চরমোনাই মাহফিলের প্রস্তুতি : যা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

প্রকাশিত: ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্ববৃহত মাদরাসাসমূহের অন্যতম চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ মাদরাসার ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম গণজমায়েত ‘চরমোনাই বাৎসরিক ফাল্গুনের মাহফিল’।

তিনদিন ব্যাপী বৃহৎ এই মুসলিম গণজমায়েত বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে। এ বছরের মাহফিল কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার বা’দ জোহর চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে। এবং ২৯ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালের আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মাহফিল কার্যক্রম।

মাহফিলের সার্বিক নিরাপত্তা ও অবগতি সম্পর্কে জানতে বরিশালের কোতয়ালি থানায় পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তারা নিরাপত্তা বিষয়ে তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানিয়েছেন।

বরিশাল কোতয়ালি থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ নুরুল আমিন চরমোনাই মাহফিল সম্পর্কে পুলিশের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে তাদের সতর্কতা সম্পর্কে বলেন,

এ বছর পাঁচটি মাঠে মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে এবং পাঁচটি মাঠেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন সিভিল এবং ডিউটি পোশাকে উপস্থিত থাকবেন। একইভাবে মাহফিল পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনেন এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে পুলিশকে সহায়তা করেন।

গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উধ্বর্তন একাধিক সদস্যরাসহ বরিশালের পুলিশ, র‍্যাব এবং গোয়েন্দা বাহিনীর দায়িত্বশীলরা চরমোনাই মাহফিল মাঠ পরিদর্শন করেছেন এবং চরমোনাইর পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীমসহ মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সাথে কথা বলে সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার কথা বলেছেন।

চরমোনাই মাহফিলে কতজন পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে বেশ বড় একটি গ্রুপই চরমোনাই মাহফিলে দায়িত্ব পালন করে থাকে। তিনি চরমোনাই মাহফিল পরিচালনা কমিটির প্রশংসা করে বলেন, তারা নিজেরাই বেশ গোছালো এবং সুন্দর আয়োজন সম্পন্ন করতে সার্বিক সহায়তা করে থাকেন।

চরমোনাই মাহফিলে আগত গাড়িবহরের কারণে বরিশালে বেশ বড় যানজটের সৃষ্টি হয় বিষয়টি উল্যেখ করে তিনি বলেন, মাহফিলে আগত মুসুল্লিরা বরিশাল সদরে যেন কোনভাবেই গাড়ি পার্কিং না করে বরং মাহফিল কমিটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসের হাট ব্রিজের পাশে প্রস্তুত করা পার্কিংয়ে যেন তারা গাড়ি পার্ক করেন।

এছাড়াও মাহফিল বিষয়ে তাদের নিরাপত্তা সতর্কতাস্বরুপ গোয়েন্দা বাহিনী ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর আরও কয়েকটি গ্রুপ কাজ করবে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে সবগুলো মাঠে সাদা পোশাকে একাধিক লোক উপস্থিত থাকবেন।

প্রসঙ্গত : দুদিন পরেই বরিশালের চরমোনাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তিনদিন ব্যাপী চরমোনাই বাৎসরিক মাহফিলের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাহফিলের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন বলে পাবলিক ভয়েসকে জানিয়েছেন চরমোনাই মাদরাসার নির্বাহী পরিচালক ও চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চরমোনাই মাহফিলের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এল.এম.টি (লাইট মাইক টেলিফোন) বিভাগের পরিচালক মুফতী সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের।

তিনি জানান, নিঃশ্বার্থভাবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। মোট পাঁচটি মাঠে প্রায় ১৩০ একর জায়গা জুড়ে মাহফিলে আগত মুসুল্লিদের জন্য সামিয়ানা টানানো এবং পাঁচটি মাঠ প্রস্তুত করার জন্য প্রতিটি মাঠে লাইট, মাইক, এবং টেলিফোন সংযোগ দেওয়া এবং পানির ব্যবস্থা করাসহ অনেক কার্যক্রমই সম্পন্ন করার দরকার হয় এই মাহফিলে। যা বেশিরভাগই স্বেচ্ছাসেবকরা সম্পন্ন করে থাকেন।

চরমোনাই মাহফিল ময়দানে থাকা পাবলিক ভয়েসের প্রতিনিধি মাহফিলের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানিয়েছেন, মাহফিলের প্রস্তুতির প্রায় কাজই সম্পন্ন হওয়ার পথে। ইতোমধ্যেই মাঠে লোকজন আসা শুরু হয়েছে। দুর-দুরন্ত থেকে লোকজন এসে মাঠে জায়গা করে নিচ্ছেন। প্রায় পাঁচ মাঠে এবারের লোকজন বসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। সবগুলো মাঠেই কাজ চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একদিকে সামিয়ানা টানানো, আর একদিকে লাইট মাইকের তার টানানোসহ প্রায় বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। আর একদিন পরেই মাঠ প্রস্তুত হয়ে যাবে এবং মানুষের উপস্থিতি বাড়বে হু হু করে। ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে মানুষজন আসা শুরু হয়েছে চরমোনাই মাহফিল ময়দানে।

চরমোনাই মাহফিল সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে ভিডিওটি দেখুন :

মন্তব্য করুন