করোনা সন্দেহে হবিগঞ্জে চিনফেরত শিক্ষার্থী হাসপাতালে তালাবদ্ধ

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
ছবি: যুগান্তরের সৌজন্যে

মরণব্যাধি ‘করোনাভাইরাস’ আক্রান্ত সন্দেহে মো. রায়হান আহমেদ নামে চিনফেরত এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। হাসপাতালে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে ওই শিক্ষার্থীকে।

দু’দফায় তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেলেও পুলিশের মাধ্যমে তাকে খুঁজে আনা হয়েছে। এখন তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের নতুন ভবনের ৫ম তলায় করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

নির্ধারিত চিকিৎসক-নার্স ব্যতীত অন্য কেউ রোগীর পাশে যাওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও নিরাপত্তার অভাবে যে কেউ সেখানে যাতায়াত করতে পারছেন বলে জানা গেছে।

রায়হান আহমেদ হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা আবদুন নূরের ছেলে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও তার পরিবার জানায়, রায়হান চীনের জিয়াংসুতে একটি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফেরেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জ্বর, কাশি ও ঘাড় ব্যথা অনুভব করেন। তাকে পরিবারের সদস্যরা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ভর্তির পরামর্শ দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান।

১৬ ফেব্রুয়ারি পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু ভর্তির কিছুক্ষণ পরই তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশের মাধ্যমে তাকে খুঁজে আনা হয়। তার কাছ থেকে ঢাকায় যাওয়ার একটি বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।

এর পর থেকে তাকে সদর আধুনিক হাসপাতালের নতুন ভবনের ৫ম তলায় করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন রায়হান আহমেদের করোনাভাইরাস থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে জানিয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তার জ্বর নেই। কিন্তু সর্দি, কাশি এবং ঘাড় ব্যথা আছে। এ কারণেই তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনা আছে যে, চীন থেকে ফেরার ১৪ দিনের মধ্যে যদি কারও সর্দি-কাশি হয়, তা হলে তাকে অবশ্যই আইসোলেশনে রাখতে হবে। সরকারের নির্দেশনা আমাদের মানতেই হবে।

১৪ দিনের বাইরে হলে কিন্তু তাকে হাসপাতালে রাখা হতো না। তার রক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই হয়তো ফল এসে যাবে। তখনই জানা যাবে সঠিক তথ্য।

তিনি বলেন, চীন থেকে ফেরত আসাদের মধ্যে শুধু যারা উহান শহর থেকে এসেছেন তাদের আশকোনা হজক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। অন্যদের বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তার শরীরে জ্বর আছে কিনা দেখে ছেড়ে দেয়া হয়।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ইনচার্জ হিমাংশু রঞ্জন দাশ জানান, রোববার তিনি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে নতুন ভবনের ৫ম তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

চীনফেরত শিক্ষার্থী রায়হানের বাবা আবদুন নূর জানান, তার ছেলে মরণব্যাধি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নয়। কেউ কেউ এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

/এসএস

মন্তব্য করুন