আযহারী ফিরবেন কবে?

প্রকাশিত: ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

এম শামসুদদোহা তালুকদার : আসলে এরা কারা? যারা আলেমদেরকে গালাগাল করে সময় কাঁটায়! মিজানুর রহমান আযহারী মালয়েশিয়ায় গমনের পর গর্তজীবিরা গর্ত থেকে বের হয়ে এখন ওলামা মাশায়েখদেরকে গালির বন্যা বইয়ে দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্ত সবটা সঠিক সেটা বলবো না, তবে আযহারীকে হিজরত করানোর সিদ্ধান্তটা যে সঠিক ছিলো সেটা এখন মানতেছি।

আযহারী স্বরূপে আবির্ভূত হবার পর চ্যালা চামুন্ডাদের আস্ফালন জাতি প্রত্যক্ষ করলো। তাঁদের ‘তাওয়া’ এতই উত্তপ্ত ! কেউ কিছু বললেই ছ্যাৎ কইরা উঠে। তারা ভিন্নমতের সবাইকে ষড়বিদ্ধ করে যাচ্ছে। দুনিয়ার সব আলেমরা আযহারীর বিরুদ্ধে গেলেও সরকার কি তাঁদের দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে আজহারীকে পাঠিয়ে দিতো? মোটেই না।

যে ব্যক্তি ঘরে ঘরে আল্লামা সাঈদী বানানোর জন্য প্রকাশ্যে দোয়া করেন, তাঁর সাথে সরকারের প্রীতি বজায় থাকবে এটা বোকারাই ভাবতে পারে!

আলেমগণ তাঁর ভুল ফতোয়ার ব্যাপারে কথা বলেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। তাঁরা মালয়েশিয়ায় ফিরে যাবার দাবী করেছিলেন বুঝি! একদম না। তিনি গেছেন নিজের স্বার্থে। আলেমরা ভাগায়নি। তিনি নিজে সটকে পড়েছেন।

কেন তিনি এক দঙ্গল বেয়াদব সমর্থকদেরকে রেখে একা চলে গেলেন, সেটার কারণ তিনিই জানেন। হয়তো সরকার এখানে মূল কুশীলবের ভূমিকায় ছিলো।

আযহারীকে পেয়ে তারা যেন আল্লামা সাঈদীকে চাঁদ থেকে এ মর্তে টেনে নামিয়ে এনেছিলো। ওয়াজের ময়দানে সাঈদীর বিকল্প ভাবছিলো তারা। এমন সুন্দর স্বপ্নে ‘দোষ’ দেখা দেয়ায় আজ তারা চরম উৎশৃঙ্খলতা দেখাচ্ছে। তাঁরা আলেমদের সাথে বেআদবিটা সমানে করে যাচ্ছে। এমন কোন গালি নাই, যা তারা দেয় নাই। আযহারীর পক্ষ অবলম্বন করে আলেমদেরকে গালি দিয়ে তারা বুঝি এ দেশে ইসলাম কায়েম করবে! হাউ ফানি!

তাদের এসব বদমাইশির ব্যাপারে কোন কথা বলা যাবে না। বললেই গালি বর্ষন। নো টক।

শরীয়াতের বিভিন্ন বিষয়ে উল্টাপাল্টা ফতোয়া দিয়ে আবার মাফ চাওয়া আযহারির একটা ফ্যাশনে পরিণত হলেও তাঁর ছ্যাঁচড়া সমর্থকদের গালিবাজি গলাবাজি রুখতে তিনি কোন ভূমিকা রাখছেন না।

সরকার এক পার্সেন্ট নমনীয় থাকলে আযহারীকে সটকে পড়তে হতো না। এটা ছিলো সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ এহছান। সরকার আযহারীকে সেফ এক্সিট দিয়েছে। হয়তো কিছু ভাল কাজের প্রতিদান পেয়েছে। জামায়াতের প্রতি সরকারের যে মেজাজ, তাতে তার নিরাপদ জার্ণি হবার কথা না।

তিনি রেখে গেলেন কতগুলো আলেম বিদ্বেষী ভাঁড়। তাদের কতকে আবার বক্তা। নামে বক্তা অথচ স্টেজে উঠে যা করছে বা বলছে তাতে ইসলামপ্রিয় দেশবাসী শংকিত। তারা মাহফিলের অস্তিত্ব ধরে টান দিয়েছে। আগে থেকেই তো মাহফিল নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার কাজ করছে।

এরা কিসের বক্তা? শয়তান তাদেরকে দেখলে অট্টহাসি দেয়। এক বক্তা তো স্টেজে চেয়ারের পাশে জুতা রেখে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তা উঁচু করে তুলে গালি বর্ষন করেছে। এটা গায়রে আলেমদের সামনে আলেমদের অভ্যন্তরীণ কদর্যতা ফুটে উঠেছে। এটা তারছেঁড়া ভক্তদের ওদের দ্বারাই সম্ভব।

সাধারণত মাহফিলের মঞ্চে বক্তার জুতা চেয়ারের পাশে রাখেনা। ঐ বক্তা পরিকল্পনা করেই এটা করেছে। আসলে সে একটা জানোয়ার‌ । তাও আবার বলদা কিসিমের। একজন আলেম বক্তা হয়ে অন্য আলেম বক্তার নাম ধরে ঐ রকম গালিগালাজ করতে পারে? সে ষোলআনা মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে।

আচ্ছা, আযহারী আদৌ কি আওয়ামী যামানায় নিজ দেশে ফিরতে পারবে? হয়তো ফিরবে, হয়তো ফিরবে না। এসব উগ্র সমর্থক ছুঁচোগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কি ব্যবস্থা নেয়, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। আলেমদের সাথে বেয়াদবি ও উগ্রতার কারণে তাদের কপালে ভোগ আছে, এটা দিব্যচোখে দেখতেছি।

এ দেশে আলেমদের সাথে বেআদবির পরিনাম ভালো হয় না, ইতিহাস বলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সা’দ ইস্যুর দিকে তাকালেই সহজেই অনুমেয়।

একটা শব্দ। বাটপার। ওরে বাটপার! (দুইবার) এটা কিন্তু গালি নয়। তবে হেয় ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মতো শব্দ। যিনি বলেছেন, তার জন্য এটা শোভনীয় ছিলো না। এটা নিন্দনীয়। এর প্রতুত্তরে জুতা দেখাতে হবে? গালি দিতে হবে? দেশে চামার ও মুচির সংখ্যা বেড়ে গেছে। আয়োজকরা কি সেজন্য দাওয়াত দিয়েছিলেন?

এই একটা শব্দের জন্য গালির কোন শব্দটা তোমরা বাকী রেখেছো? তবে ওরে বাটপার! বলার যথেষ্ট কারণও ছিলো! বাটপার কারা তা চিহ্নিত হয়েছে।

আলেম ওলামা পীর মাশায়েখ কেউই বাদ যায়নি তাদের বেআদবির চাবুক থেকে। এটা তোমাদের চরম স্খলন। এর পরিণতি ভালো হবেনা। এর মূল্য আযহারীকে দিতে হবে।

তোমাদের আশি বছরের কথিত ইসলামী রাজনীতিতে ইসলামের প্রাপ্তি কি? অবশ্য ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল,জাহাজ ও কাড়ি কাড়ি অর্থের কাহিনী ছাড়া আর বলার মতো কি আছে তোমাদের?

আর টাকার গরম বলে একটা কথা আছে! সে গরমে লাঞ্ছিত করেছো এ দেশের জনপ্রিয় আলেম ব্যক্তিত্বদেরকে। এর একটা কঠিন জাযা অপেক্ষা করছে। যা নির্মম হলে আশ্চর্য হবো না।

লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক।

[পাবলিক ভয়েসের মতামত বিভাগে প্রকাশিত যে কোনো লেখার দায় লেখকের নিজের। পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদ এ লেখার দায় গ্রহণ করে না। তাই এই লেখার জন্য পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদকে দায়ী করবেন না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদের নীতির সাথে অসামঞ্জস্য লেখাও এখানে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কেবল ধর্ম এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা প্রকাশ করা হয় না। চাইলে আপনিও তথ্য বা যুক্তিসমৃদ্ধ লেখা এখানে পাঠাতে পারেন।]

মন্তব্য করুন