পুলিশের ভুলে অপরাধ না করেও কারাগারে শাহীনুর রহমান

প্রকাশিত: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

নামে মিল থাকায় অপরাধ না করেও কারাগারে রয়েছেন শাহীনুর রহমান নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী।

তাকে যুবলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন রাসেল হত্যার আসামি হিসেবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, অথচ শাহীনুর রহমান ওই ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত নন এবং আসামিও নন বলে দাবি তার পরিবারের। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শাহীন আহম্মেদ নগরীর শিরোইল কলোনির পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নাসির উদ্দীনের ছেলে। অথচ পুলিশ গ্রেফতার করেছে শিরোইল কলোনি এলাকার বাসিন্দা শাহীনুর রহমানকে।

জানা গেছে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর পশ্চিম রেলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এক সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে সানোয়ার হোসেন রাসেল নামে এক যুবলীগ নেতা নিহত হন।

এ ঘটনায় সানোয়ারের ভাই মনোয়ার হোসেন ওইদিনই বাদী হয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় শাহীন আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

জানা গেছে, শাহীনুর রহমানের বাবার নাম নূর মোহাম্মদ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন। আর শাহীনুর রহমানকে গ্রেফতার করে আনে ওই থানার তদানীন্তন এসআই শাহীন। তখন চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন গোলাম মোস্তফা, যিনি এখন রাজশাহী শহরেই গোয়েন্দা পলিশে কর্মরত।

ঘটনার দিন (১৩ নভেম্বর) তার ছেলে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে। পরের দিন শাহীনের বিভাগে ভাইভা পরীক্ষা ছিল, তাই পাড়ার মোড়ে স্যালুনে শেভ করতে যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়।

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামলার বাদী থানায় গিয়ে বলেন, এই ছেলে ঘটনা সময় সেখানে ছিল না, ওকে ছেড়ে দিন। এই সময় ওসি গোলাম মোস্তফা কৌশলে আগের এজাহার বাদ দিয়ে নতুন এজাহার তৈরি করে মামলার বাদী মনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মুনির বলেন, মামলাটি যখন এজহারভুক্ত হয় তখন আমি এ থানায় ছিলাম না। আমি আশ্বস্ত করতে পারি মামলার তদন্ত চলছে, কোনও ব্যক্তি নিরপরাধ হলে তা তদন্তে বের হয়ে আসবে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন