চীনে ছড়িয়ে পড়া ‘করোনা ভাইরাস’ বিষয়ে সতর্ক করলেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

নিউইয়র্ক থেকে ফেসবুক লাইভে এসে চীনে ছড়িয়ে পড়া রহস্যজনক ‘করোনা ভাইরাস’ সম্পর্কে বাংলাদেশের সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ব্যাক্তি ব্যারিস্টার সুমন।

রহস্যময় এই ভাইরাস সম্পর্কে আমেরিকার সতর্ক ব্যবস্থার বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনে এই ভাইরাস দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং চীনের বেশিরভাগ প্রদেশেই জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে। যে কারণে আমেরিকায় এই ভাইরাস যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে এই দেশের প্রত্যেকটি বিমানবন্দরেও নেওয়া হয়েছে কড়া সতর্ক ব্যবস্থা।

ঢাকার জনবহুল অবস্থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটি অনেকাংশেই ভয়াবহ প্রকৃতির এবং দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখা একটি ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে প্রায় ২৬ জনের মত নিহত হয়েছে এবং কয়েক হাজার লোক মারাত্মকভাবে ইনফেক্টেড হয়েছে। তাই কোনভাবে যদি বাংলাদেশে এই ভাইরাস প্রবেশ করে তাহলে বেশ বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিশেষ করে ঢাকার মত জনবহুল অঞ্চলে এই ভাইরাস মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে ঢাকা বিমানবন্দরসহ প্রতিটি জায়গায় কড়া সতর্ক ব্যাবস্থা তৈরি করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যেহেতু ঢাকা সিটিতে মেয়র নির্বাচন নিয়ে সবাই ব্যাস্ত তাই এই ব্যাস্ততার সূত্র ধরে এমন একটি বিপর্যয় যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে সবার সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরী বলেও মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার সুমন।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি : এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে ডয়চে ভেলের এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, চীনে প্রাদুর্ভাব হওয়া ‘করোনা ভাইরাস’ এর বিস্তার রোধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানিং শুরু হয়েছে সোমবার থেকে৷ এ বিষয়ে বিমানবন্দরের কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দিয়েছে আইইডিসিআর৷

আইইডিসিআর- এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এস এম আলমগীর জানান, ‘‘চীনের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে৷ এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর প্রমাণ তারা এখনো পাননি বলে আমাদের জানিয়েছেন৷”

চীন ছাড়া অন্য কোনো দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর এখনো পাওয়া যায়নি৷ তবে থাইল্যান্ড ও জাপানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে বলে জানান ডা. এস এম আলমগীর৷

সোমবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মী , চিকিৎসক এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত কর্মীদের থার্মাল স্ক্যানিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়৷ এদিন থেকেই যাত্রীদের থার্মাল স্ক্যানিং শুরু হয়েছে৷ বিশেষ করে চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, হংকং এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যে যাত্রীরা বিমানে আসছেন তাদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে৷

ডা. এস এম আলমগীর বলেন, ‘‘চীনের উহান থেকে কোনো ফ্লাইট সরাসরি ঢাকায় আসে না৷ কিন্তু আমরা আশঙ্কার জায়গা থেকে চীনসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের থার্মাল স্ক্যানিং-এর পরামর্শ দিয়েছি৷ একই সঙ্গে আইইডিসিআর-এর চিকিৎসকদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে৷ আইইডিসিআর ৪টি হটলাইন নাম্বার চালু করেছে সার্বক্ষণিক সহায়তা দেয়ার জন্য৷

‘‘করোনা-এন ভাইরাস নতুন হওয়ায় এখনো ভাইরাসটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি৷ তবে ভাইরাসটি মার্স এবং সার্সের চেয়ে কম সিভিয়ার, এটা আমরা বুঝতে পারছি৷ এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মত কোনো কারণ এখনো নাই৷”

তিনি ভাইরাসে আক্রান্তদের লক্ষণ সম্পর্কে বলেন, জ্বর দিয়ে শুরু হয়৷ এরপর কাশি, গলা ব্যথা৷ অনেকের তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় এবং নিউমোনিয়া ডেভেলপ করে৷ বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানারে জ্বর থাকলে ধরা পড়বে৷ স্ক্যানারটা এমনভাবে সেট করা যে ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা হলেই কম্পিউটারের মনিটরে লাল সিগন্যাল দেখা যায়৷”

বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, ‘‘এই ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ প্রকাশ পায় দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে৷ তাই আমরা এখন চীন থেকে যে যাত্রীরা আসছেন তাদের সবাইকে একটি কার্ড দিয়ে দেব৷ তাতে যোগাযোগের নম্বর, ঠিকানা ও ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ সব কিছু লেখা থাকবে৷ যদি লক্ষণ দেখা যায় তাহলে তাকে আমরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও আইইডিসিআর-এ নিয়ে পরীক্ষা করব৷ আরো কয়েকটি দেশেও এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর আমরা পাচ্ছি৷ ওইসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাপারেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে৷”

বিমান বন্দরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এখন মোট চিকিৎসক চারজন৷ ওই চারজন মিলিয়ে মোট জনবল ২০ জনের বেশি না বলে জানা গেছে৷ ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, ‘‘বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারের আলাদা টেকনিশিয়ান আছে৷ সাধারণ যাত্রীদের জন্য দুইটি এবং ভিআইপি যাত্রীদের জন্য একটি মোট তিনটি স্ক্যানারে আমরাও রাউন্ড দ্য ক্লক লোক রাখার ব্যবস্থা করেছি৷ আর এখানে হাসপাতাল নাই৷ চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমরা বাইরের হাসপাতালের সহায়তা নেবো৷”

অপরদিকে এ বিষয়ে গত রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, বিশ্বসাস্থ্য সংস্থা থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় সরাবিশ্বে এ বিষয়ে এলার্ট জারি করা হয়েছে।

এই কর্মকর্তা আরো জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগযোগ করেছে। তারা আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে অবগত করেছেন। রোগটি নির্ণয়ে বেশ কিছু যন্ত্রাংশও বসানো হবে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

সাজ্জাদ আরো বলেন, এই রোগের উপসর্গ জর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। করনো ভাইরাস বিষয়ে ধারনা আছে। যদি কাউকে দেখা যায় এই ভাইরাস নিয়ে এয়ারপোর্টে এসেছেন তার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনা ভাইরাসের আগে এর পূর্বে বিশ্বব্যাপী ‘সোর্স’ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলো বিশ্ব। ‘সোর্স’-এর মতো করেই ভয়াবহ ভাবে ছড়াচ্ছে এই ‘রহস্যজনক’ ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ঠাণ্ডাজনিত এই ভাইরাসটি অনেকটা ‘সোর্স’ ভাইরাসের মতোই ভয়ঙ্কর। ‘সোর্স’ ভাইরাসে ২০০২-০৩ সালে চীন ও হংকংয়ে ৬৫০ জনেরও বেশি লোক মারা গিয়ে ছিলো।

মন্তব্য করুন