৯ মাসে ডাকসু নেতাদের ব্যয় ৯০ লাখ টাকা

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

দায়িত্ব নেওয়ার পর গত নয় মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের-ডাকসু ১৭ নির্বাচিত ছাত্রনেতা ব্যয় করেছেন ৯০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগার থেকে ব্যয় হয়েছে ৮৩ লাখ ৫১ হাজার ৩০৪ টাকা। আর স্পন্সর থেকে পাওয়া অর্থ থেকে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫০৪ টাকা। ডাকসু নেতাদের খরচের অর্থের হিসাব খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যবিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে আটজন সম্পাদক ব্যয় করেছেন ৮২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। দুই জন সম্পাদক কেবল স্পন্সর থেকে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৪ টাকা পেয়েছেন। বাকি অর্থ ডাকসুর বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ২৮ বছরের বন্ধ্যাত্বের পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়। ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়া ওই নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জিতেছে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা। অন্য দুটিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নির্বাচিত হয়। এই প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয় নুরুল হক নুর। আর ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচিত হয় গোলাম রাব্বানী ও এজিএস পদে সাদ্দাম হোসেন।

ডাকসুর ব্যয় বিবরণী থেকে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ব্যয় ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীরের। তিনি ব্যয় করেছেন ২৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা। যার মধ্যে ডাকসুর বাজেট থেকে ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আর স্পন্সর থেকে পেয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ব্যয়ের দিকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন। তিনি ব্যয় করেছেন ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ টাকা। ডাকসু বাজেট থেকে পেয়েছেন ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৪ টাকা আর স্পন্সর থেকে এসেছে ২ লাখ সাত হাজার ৫০৪ টাকা।

আন্তজার্তিক সম্পাদক শাহরিমা তানজীন অর্নি ব্যয় করেছে ৬ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরীর ব্যয় ৭ লাখ ৮২ হাজার ১২০ টাকা। তিনি সম্প্রতি প্রত্যেকটি হলে হলে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করেছেন।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের ব্যয় ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তিনি প্রত্যেকটি হলে হলে ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচী পালন করেছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আসিফ ইবনে আলীর ব্যয় ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন ব্যয় করেছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস-ঈ নোমানের ব্যয় ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা।

এছাড়াও ডাকসু সদস্যরাও নিজ নিজ খাতে ব্যয় করেছেন। সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন রকিবুল হাসান ঐতিহ্য। তিনি ব্যয় করেছেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তানভীর হাসান সৈকতের ব্যয় ৯০ হাজার টাকা, রাইসা নাসেরের ব্যয় ৭৪ হাজার ৫০ টাকা। মুহা. মাহমুদুল হাসান ব্যয় করেছেন ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। রফিকুল ইসলাম সবুজ ব্যয় করেছেন ৩০ হাজার টাকা। ফরিদা পারভীনের ব্যয় ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, সাইফুল ইসলাম রাসেলের ব্যয় এক লাখ টাকা। আর যোশীয় সাংমা চিবলের ব্যয় ৪০ হাজার টাকা।

আই.এ/

মন্তব্য করুন