সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হলো দৈনিক সংগ্রাম

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রাচীন পত্রিকার মধ্যে অন্যতম পত্রিকা ‘দৈনিক সংগ্রাম’ এর সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর সৃষ্ট সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী আজ’ শিরোনামে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) আজ পত্রিকাটির সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে।

ডিএফপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করায় পত্রিকাটি কোনো সরকারি বিজ্ঞাপন পাবে না এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবে।

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, প্রাচীন এই জাতীয় দৈনিকটি ১৯৭০ সালের ১৭ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পূর্বে ও যুদ্ধের সময় দৈনিক সংগ্রাম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে কাজ করে পত্রীকাটি। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে ও স্বাধীনতার বিপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে দৈনিক সংগ্রামের মাধ্যমে প্রচার চালায় বলেও একটি অভিযোগ রয়েছে। সে সময় জামায়াত ও ছাত্রসংঘের নেতা গোলাম আযম ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য অপারেশন সার্চলাইটের পর থেকে সংগ্রাম পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হত। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত ও সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন।

প্রাচীন এই জাতীয় দৈনিকটির সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন বর্ষীয়ান লেখক ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রবীন সাংবাদিক আবুল আসাদ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই আবুল আসাদ দৈনিক সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭০ সালে ১৭ই জানুয়ারী দৈনিক সংগ্রামে সহকারী সম্পাদক হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি দৈনিক সংগ্রামে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৮১ সালে তিনি পত্রীকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জামায়াতে ইসলামীর দলীয় পত্রীকা হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে দৈনিক সংগ্রামের। এক সময় পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলো। বিশেষ করে বর্ষীয়ান লেখক আবুল আসাদের কলাম পড়ার জন্য পত্রীকাটি পড়তো অনেকেই কিন্তু ধিরে ধিরে পত্রীকাটির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে এবং প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে দৈনিক সংগ্রাম চলার পথ অব্যহত রাখলেও সরকারী খড়গে পড়েনি কখনও। সরকারি মিডিয়া তালিকায় নাম ছিলো এটির কিন্তু আজ সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে পত্রীকাটির মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করা হলো।

প্রসঙ্গত : গত ১২ ডিসেম্বর প্রাচীন এই জাতীয় দৈনিকটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত হয়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মরহুম আ. কাদের মোল্লাকে শহীদ আখ্যা দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর বিতর্কিত সংগঠন ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’ এর নেতাকর্মীরা তার পরের দিন ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দৈনিক সংগ্রামের মগবাজারস্থ প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালায়। সাথে সাথে নাজেহাল করা হয় পত্রীকাটির সম্পাদক আবুল আসাদকেও এমনকি তাকে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করেন তারা। যা নিয়ে প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন অনেক সচেতন সাংবাদিকরা। এরপর আবুল আসাদকে পুলিশী হেফাজতে নিয়ে নেওয়া হয় এবং সর্বশেষ আজকে পত্রীকাটির মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন