নির্বাচন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করছে: অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, বিগত নির্বাচনগুলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমুলক না হওয়ায় এখনো জনমনে শঙ্কা, সংশয়, উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। জনগণের সংশয় ও সন্দেহ দূর করতে না পারলে নির্বাচন থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না, তখন দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নির্বাচনের প্রতি সাধারণ মানুষকে আগ্রহশীল করে তুলতে হবে। এক প্রশ্নে জবাবে মহাসচিব বলেন, ইভিএমে শুকঙ্করের ফাঁকি আছে। জাল জালিয়াতি বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো ইভিএম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে। এদেশে নতুন করে ইভিএম আমদানি করা হয়েছে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করার জন্য। তিনি বলেন, দেশবাসী সতর্ক ও সজাগ থাকলে কোন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করে কেউ পার পাবে না।

আজ বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারের সুচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইযূম, দক্ষিণ নির্বাচন সমন্বয়কারী আব্দুল আউয়াল মজুমদার, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলান দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, শ্রমিকনেতা হারুন অর রশিদ, ছাত্রনেতা মুহা. আব্দুল জলিল, মুফতী মোস্তফা কামাল, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম, মুহিব কাজেমী, মুফতী ছিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

নির্বাচনী ইশতেহারে লিখিত বক্তব্যে আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকা আমাদের প্রিয় ও গর্বের শহর। দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৯ বছর। ৪৯ বছরের মধ্যে ঢাকা সিটিতে অনেক চেয়ারম্যান, প্রশাসক ও মেয়রগণ আসীন ছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়ন ও কাম্যমানের নাগরিক সুবিধা প্রদানের কথা বলে ঢাকা সিটিকে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। সরকার নিয়োগ দিয়েছিলেন জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে দু’জন সরকারী কর্মকর্তাকে। নাগরিকগণ একান্ত আশাবাদী ছিলেন সরকারী পদস্থ কর্মকর্তাগণ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তিতে সিটি কর্পোরেশনের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু সে আশা দূরাশায় পর্যবসিত হয়েছে। ইতিপূর্বে নির্বাচিত মেয়রগণ সিটির উন্নয়নের জন্য, সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য বারংবার সিটির জনগণের সাথে মুখরোচক বহু ওয়াদা দিয়েছেন। কেউ ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওয়াদা করেছেন, কেউবা মেগাসিটিতে উন্নীত করার কথা বলেছেন। কেউ আবার বিশ্বমানের মহানগরী গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কেউ আধুনিক ডিজিটাল মহানগরী গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, দূর্ভাগ্যবশত বিগত মেয়রগণের দেয়া সকল ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি, দেখানো সকল স্বপ্ন ও ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অকার্যকর ও অন্তঃসারশূন্য ফাঁকা বূলিতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা আজ বসবাসের অনুপোযোগী একটি সিটিতে পরিণত হতে চলেছে। বিশ্বের নোংরা ও পরিবেশ দূষণ সিটিগুলোর ১নং তালিকায় ঢাকা সিটির নাম উঠেছে। পরিবেশ দূষণ, যানজট, ধুলা-বালু, বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক সঙ্কট, অপ্রতুল পানি সরবরাহ, অনেক সময় সাপ্লাইকৃত পানি মুখে নেয়া যায় না, নিত্য ব্যবহার্য কাজ-কর্মে পানি ব্যবহার করা যায় না, পানি দিয়ে দূর্গন্ধ আসে, রোগ-ব্যাধির আধিক্য, ঠিকমত গ্যাস সরবরাহ থাকে না এছাড়া জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, খাবারে মারাত্মক ভেজাল, হাইজ্যাক-ছিনতাই, মাদকদ্রব্যের অবাধ ছড়াছড়ি, জান-মালের নিরাপত্তার মারাত্মক হুমকী, শিক্ষার পরিবেশ সঙ্কট, যানজটের কারণে কোন কাজই ঠিকভাবে করা যায় না, গন্তব্যে ঠিক মত পৌঁছা যায় না।

আব্দুর রহমান বলেন, ঢাকা সিটির এ দূরাবস্থার জন্য মূল কারণ হল- দুর্নীতি, টেন্ডারবাজী, অপরিকল্পিত কর্মকান্ড ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ক্ষমতাসীন দলের অশুভ প্রভাব-প্রতিপত্তি। এ কারণে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড টেকসই হয় না। সিটি কর্পোরেশন আজ একটি অশুভ কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠির সিন্ডিকেটে পরিনত হয়েছে। তা না হলে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা সিটির এ করুন দশা হতে পারে না। এ সিন্ডিকেটের কারনেই ঢাকা সিটি আজ বিশ্বের অন্যতম মানব বসবাসের অনুপযোগী সিটিতে পরিনত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য সিটির তুলনায় ঢাকা সিটির পরিবেশ দুষণের সূচক অনেক উর্ধে। ঐতিহ্যবাহী-গৌরবময় ঢাকা আজ অনেকটা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, অশুভ কায়েমী স্বার্থবাদী সিন্ডিকেটকে অবশ্যই ভাঙতে হবে। নোংরা রাজনীতির প্রভাব-দৌরাত্ম থেকে ঢাকা সিটিকে রক্ষা করতে হবে। জনজীবনে স্বস্তি ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। নগরকে বসবাসোপযোগী শান্তির নগরীতে পরিনত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন আমূল পরিবর্তনের। দরকার ব্যাপক সংস্কারের। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগের। প্রয়োজন সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বের।

আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বলেন, এ বাস্তবতা সামনে রেখেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষে আমি ২৯ দফা কর্মসূচী সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছি এবং দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি, নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত কর্মসূচীসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং সকলের সহযোগীতা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে জনদুর্ভোগ মুক্ত একটি উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শান্তির নগরী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করব, ইনশাআল্লাহ্।

/এসএস

মন্তব্য করুন