শিবির সন্দেহে ঢাবিতে ৪ শিক্ষার্থীকে ‘রাতভর নির্যাতন’

প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে হলের মধ্যে পিটিয়ে হত্যার চার মাস যেতে না যেতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে চার শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের নির্যাতন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্যাতনের পর আহত শিক্ষার্থীদের হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় নেয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরীকে শিবির সন্দেহে গেস্টরুমে ডেকে আনে তারা। সে শিবির করে কিনা তা জানার জন্য শুরুতে মানসিকভাবে চাপ দেয়া হয়। স্বীকার না করায় পরে মারধর করা হয়।

পরে তার ফোনের কললিস্ট দেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেনকে গেস্টরুমে ডেকে এনে তাকেও বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মারধর সহ্য করতে না পেরে উভয়ই মেঝেতে বসে ও শুয়ে পড়ে।

এর একটু পর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন এবং একই বর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীনকে ধরে এনে রাত দুটা পর্যন্ত তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

এ সময় হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, হল সংসদের সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্তসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা সেখানে ছিলেন।

পরে রাত ২টার পর তাদের প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে সকালে পুলিশ তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্যাতনের বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা তাদের মারধর করেনি। শুধু জিজ্ঞাসা করেছি। তাদের কাছ থেকে শিবিরের দুটি বই উদ্ধার করেছি।

ছাত্রলীগের নেতারা ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিবির সংশ্লিষ্ট বউ উদ্ধারের কথা দাবি করলেও তারা সেগুলো সংবাদমাধ্যমকে দেখাতে পারেননি। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েক দফা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা হল প্রশাসনের মাধ্যমে এ বিষয়ে অবহিত হয়েছি। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যদি ওই (নির্যাতনের শিকার) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাবিরোধী জাজে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া না যায় তাহলে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না, এটা আমরা বলে দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলমান থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের নেতারা কীভাবে শিক্ষার্থীদের মারধর করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও তো শৃঙ্খলা ভঙ্গ। যে বা যারাই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন