জেনে নিন চরমোনাই মাহফিলে কখন কী কার্যক্রম পরিচালিত হবে

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

আগামিকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিল। তিন দিন ব্যাপী এই মাহফিলে রয়েছে বিশেষ কিছু রুটিন কার্যক্রম। তারিখ অনুসারে কার্যক্রমসমূহ বর্ণনা করা হলো।

২৬ ফেব্রুয়ারি, বুধবার : আনুষ্ঠানিক ভাবে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হবে বা’দ জোহর আমীরুল মুজাহিদিন মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এর উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে। এর আগে জোহরের নামাজের পূর্বে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের কর্মশালা এবং তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বা’দ জোহর পীর সাহেব চরমোনাই কর্তৃক দেড় থেকে দুই ঘন্টা উদ্বোধনী বয়ান ও মাহফিলের দিক নির্দেশনা প্রদানের পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে সারাদেশ থেকে আগত বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামগণ আলোচনা পেশ করবেন। আছরের নামাজের পরও এই আলোচনা চলমান থাকবে।

চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিল বিষয়ক জরুরী নির্দেশনা

মাগরিবের পর শুরু হবে মূল বয়ান। পীর সাহেব চরমোনাই মাগরিবের পর প্রথম হেদায়াতি বয়ান দেবেন। বয়ানের সময় পুরো মাহফিল জুড়ে কোথাও কোন চলাফেরা এবং রাস্তাঘাট দোকানপাট খোলা থাকবে না। দেড় থেকে দু ঘন্টা বয়ানের পর জিকিরের মাধ্যমে মুনাজাতের সাথে বয়ান শেষ হবে।

এরপর রাত ১০ টা পর্যন্ত আমন্ত্রিত বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামদের ধারাবাহিক বয়ান চলমান থাকবে। যেখানে বিদেশী মেহমান থেকে শুরু করে দেশসেরা ওলামায়ে কেরামরা উপস্থিত থাকবেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার : রাত ৪ টা থেকেই মাহফিলের মাইক চালু হবে এবং তাহাজ্জুদের জন্য সবাইকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। তাহাজ্জুদের পর ফজরের নামাজ পর্যন্ত তেলাওয়াত এবং ব্যক্তিগত আমল করবেন মুসুল্লিরা।

বা’দ ফজর পূনরায় পীর সাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম দ্বিতীয় বয়ান করবেন। আধ্মাতিকতা এবং জিকিরের ফযিলতসহ কোরআন হাদিসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি চরমোনাই তরিকার নিয়ম অনুসারে আলোচনা করবেন। দেড় দু ঘন্টা আলোচনা জিকির এবং মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।

ফজরের বয়ান শেষ হওয়ার পর সকাল দশটা পর্যন্ত খিত্তা-ভিত্তিক আমল এবং নামাজের প্রশিক্ষণ, কুরআন তেলাওয়াত মশক করানোসহ দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল আলোচনা করা হবে।

সকাল ১০ টার পর থেকে শুরু হবে মাহফিলের দ্বিতীয় রুটিন কার্যক্রম। অনুমতি সাপেক্ষে সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ইসলামী যুব আন্দোলনের ব্যবস্থাপনায় ‘যুব জমায়েত’ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ টা থেকে জোহর পর্যন্ত ‘জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ওলামায়ে কেরামগণ উপস্থিত থাকবেন।

জোহরের নামাজের পর থেকে আছরের নামাজ পর্যন্ত এবং আছরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ওলামায়ে কেরামদের আলোচনা চলবে।

দ্বিতীয় দিনের মাগরিবের নামাজের পর চরমোনাই মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ নায়েবে আমীরুল মুজাহিদিন মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীমের প্রথম বয়ান। তিনি দেড় থেকে দু ঘন্টা সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর জিকির এবং মুনাজাতের মাধ্যমে তিনি বয়ান শেষ করবেন।

এরপর পূর্বের ন্যায় ধারাবাহিকভাবে ওলামায়ে কেরামগণ বয়ান করবেন। এবং রাত দশটা পর্যন্ত মাইক চলমান থাকবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার : রাত চারটায় পূর্বের ন্যায় মাইক চলমান হবে এবং তাহাজ্জুদের জন্য সবাইকে ডাকা হবে। ফজর পর্যন্ত ব্যক্তিগত আমল এবং কুরআন তেলাওয়াত করা হবে। ফজরের পর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীমের দ্বিতীয় বয়ান হবে। এ বয়ানে তিনি জিকিরের ফজিলত এবং জিকির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে জিকির এবং মুনাজাতের মাধ্যমে বয়ান শেষ হবে।

ফজরের বয়ান শেষ হওয়ার পর সকাল দশটা পর্যন্ত খিত্তা-ভিত্তিক আমল এবং নামাজের প্রশিক্ষণ, কুরআন তেলাওয়াত মশক করানোসহ দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল আলোচনা করা হবে।

সকাল ১০ টার পর থেকে শুরু হবে মাহফিলের তৃতীয় দিনের রুটিন কার্যক্রম। এদিন সকাল ১০ টায় ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক সসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১ টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে ইশা ছাত্র আন্দোলনের ব্যবস্থাপনায় ছাত্র সমাবেশ। জোহর পর্যন্ত ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর জুমার নামাজের প্রস্তুতি এবং বৃহত জুমার জামায়াতের প্রস্তুতি নেবেন মুসুল্লিরা। জুমার বয়ান এবং জুমার ইমামতি কে করবেন সে বিষয়ে কোন নির্দেশনা এখনও পাওয়া যায়নি। জুমার নামাজের পর থেকে আছরের নামাজ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ওলামায়ে কেরামদের আলোচনা চলবে।

এদিন দিন আছর নামাজের চরমোনাই জামেয়ার ছাত্রদের হাজিরা, দাওরা হাদীস সমাপনি ছাত্রদের দস্তারবন্দী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

মাগরিবের পর ধারাবাহিকভাবে পূনরায় পীর সাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম তৃতীয় বয়ান দেবেন। দেড় থেকে দু ঘন্টা তিনি আমলি বয়ান দেবেন এবং চরমোনাই তরিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।

পীর সাহেবের বয়ানের পর এরপর পূর্বের ন্যায় ধারাবাহিকভাবে ওলামায়ে কেরামগণ বয়ান করবেন। এবং রাত দশটা পর্যন্ত মাইক চলমান থাকবে।

২৯ ফেব্রুয়ারি, শনিবার : ভোর ৪ টায় ধারাবাহিকভাবে মাইক চলমান হবে এবং তাহাজ্জুদের জন্য সবাইকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। তাহাজ্জুদের পর ফজরের নামাজ পর্যন্ত তেলাওয়াত এবং ব্যক্তিগত আমল করবেন মুসুল্লিরা।

বা’দ ফজর পীর সাহেব চরমোনাইর আখেরী বয়ান করবেন। দেড় দুই ঘন্টা বয়ানের পর জিকির এবং মুনাজাতের মাধ্যমে বয়ান শেষ হবে এবং এরপর নিয়মতান্ত্রিকভাবে মুরিদদের হাজিরা নেওয়াসহ তরিকার সবক দেওয়া হবে। এবং আনুমানিক ৮ টা ৯ টা নাগাদ আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত : চরমোনাই মাহফিলের প্রায় ১৩০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তির্ণ পাঁচটি মাঠে সংযোগ স্থাপন করে একই সাথে প্রতি ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয় এবং সকাল সন্ধ্যার বয়ানের সময় পুরো ময়দান জুড়ে কোথাও কেউ হাটাচলা করতে পারে না। এই দুটি বিষয় চরমোনাই মাহফিলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় দিক।

চরমোনাই মাহফিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি কেমন

মন্তব্য করুন