ভোলায় যৌতুকের দায়ে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় যৌতুকের দায়ে পারভিন বেগম (১৯) নামের এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মো. সোহাগের বিরুদ্ধে।

সোহাগ ও তার পরিবারের লোকজন গৃহবধু পারভিনকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে অপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের ভাই মো. শাহিন। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহত পারভিন তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আড়ালিয়া গ্রামের মো. মুজাহার বেপারীর মেয়ে। বুধবার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের চকডোস গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পারভিন বেগমের ভাই মো. শহিন অভিযোগ করে বলেন, গত চার মাস আগে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া উইনিয়নের চকডোস গ্রামের তাজুল ইসলামের দিনমজুর ছেলে মো. সোহাগের সাথে পারভিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সোহাগ দেড় লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে তারা নগদ এক লাখ টাকা দেয়। এবং বাকী ৫০ হাজার টাকা পরে দিবে বলে।

বিয়ের কিছু দিন পর এ টাকার জন্য পারভিনকে চাপ প্রয়োগ করে সোহাগ। কিন্তু এ টাকা দিতে না পারায় সোহাগ বিভিন্ন সময়ে পারভিনকে মারধর করতে থাকে। এমনকি কয়েকবার টাকার জন্য মারধর করে পারভিনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। পরে স্থানীয়রা শালিশ করে পুনরায় পারভিনকে সোহাগের বাড়িতে পাঠায়।

সর্বশেষ বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে সোহাগের মা শেফালী বেগম তাদেরকে ফোন করে পারভিন বিষ খেয়ে মারা গেছে বলে খবর দেয়। তারা এসে পারভিনকে সোহাগের বাড়িতে না পেয়ে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে খোজ নেয়। সেখানেও না পেয়ে বৃহষ্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তারা বোরহানউদ্দিন থানায় আসে। থানায় এসে মামলা করতে চাইলে পুলিশ তাদেরকে প্রায় দুই ঘন্টা বাসিয়ে রেখে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

শাহিন আরো জানায়, পারভিনের স্বামী সোহাগ ও শ্বাশুরী শেফালী বেগম পারভিনকে যৌতুকের জন্য মারধর করে হত্যা করে বিষ পানের নাটক সাজিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমরা মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তারা এঘটনায় সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন। সেই সাথে সোহাগ ও তার পরিবারের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তারা।

এঘটনায় অভিযুক্ত সোহাগের মোবাইলে ফোন করলে তার মা শেফালী বেগম জানান, এঘটনার সময় তিনি এবং তার ছেলে সোহাগ ঘরে ছিলো না। তারা রাত ৮টার দিকে ঘরে এসে দেখেন পারভিন বেগম বিষ খেয়েছে। তখন তিনি পারভীনকে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে রাতেই সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার মৃত্যু হয়। পরে তিনি পারভিনের পরিবারকে বিষয়টি জানায়।

শেফালী বেগম আরো বলেন, মাঝে মধ্যে সোহাগ ও পারভিনের মধ্যে ঝগড়া হতো। এতে তিনি সোহাগকে রাগারাগি করতেন। তবে পারভিন কেনো বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে সেটি তিনি জানে না।

এব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও হাসপাতালের তথ্য মতে পারভিন বেগম বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রমানিত হয়েছে। তাই এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কেনো আত্মহত্যা করেছে সেটি ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে বলা যাবে’।

তিনি বলেন, ‘তাকে কেউ হত্যা করেনি বিধায় আমরা হত্যা মামলা নিতে পারবো না। আমরা একটি লোককে কেনো শুধু শুধু হত্যা মামলার আসামী করবো।’

/এসএস

মন্তব্য করুন