সাংবাদিক মারলে কিছু হয় না, উল্টো মামলা দিয়ে সাংবাদিকদেরই হয়রানি করা হয়

প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০

বাংলাদেশে একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক উল্টো মামলা দিয়ে সাংবাদিকদেরই হয়রানি করা হয়৷ বিশ্লেষকেরা মনে করেন প্রশাসনের উদাসীনতাই এই ধরনের ঘটনা উস্কে দিচ্ছে ৷ ডয়চে ভেলে।

নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের প্রতিধ্বনি হিসেবে কাজ করে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকেরা। কোনো সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হলে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায়; কিন্তু যখন কারো কাছে ন্যায়বিচার না পান, তখন সাংবাদিকদের সেটা জানান।

সাংবাদিকেরা তাদের কলমের মাধ্যমে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যবস্থার চেষ্টা করেন। দুর্নীতি ও অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলস পরিশ্রম করে যান, কিন্তু বিনিময়ে কী পান? বিশেষ করে মফস্বলের সাংবাদিকেরা কী পান? তাদের ভাগ্যে কী জোটে? কোনো কোনো সময় যে পত্রিকার জন্য তারা পরিশ্রম করে, সেই পত্রিকার কর্তৃপক্ষও তাদের পাশে থাকে না।

তারা দুর্দিনে কাউকে কাছে পান না। হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন তাদের নিত্যসঙ্গী। সব কিছু মাথায় রেখে তারা দেশ ও জাতি এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যায়।
এখন প্রশ্ন হলো সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী মারলে বা পেটালে অথবা হত্যা করলে কী হয়? তারা কি কখনো ন্যায়বিচার পান, তাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা আছে? তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা আছে? রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা কখনো কি তাদের নিরাপত্তার জন্য কখনো কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন?

রাষ্ট্রের সহায়ক হিসেবে তারা কাজ করে যান, অথচ তাদের স্বীকৃতি নেই। তাই সময় এসেছে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন করা। সব সাংবাদিকের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবি তোলা উচিত, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিকার হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করা। অন্যথায় কালে কালে, যুগে যুগে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা মার খেতে থাকবেন ও নির্যাতন এবং নিপীড়নের শিকার হবেন।

 

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা দিনদিন বেড়ে চলছে৷ শনিবার সিটি নির্বাচনের দিন কমপক্ষে চারজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। নির্বাচনের পরের দিন রোববার দু’জন সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় আনা হয়নি।

গেন্ডারিয়া এলাকায় নির্বাচনের দিন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক সাংবাদকর্মীসহ তিন সাংবাদিক। মোহাম্মদপুরে আরেক সাংবাদিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দুর্বৃত্তরা। গেন্ডারিয়ার ঘটনায় হামলাকারীরাই থানায় জিডি করেছে। অবশ্য এরইমধ্যে হামলায় নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রলীগ নেতা শহীদুল আলম রিয়াদকে ছাত্রলীগ বহিস্কারের কথা জানিয়েছে৷ তবে পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি।

নির্বাচনের পরের দিন রোববার বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতার খবর সংগ্রহ করতে যান মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপার্সন৷ এসময় সেখানে তাদের ওপর হামলা হয়। নব নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আইউব আনছারের সমর্থকরা এর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা এবং প্রতিকার না পাওয়া বাংলাদেশে এখন সাধারণ ঘটনায় পরিনত হরেছে। মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ রেজোয়ানুল হক বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের ওপর শুধু হামলা নয়, তাদের বিভিন্ন সময় হত্যাও করা হয়েছে। কোনো অপরাধী চক্র বা দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে যখনই কেউ কাজ করতে গিয়েছে, হয় তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন নয়তো জীবন দিতে হয়েছে।

এইসব ঘটনার কখনই কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। ফলে অন্যরাও সাংবাদিক নির্যাতনে উৎসাহিত হয়েছে। আজকেও (মঙ্গলবার) আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, ইলেকশনের দিন যা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তাহলেতো অন্যরা উৎসাহিত হবে, ভাববে এর কোনো বিচার হবে না।”

মহিন মুহসিন/পাবলিকভয়েস 

মন্তব্য করুন