নিজেকে ক্ষমার মালিক এবং দরবারকে হারাম শরীফ ঘোষণা: গ্রেফতার ভণ্ড পীর

প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার উমনাথপুর গোলে মদিনা দরবার শরিফের বিতর্কিত পীর আবুল বাশার আল কাদেরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্মী অনুভূতিতে আঘাত হানার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ভৈরব থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

পবিত্র হজ নিয়ে কটূক্তি করায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সুস্পষ্ট অভিযোগে আজ রোববার তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে জানুয়ারি মাসে পীর আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত কয়েকদিন আগে ওই মাওলানা পীর হবিগঞ্জের একটি ওয়াজ মাহফিলে পবিত্র হজসহ ইসলামী অনুশাসন নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় বিষয়ে আক্রমণাত্মক মিথ্যা, ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে বক্তব্য দেন। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচার করা হয়। ধর্মী অনুভূতিতে আঘাত হানার এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যে বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্য শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উপক্রম হয়েছে।

ভৈরব থানার ওসি শাহিন তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ধর্ম অবমাননা বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের পরামর্শ অনুযায়ী অভিযোগটি তদন্ত করে আমরা তাকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

জানা যায়, গত ডিসেম্বরে হবিগঞ্জের এক ওয়াজ মাহফিলে বিতর্কিত এ পীর পবিত্র ওমরা হজ্ব নিয়ে কটূক্তি করেন। তিনি ওমরা হজ্বকারীদের তিরস্কার করে বলেন, ‘ওমরা হজ্ব কি তোর বাপ লাগে নাকি? ওমরার জাগায় ওমর শুইয়া রইছে, ওমরার জাগা তো তোর বাড়ির দ্বারে। গুলে মদিনা দরবার যে তোর আসলা জায়গা, মুর্শিদ কেবলা বর্তমান, আল্লাহ রসূল (সা.) বর্তমান, এইটা তো হেরেম শরীফ। দরবারের গেটে যাওয়ার সাথে সাথে পূর্বের গূনাহ মাফ। ইয়ানো নাই, ইয়ানো যে তোর আসল পূজি কাজ, এইটা তোর হেরেম শরীফ। প্রত্যেক জাগায় জাগায় খানকা শরীফ বানাইছি। সারা বাংলাদেশে ৪০/৪৫টার কম না। এইটা মুর্শিদের আস্তানা, এইডার ভিতরে ঢোকা মাত্র তোর পূর্বের গূনাহ মাফ হয়, আশা পূরণ হয়, দুনিয়ার অভাবটা ধুর হয়। আর এইটা (ভৈরব, গুল মদিনা দরবার) হলো কেন্দ্র, আমি স্বয়ং সেখানে বর্তমান’।

তিনি আরো বলেন, ‘ওমরার জায়গায় নবীরে দেখছো? আল্লাহরে দেখছো? আরে মুর্শিদ নাই তোর ওমরা করে কী লাভ অইবো?’

শুধু এখানেই থেমে থাকেননি এই ভণ্ড পীর। ধৃষ্টতার চরমসীমায় পৌঁছে নিজেকে মাফের মালিক বলে ঘোষণা দেন। ধৃষ্টতার সুরে বলেন, ‘আমি যে মাফের মালিক প্রমণ কইরা দিমু‘। এমনকি মুয়াবিয়া রা.-কে মুনাফিক বলে ধৃষ্টতা দেখান এই পীর। নিজের বক্তব্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বইলা গেছে আপনের একটা ভিডিও পাইছি, ভিডিওতে আপনি মাবিয়ারে না হক কইছেন, মুনাফিক কইছেন; ঠিকই কইছি’। আরে সাহাবী তো ঠিকই আছে মুনাফিক’

এরপর ১২ জানুয়ারি (রোববার) ইউটিউবে আপলোড করা অপর একটি ভিডিওতেও দেখা যায়, বিতর্কিত এই পীর মুয়াবিয়া রা.-কে মুনাফিক বলাকে ঠিক বলে ধৃষ্টতা দেখান। সেখানেও তার নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গান।

পরে তার এই বিতর্কিত বক্তব্যটি ২৮ ডিসেম্বর সাইন্ড হেভেন বিডি নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড হয়।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ভৈরব। আবুল বাশারকে (৬০) গ্রেফতার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানায় মুসুল্লিরা। কিশোরগঞ্জ ইমাম উলামা পরিষদের উদ্যোগে ও আল-জামিয়াতুল এমদাদিয়ার সিনিয়র উস্তাদের নেতৃত্বে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।

/এসএস

মন্তব্য করুন