নোয়াখালী দ্য গ্রেট: শাড়ি-লুঙ্গি পরে ভার্সিটিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

নোয়াখালীকে নিয়ে কতরকমই না ট্রল হয়। ঢাকা থেকে নোয়াখালী গেলে বলে ভিনদেশে যাই। ‘স্ট্যাট অব নোয়াখালী’ লিখে চেক ইন দেয় ফেসবুকে। কোনো আসরে নোয়াখালীর দু’চারজন থাকলেই হলো। আড্ডা জমাতে আর কিছু লাগে না। যে যাই বলুক নোয়াখাইল্যারা আসলেই পারে।

ব্যতিক্রমি এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সেটাই দেখালো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। লুঙ্গি পরে ক্লাসে প্রবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা; আর ছাত্রীরা পরেছে শাড়ি। শাড়ি-লুঙ্গি পরে ক্লাস করায় ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হতেই ভাইরাল হয় এসব দৃশ্য।

অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন বেশভুষা দেখে হতবাক হয়েছেন। তবে প্রশংসাও করেছেন তারা। শিক্ষার্থীরা এমন পোশাকে দেখে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে সমালোচকরা।

জানা গেছে, কৃষক ও কিষাণীদের প্রতি সম্মান জানাতে গত ১৯ জানুয়ারি এমন অভিনব উদ্যোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের কৃষকরা অবহেলিত। ঠিকমতো দুবেল ভাত জুটেনা তাদের। অশিক্ষিত উল্লেখ করে প্রাপ্য সম্মানটুকুও দেয়া হয়না কৃষকদের। তাই বিদ্যাপীঠের সর্বোচ্চ শ্রেণিতে কৃষক-কিষাণীর পোশাক পরে ক্লাস করে তাদের সম্মান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে নবিপ্রবির কৃষি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আল আমীন আকাশ বলেন, ‘ক্যাম্পাস লাইফের শেষ ক্লাসকে স্মরণীয় রাখতে এমনটা করেছি আমরা। বাঙালির ঐতিহ্য এবং কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং কৃষক ও কিষাণীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মেয়েরা শাড়ি এবং ছেলেরা লুঙ্গি পরে গামছা মাথায় বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ক্লাস করেছি।’

অন্য আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাস ছিল। খুব আবেগঘন ও স্মৃতিময় সে সময়। আর শিক্ষাজীবনের সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আমরা ব্যাতিক্রমী কিছু স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলাম। যেহেতু আমাদের পঠিত বিষয় কৃষি। তাই এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানাতে সবাই এই ধরনের পোশাক পরার সিদ্ধান্ত নিই।’

/এসএস

মন্তব্য করুন