যেখানে পথশিশুদের স্বপ্ন ডানা মেলে

‘পথের ইশকুল’

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২০

সুবিধা বঞ্চিত শিশু। আরেকটু পরিস্কার করে বললে পথশিশু। অন্য দশটা শিশুর মতো যারা বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে মৌলিক অধিকার শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান থেকে বঞ্চিত। এমন শিশুদের নিয়ে কাজ করছে ‘পথের ইশকুল’।

রাজধানীর শনিরআখড়ায় পথের ইশকুলের শিক্ষার্থী ও পরিচালকদের সাথে কথা বলেন ‘পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম’ এর দনিয়া কলেজ প্রতিবেদক ইউসুফ পিয়াস, চিত্রগ্রহণে ছিলেন মুহসিন মোল্লা

পথের শিশুদের ইশকুল। শিক্ষার প্রাথমিক হাতেখড়ি। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এসব শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দিতে পথেই স্কুল কার্যক্রম পরিচালনা করে ‘পথের ইশকুল’। ইভেন্ট নাম যা সংগঠনের নামও তা-ই।

অর্থাৎ ‘পথের ইশকুল’ একটি সুবিধা বঞ্চিত শিশু শিক্ষা সংগঠন। ২০১৬ সালের ৩১ডিসেম্বর পথচলা শুরু হয় এ সংগঠনের। এরপর থেকে পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে সংগঠনের কর্মীরা।

রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চ পার্কে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে ‘পথের ইশকুল’। বর্তমানে সেখানে ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা সবাই পথশিশু। এরপর সংগঠনটি কার্যক্রম শুরু করে শনিরআখড়ায়।

শনিরআখড়ায় দনিয়া কলেজ এর সামনের রাস্তায় খোলা আকাশের নিচেই চলে ‘পথের ইশকুল’ এর পড়াশুনা। কলেজ সংলগ্ন ফুটপাতে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা পাঠ গ্রহণ করে এসব পথশিশু।

‘পথের ইশকুল’র সহকারী প্রধান সমন্বয়ক উম্মে সালমা আক্তার ঊর্মি বলেন, আমরা কার্যক্রম শুরু করি গুলিস্তানে। সেখানে প্রায় ৪ বছর ধরে চলছে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম। আমি এই এলাকায় থাকি। মাটি ভাইর একটা দোকান আছে। এখানে আমরা আসতাম। তখন এদেরকে দেখে আমরা পরামর্শ করে এখানে কাজ শুরু করি।

৩জন শিশুকে নিয়ে শুরু করার পর এখন ৩২জন শিশু পথের ইশকুলের শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে বলে জানান উর্মি। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষার বেসিক শিখিয়ে এইসব পথশিশুদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।

উর্মি বলেন, পথের ইশকুল এর মূলত লক্ষ্য হচ্ছে পথশিশুদের ফর্মাল এডুকেশনের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। পথের ইশকুলে প্রস্তুতি শেষে তাদেরকে মেইনস্ট্রিমে স্কুলে ভর্তি করানো হয় এবং তারা খুব সহজেই সমাজের আর দশটা বাচ্চাদের মতো স্বপ্ন দেখা শুরু করে।

পথের ইশকুলের আরিফ ও বিজয় নামে দু’জন শিক্ষার্থী বর্তমানে একটি আবাসিক স্কুলে পড়ছে। আরিফ তৃতীয় শ্রেণীত এবং বিজয় পড়ছে চতুর্থ শ্রেণীতে।

‘পথের ইশকুলের শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি হস্তলিপি এবং আঁকিবুকি শিখানো। প্রায় অর্ধশতাধিক বলন্টিয়ার স্বেচ্ছাশ্রমে এ সংগঠনের সাথে কাজ করে জানান সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক সাকির ইব্রাহিম

সাকির বলেন, সামাজিক সুবিধা ও মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনদের স্নেহ-ভালোবাসা বঞ্চিত শিশুরাই আমাদের শিক্ষার্থী। আমাদের বলান্টিয়াররা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে স্নেহ-মায়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দেন। এতে করে বাচ্চারাও আনন্দচিত্তে প্রতিদিন সময় মতো চলে আসে। আনন্দে কিছুটা সময় কাটে তাদের। সেই সাথে গ্রহণ করে জ্ঞানার্জনের প্রাথমিক পাঠ।

প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি উপযোগী হওয়ার পর সাধ্যমতো ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে তাদের সার্বক্ষিণক খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি যেসব শিশুদের থাকার জায়গা নেই তাদেরকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা যোগ করেন সাকির ইব্রাহিম।

সাকির বলেন, আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের সাধ্যমতো আর্থিক অনুদান দেই। সেটুকু দিয়েই আমাদের কার্যক্রম চলে। প্রাথমিক অক্ষরজ্ঞান দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার স্বপ্ন বুনে দেই প্রতিটি পশশিশুদের মনে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এসব শিশুদের ভর্তি করতে উদারতা দেখায় এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তবে এরাও উপযুক্ষ শিক্ষা অর্জন করে সামাজিক অবদান রাখতে পারবে।

বলা হয়, সাধ আছে সাধ্য নেই। আসলেই যারা কাজ করে তাদের সাধ্য নেই। যেমনটা ‘পথের ইশকুল’রও নেই। সমাজের বিত্তবানরা যদি সামাজিক এসব কাজে এগিয়ে আসেন আর উদার দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন তবেই প্রতিষ্ঠিত হবে সামাজিক ভারসাম্য। পথশিশুরা খুঁজে পাবে আশ্রয়। পবে মৌলিক অধিকার। পাবে বেঁচে থাকার অধিকার। আর এজন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা।

ভিডিও প্রতিবেদন দেখতে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন