত। কারন হতে পারে ঢাকায় রাজনীতি করতে হলে পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। আর সারা দেশে ওয়াজ মাহফিল করলে নগদ ইনকাম হয়।

অথচ ইসলামী আন্দোলনের দুই নেতার একজন সব সময় ঢাকায় থাকতে পারতেন। ফুলটাইম রাজনীতি করতে পারতেন। অন্যজন দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিল করে তরিকা ঠিক রাখতে পারতেন। মানুষের কাছে দীনের দাওয়াত পৌছে দিতে পারতেন।

কিন্তু তারা তা করেন না। বরং নিজেরা পরিচয় সংকটে ভোগেন। কদিন লেখেন পীরে কামেল, আবার লেখেন শায়েখ চরমোনাই। অর্থাৎ কোন পরিচয়ে থিতু হবেন তা’ই ঠিক করতে পারেন না।

দেশের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, কেনো তিনি শায়েখ বা কামেল হতে চান? দলের নায়েবে আমির বা তরিকার নায়েবে আমির বা খলিফা পরিচয়কে তিনি যথেষ্ঠ মনে করতে পারেন না কেনো?

শায়েখ মানে তো সর্বোচ্চ মুরব্বি। তিনি কী তবে পীর বা আমির থেকেও বড়? কেনো তারা জুমার নামাজের ইমামতি নিয়ে ঠ্যালাঠেলি করেন? এর দারা কী বার্তা যায় সাধারণ মানুষের কাছে?

দেশের রাজনীতি, জনগণের রাজনীতি করতে হলে উচু চেয়ার ছেড়ে জনগণের কাতারে নেমে আসুন। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করুন। নেতাকর্মীদের অর্থাৎ দেশের মানুষকে ভালোবাসুন। সুখে দুঃখে তাদের পাশে থাকুন। দেখবেন সংবাদ মাধ্যমগুলো আপনাদের কৃতিত্ব না দিলেও দেশের জনগণ দিতে একতিল কারপণ্য করবে না।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক ও ধর্মীয় রাজনীতি বিশ্লেষক

[পাবলিক ভয়েসের মতামত বিভাগে প্রকাশিত যে কোনো লেখার দায় লেখকের নিজের। পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদ এ লেখার দায় গ্রহণ করে না। তাই এই লেখার জন্য পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদকে দায়ী করবেন না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদের নীতির সাথে অসামঞ্জস্য লেখাও এখানে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কেবল ধর্ম এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা প্রকাশ করা হয় না। চাইলে আপনিও তথ্য বা যুক্তিসমৃদ্ধ লেখা এখানে পাঠাতে পারেন।]

সংশ্লিষ্ট আরও লেখা পড়ুন :

একঝাঁক সৈয়দ বেলায়েত, সিদ্দিকী, মিছবাহ ও নেছার উদ্দিন চাই!

ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াতী মাস এবং চরমোনাইর মাহফিল

সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : দলের প্রতি ১২ টি প্রশ্ন

হালজমানার ওয়াজ ও জামায়াত প্রসঙ্গ

গাজী আতাউর রহমানরা কেনো পিছিয়ে থাকবেন!

মন্তব্য করুন