বইমেলায় প্রকাশ্য নামাজ : কারণ ও বিরোধিতা

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

মতামত :  বইমেলায় হাবিবুর রহমান মিছবাহর বই চেঞ্জ ইউর মাইন্ড-এর মোড়ক উম্মোচন পরবর্তি ইমামতিতে আদায় হওয়া এক ওয়াক্ত (২১ ফেব্রুয়ারি, মাগরিব) জামায়াতের নামাজ একটি ছোটো-খাটো রেভূল্যেশন। যেহেতু এটা নিয়ে তসলিমা নাসরিন বলয়ে কথা উঠেছে এবং তাদের জ্বালাপোড়া শুরু হয়েছে তাই এ কথা বলাই যায় এটি একটি ছোটখাট বিপ্লব। কিন্তু সমস্যা হলো কওমী বুদ্ধিজীবীদের আস্ফালন।

এই লেখা অন্তত তাদের নিয়েই কারণ তসলিমাদের সাথে আমাদের লড়াইটা ঘোষিত। কিন্তু কওমের বিক্রি হওয়া বা বিকৃত হওয়া তথাকথিত ‘শান্তির পায়রা’ উড়ানো এই সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের লড়াইটা অঘোষিত। এ সম্প্রদায় বরবারই ‘সাপ হয়ে কামড় দেয় এবং ওঝা হয়ে ঝাড়তে চায়’ কিন্তু দিনশেষে তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়েই যায় কোন না কোন ভাবে।

আমরা কখনওই তসলিমা বলয়ের কাছে লড়াইয়ে হারিনি বরং হেরেছি নিজেদের বলয়ের মধ্যে থাকা লোকজনের কারণে। যার সর্বোচ্চ প্রমান হলো হেফাজতের আন্দোলন। হেফাজতের আন্দোলনে আমরা দু-ধরণের পোশাকি লোকজনের হাতে হেরেছি। একদল যারা দাড়ি-টুপি পড়ে শাহবাগে গিয়েছে আর একদল যারা দাড়ি-টুপি পড়ে খালেদার বৈঠকে গিয়েছে অর্থাৎ যারা জামায়াত-বিএনপির অর্থের ভিত্তির উপর দাড়িয়ে কথা বলেছে। কিন্তু দিনশেষে উভয় গ্রুপ অপমানিত হয়েছে। কেউ হয়েছে সরাসরি কেউ হয়েছে ভেতরে ভেতরে। তবে আমাদের প্রতিটি জাগরণেই এমন হয়।

যাক, বইমেলায় নামাজ নিয়ে আলোচনা করি :

বইমেলায় এই বিপ্লবের সূচনা আরও বছর দুয়েক আগে গ্রেফতার হওয়া কিছু কওমী তরুণদের হাত ধরেই হয়েছিলো। যারা বইমেলায় একজোট হয়ে এক স্থানে দাড়িয়ে কথা বলার অপরাধে (!) গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর প্রতিবাদ হয়েছে, তারা ছাড়া পেয়েছেন। বইমেলায় ইসলামের আলো ছড়ানো শুরু হয়েছে। দাড়ি-টুপিওয়ালারা বইমেলায় স্থান পাওয়া শুরু করেছে। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে ওই ঘটনার পর বইমেলার ব্যাপারে প্রভাবিত হয়েছি। প্রতি বছর যেভাবেই হোক টুপি পাঞ্জাবী নিয়ে বইমেলা যাওয়া শুরু করেছি। অন্তত এক দুবার হলেও যাই প্রতি বছর। এমনকি বইমেলায় আমার একটি বই প্রকাশ হোক এ চিন্তাও চলে এসেছে নিজের মধ্যে অথচ ‘বইয়ের লেখক’ বিষয়টা প্রচন্ড ভারি বস্তু আমার কাছে।

কিন্তু এখানেও সমস্যা করেছে একদল কওমি বুদ্ধিজীবী! যারা এই সুযোগে বইমেলায় ঢুকে নিজেদের আত্মপরিচয় বিক্রি করে ফেলেছে। তাদের প্রতিভা তারা বামপন্থার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বা নিজেরাই বিক্রি হয়ে গেছে। তারা বইমেলাকে পরিবর্তন করা নয় বরং নিজেরা সেখানে পরিবর্তন হতে গেছে। নিজেদের সবটুকু আত্মসম্মান তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠির হাতে তুলে দিয়েছে। এমন অনেককেই নাম ধরে ধরে বলে দেওয়া যাবে যারা নিজেদের আত্মপরিচয় ঠিক রাখেনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ঢুকে।

সেই তাদের একটি অংশই আজকে বইমেলায় খোলা ফিল্ডে নামাজ পড়া নিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে শান্তির পায়রা উড়াতে চাচ্ছে। এই নামাজে লাভ কী টাইপের আলোচনা করতে চাচ্ছে। অনেকে তো ‘এই নামাজ পড়ার চেয়ে হুজুররা গর্তে চলে যাক’ টাইপের আলাপ-সালাপও নিয়ে আসছেন।

এইসব আলাপের মধ্যে কয়েকটি দল-উপদল আছে। তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেই আপনাদের কাছে।

-) একদল যারা তাদের আদর্শের ভিত্তিতে এই নামাজের বিরোধিতা করতেছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন বইমেলা দাড়ি-টুপিওয়ালাদের দখলে চলে যায় কি না। এভাবে হুজুরদের পদচারণায় বইমেলা হয়ত বামদের দখলে আর নাও থাকতে পারে। এজন্য তাদের মহা টেনশন। এই দলে আছে তসলিমা বা কট্টর ধারার ইসলাম বিরোধী লোকজন। যারা তাদের বিরোধিতা কোন ভণিতা ছাড়াই দু এক লাইনে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

তাদের জবাবে এটুকু বলতে চাই, সহাবস্থান নিয়ে বসুন। তারপর দেখুন- কারা যুক্তিতে, বুদ্ধিতে, চিন্তায় অগ্রসরমান। আপনারা যেভাবে বিভেদের দেয়াল তুলে দিয়ে ইসলামের বিষদগার করেন এটা অবশ্যই সভ্যতা বিবর্জিত। বইমেলা আয়োজনে সরকারি বাজেটের যে টাকা থাকে তা এ দেশের বেশিরভাগ মুসলমানদের কষ্টে অর্জিত টাকা। যাদের কাছে বই বিক্রি হয় তাদেরও বেশিরভাগ মুসলিম পরিচয়ের। এখানে সবার তাই সুন্দর সহাবস্থান নিশ্চিত করুন। বইমেলার একপাশে যেভাবে গিটারে গান বাজে অপর পাশে তেমনি খোলাফিল্ডে নামাজও আদায় হোক। এই সৌন্দর্য ধারণ করতে চেষ্টা করুন। সুন্দর সমাজ উপহার পাবেন। কাউকে আসতে আটকে দিলে বরং আপনাদের মানসিক দৈন্যদশার প্রমাণ সৃষ্টি হয় এটা মনে রাখবেন।

-) আর একদল আছে – যারা আদতে ডানপন্থি। যদিও ডানপন্থায় কখনও তারা এক দস্তরখানে খানা খেতে পারেনি। তাদের সব সময়ের খানা বামপন্থার দস্তরখানেই হয়েছে। তারপরও তারা নিজেদের ডানপন্থিই ভাবে। বলে। তারাও এই খোলাফিল্ডে নামাজের বিরোধিতা করছেন। এই দল ইসলাম ধারণ করেন কিন্তু তারা সব সময় আত্মপরিচয়ের সংকটে ভোগেন। তাঁরা ভাবেন এভাবে খোলাফিল্ডে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বামদের উসকে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতা প্রদর্শন করা হচ্ছে। যা ভদ্রতার কাঁতারে পড়ে না। তারা ভয় পাচ্ছে বইমেলায় ইসলামপন্থীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় কি না। যেহেতু বইমেলায় নামাজের স্থান আছে তাই সেখানেই নামাজ পড়া উচিত। এভাবে নয়। এমনকি এই বিরোধিতার ক্ষেত্রে তারা বিরোধিতা করার মানদন্ডও রক্ষা করছে না। খুঁজতে চেষ্টা করছে না কেন তারা এভাবে নামাজ পড়লো। অবশ্য এরা আরও একটি ভয় পায় তা হলো, যদি এই মৌলিকত্ব ধরে রাখা হুজুররা ‘বইমেলায়’ ঢুকে পড়ে তাহলে মডারেট ইসলামের ধারক এদের গুরুত্ব অবশ্যই কমে যাবে। কারণ মানুষ মৌলিকত্বকে যতটা গ্রহণ করে মডারেটকে ততক্ষন গ্রহণ করে না অবশ্যই। এই ভয়ের পয়েন্টে অন্তত তাদের সাথে তসলিমাদের প্রচন্ড মিল আছে।

এই দলের জবাবে এটুকু বলতে চাই – আপনারা আত্মপরিচয় সংকটে ভোগা বন্ধ করুন। আপনাদের অতি-মডারেট ইসলাম মূলার্থে ইসলামকে কোনভাবেই রিপ্রেজেন্ট করে না। আপনাদের এই অতি-আধুনিক ইসলাম ১৪-শ বছর আগের ইসলাম নয় বরং একবিংশ শতাব্দির দাজ্জালি ফিৎনার সূচনাপর্বে মার্কিন-ইসরাইলের তৈরিকৃত ইসলাম (!)। যে ইসলামে আপনাদের জিহাদ নিয়ে ভয়, ইসলামবিরোধীদের মাঝখানে গলা চিতিয়ে ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি শুনতে ভয়, একজোট হয়ে সরাসরি নাস্তিক, নবী-বিদ্ধেষীদের বিরুদ্ধে কথা শুনতে ভয়। এইসব ভয় আপনাদেরকে ধিরে ধিরে প্রান্তিক বানিয়ে দিচ্ছে। এক নুতন ইসলাম তৈরি করতে চাচ্ছেন আপনারা। যেখানে আলেমদের, মুসলমানদের পিঠ-পিঠে খঞ্জর মারার জন্যও প্রস্তুত থাকেন আপনারা। এমনকি সময় সুযোগে মারছেনও। এই প্রকাশ্য নামাজে বা প্রকাশ্য যে কোন ইসলামী বিপ্লবে আপনাদের জ্বালাপোড়া শুরু হয়। আপনারা বামদের সাথে অন্তত এক স্থানে মিশেমিশে একাকার যে, ‘ইসলাম কোন প্রভাবের ধর্ম হবে না বরং ইসলাম হবে ঘরে আটকে রাখা একটি বন্দি ধর্ম’। যে কারণেই বইমেলায় এই নামাজ দেখে আপনাদের টেনশন শুরু হয়ে গেছে। যার প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এভাবে।

আপনাদের হাত ধরে বইমেলায় প্রবেশ করা লোকদের আমরা চিনি, জানি। তারা ইসলামের নূন্যতম মৌলিকত্বও ধরে রাখেনি। তারা নিজেদেরকে বামদের হওয়ালা করে দিয়েছে সব সময়। তাই ইসলামের মৌলিকত্ব ঠিক রেখে একদলের বইমেলায় পদচারণা দরকার আছে এটুকু আপনাদের সমিপে বলে যেতে চাই। তাদের পদচারণায় আপনাদের ভয় নেই এটা নিশ্চিত থাকুন। বাকি সেদিনের নামাজের কারণ ছিলো, কেবলমাত্র বইমেলায় অবস্থিত মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়া এবং মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত কিছুটা ছোট হওয়া। কোন পেশি শক্তি দেখানো বা বামদের ভয় দেখানোর কোন লক্ষ কারোরই ছিলো না।

–) আর একদল আছেন যারা এই নামাজের বিরোধিতা করছেন – কারণ যারা সেদিন নামাজ পড়েছে তারা তাদের পছন্দ না। এই নামাজ অন্য কেউ পড়লে তারা বাহবা দিতো কিন্তু মিছবাহরা পড়ছেন বলেই তাদের যত অসস্থি ভাব।

এই গ্রুপের উদ্দিশ্যে বলতে চাই। ধুররর… এদের উদ্দিশ্যে কিছু বলারই নেই। এদের মস্তিস্ক সব সময়ই বিকৃত। এরা কিছু বলা বা শোনার মানদন্ডে নেই। মানসিক বিকারগ্রস্থদের কিছু বলে কখনওই লাভ নেই। এদের হেদায়াত এবং সুস্থতার দোয়া করতে চাই সব সময়।

চেঞ্জ ইউর মাইন্ড অনলাইনে কিনতে ক্লিক করুন

এই তিন দলের বাইরে যারা বাস্তবেই বলতে চেয়েছেন যে এভাবে নামাজ পড়ার কারণে ‘লোক দেখানো ইবাদাত’ বা এক ধরণের রিয়া প্রকাশ পেয়েছে তাদের জন্য দুটি বিষয়।

১. দিনটি ছিলো ২১ ফেব্রুয়ারি আবার শুক্রবার। বইমেলায় প্রচন্ড ভিড় ছিলো। মেলা কর্তৃপক্ষ বইমেলায় যে মসজিদ দিয়েছেন সেখানে আছর মাগরিব সব সময়ই তিন চার জামায়াত করতে হয় কারণ লোক সমাগমে মসজিদে স্থান সংকুলান হয় না। ওইদিন আছরের জামায়াত মিছবাহ সাহেবের ভক্ত অনুরক্তরা মিলে একদম শেষ ওয়াক্তে পড়তে হয়েছে কারণ হাবিবুর রহমান মিছবাহ লিখিত ‘চেঞ্জ ইউর মাইন্ড’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন ও তার বইমেলায় যাওয়ার কারণে বেশ ভিড় তৈরি হয়েছিলো। যে কারণে মসজিদে নামাজের স্থান হয়নি আছরের ওয়াক্তেই। মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত কিছুটা ছোট হওয়ায় তারা খোলাফিল্ডেই নামাজ আদায় করে নিয়েছেন যাতে মসজিদে ভিড় না হয়। তবে এই নামাজের ছবি ভাইরাল হবে এ ব্যাপারে তারা প্রস্তুত ছিলেন।

২. এই নামাজের ছবি একটি বড় ইফেক্টিভ কার্যক্রম হিসেবে নিতে পারেন। এর দ্বারা ইসলামের শৌর্যবীর্য অবশ্যই বিশেষ ভাবে প্রকাশিত হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ইসলামের সর্বোচ্চ সৌন্দর্যে ভরা ইবাদাত নামাজের প্রাকটিস হয়েছে এখানে। যা অবশ্যই পজেটিভ দৃষ্টিতেই দেখা উচিত সবার।

শেষ লাইনে শেষ করছি পরিচিত লেখক রশীদ জামিলের লেখা একটি উক্তি দিয়ে, ‘মসজিদে আজান দিতে পারায় সওয়াব আছে, কিন্তু কৃতিত্ব হলো গৌড় গোবিন্দের টিলার উপরে উঠে আজান দিতে পারা’।

পরিশেষে, সেদিনের সেই নামাজ আদায় সম্পর্কে লেখক ও ওয়ায়েজ মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ কী লিখেছেন একটু জানি। তিনি লিখেছেন,

গত বছর ১২ তারিখ একচক্কর গিয়েছিলাম বইমেলায়। তার আগে জীবনের প্রথমবার যখন বইমেলায় যাই, তখন নামাযের জায়গা ছিল না বললেই চলে। তার আগে আদৌ ছিল কি না জানা নেই। গত দু’বছর ধরে মোটামুটি সুন্দর ও পরিপাটি মসজিদ রেখেছেন মেলা কর্তৃপক্ষ। তবে জায়গা পর্যাপ্ত নয়। ফলে চার পাঁচ জামাতে নামায আদায় করতে হয়। ১২ তারিখ তো মাগরিবের নামায কাযা হওয়ার অবস্থা হয়েছিল। যদিও এবার নির্দিষ্ট ইমামও রেখেছেন। নিশ্চয়ই মেলা কর্তৃপক্ষ এজন্য ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

২১ ফেব্রুয়ারি আমার নতুন বই চেঞ্জ ইউর মাইন্ড’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ছিল। বিকাল ৩টা নাগাদ পৌছি বইমেলায়। প্রচুর পাঠক সমাগম হয় সেদিন। স্টলের সামনে যেতেই আগ্রহী পাঠকদের বায়না— অটোগ্রাফ! কেউ কুড়িগ্রাম, কেউ রংপুর, মোমেনশাহী, কুমিল্লা আবার কেউ চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন শুধু বইয়ের জন্য! দশ মিনিট থাকার পরই হৈচৈ! কী হয়েছে? একাডেমিতে অলরেডি অভিযোগ পড়েছে। রাস্তাঘাট বন্ধ চেঞ্জ ইউর মাইন্ড’র পাঠকভিড়ে। পাশের স্টলওয়ালারাও অনুনোধ জানালেন যেন লেখকমঞ্চের দিকে গিয়ে অটোগ্রাফ দিই, কারণ চেঞ্জ ইউর মাইন্ড’র ভিড়ে তাদের স্টলও ব্লক!

বাবুই প্রকাশনীর মালিক ও সেলাররাও বললেন অটোগ্রাফের জন্য অন্য জায়গায় গেলে ভালো হয়। ৩২২-৩২৩ নং স্টল ছেড়ে লেখকমঞ্চ চত্বরে যাই। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাঠকভিড় বাড়তে থাকে। আসরের সময় হলে দ্রুত নামাযে রওয়ানা হই। লেখকমঞ্চ থেকে নামাযের জায়গা খানিকটা দূরে। মহান মাতৃভাষা দিবস ও শুক্রবার হওয়ায় লোকজনের এত ভিড় ছিল যা কল্পনাও করা যায়নি। যেতে যেতে তিন জামাত শেষ। সিরিয়াল আছে আরও দুই জামাত! ওয়াক্ত যায় যায় অবস্থা। একেবারে শেষবেলায় আসর পড়ি।

মাগরিবের সময় আবার মসজিদের দিকে রওয়ানা হই। কয়েকজন বললেন এখানেই পড়ে নিই। আমি বললাম যেহেতু নামাযের নির্দিষ্ট জায়গা আছে সেহেতু ওখানে যাওয়াটাই উত্তম। আবার ভাবলাম— আসর তো কাযা হয়েও হয়নি, মাগরিব নিশ্চিত কাযা হবে কারণ ওয়াক্ত ছোট এবং মসজিদ আমাদের থেকে তুলনামূলক দূরে। তা ছাড়াও চত্বরে তখন গ্রুপ গ্রুপ বসে গীটার বাজিয়ে গান করছিল। তাহলে আমরা নামায পড়তে তো অসুবিধা নাই! ওদিকে লেখকমঞ্চ থেকেও বিশাল সাউন্ডবক্সে হাইভলিউমে গান বেজেছে সন্ধ্যার আগ থেকেই।

আমরা তো এ দেশে ভাড়াটিয়া নই, তাই ময়দানেই নামাযে দাঁড়িয়ে যাই। তার আগে অবশ্য মুফতী মুহিব্বুল্লাহ ভাইর ইমামতি ছোট একটি জামাত হয়েছে। মেলা থেকে বের হয়ে অনলাইনে ঢুকতেই দেখি নামাযের দৃশ্য ভাইরাল। ছবিগুলো সংরক্ষণ করি আমিও। আমি কখনও কাউকে দিয়ে ছবি তোলাই না। অনলাইন থেকেই সংগ্রহ করি। কিন্তু সেটা নিয়ে স্বজাতির বিদ্বেষ কষ্ট দিয়েছে আমাকে। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকেই আমার বই চেঞ্জ ইউর মাইন্ড, নামায ও বইমেলায় হুজুরদের ভিড় নিয়ে বামপাড়ায় হৈচৈ লক্ষ্য করেছি। তাদের মায়কান্না দেখে মনে হয়েছে তারাই দেশের মালিক বাকিরা ভাড়াটিয়া! দেশে তাদের সংখ্যা কত! তারা নামাযের বিরোধিতা করে কোন অধিকারে?

চেঞ্জ ইউর মাইন্ড’র পরিবেশক বাবুই প্রকাশনীর মালিক মোরশেদ ভাইকে তিনবার ডেকেছে মেলা কর্তৃপক্ষ— কেন তার স্টলের সামনে এত ভিড়। ভিড় না কমালে স্টল বন্ধ করে দেবে! এটা কি স্ববিরোধী কাজ নয়? তারা মেলার আয়োজন করেছেন কেন? লেখক স্টলে যাবেন, পাঠক ভিড় করবে, অটোগ্রাফ নেবে এটাই তো স্বাভাবিক নাকি? তাহলে পরিবেশককে সতর্ক করা হলো কেন? আমরা হুজুর বলে! একাডেমি কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ একজন লেখককে অপমানের শামিল। ৯৫% মুসলমানের দেশে ইসলামকে বাদ দিয়ে কোনোকিছু করা যায় না, যায়নি, যাবেও না।

একুশে বইমেলা ইসলামিক লেখক দিয়েই বেঁচে আছে। তাদেরকে সম্মান করুন, কদর করুন।

[বি:দ্র:] পাবলিক ভয়েসের মতামত এবং সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত যে কোন লেখার দায়ভার কেবল লেখকের ব্যাক্তিগত। এমনকি পাবলিক ভয়েসের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কারও লেখাও তাঁর ব্যাক্তিগত অভিমত হিসেবেই প্রকাশ পায়। প্রতিষ্ঠানিকভাবে পাবলিক ভয়েস বা পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদ এই লেখার দায় বহন করে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবেই আমরা যে কোন লেখা প্রকাশের মুক্ত প্লাটফর্ম রাখতে চাই এখানে।

মন্তব্য করুন