দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে রামগঞ্জের বীরেন্দ্র খাল

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

পারভেজ হোসাইন, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ লোকের বসবাস।এই রামগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাল বীরেন্দ্র খাল। প্রয়োজন ও গুরুত্ব থাকলেও দখল-দূষণে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী এ খালটি।

রামগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা প্রায় সবগুলো অবৈধ দখল-দুষনে প্রায় অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়েছে। উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা খালগুলোর মধ্যে উপজেলার কাটাখালীর টেক থেকে ডাগ্গাতলী পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর খালের অংশ, পূর্ব রামগঞ্জের আশারকোটা, কোমরতলা, পানিয়ালা বাজারের পার্শ্ব দিয়ে হাজিগঞ্জ হয়ে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেশকিছু কারখানা, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর তরল বিষাক্ত দূষিত বর্জ্য ছাড়াও দখল ও ভরাট এর কারণে খালগুলো পরিণত হয়েছে নালায়। দূষিত বর্জ্যরে দূর্গন্ধে খালপাড়ের মানুষগুলোর জীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ।

এ অবস্থায় খাল সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দূষিত বর্জ্য ফেলা বন্ধের দাবী করেন উপজেলাবাসী। রামগঞ্জ উপজেলা পরিবেশ অধিদফতর,পৌর মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এ ছাড়া আরো কয়েকটি খাল রয়েছে যার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এক সময় এসব খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। এখন একদিকে দখল আরেকদিকে দূষণ। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খালের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকান, বাড়িঘর।

এদিকে খালের পাশে থাকা নির্মিত অধিকাংশ ঘাটলা দখল করে রেখেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এই ঘাটলাগুলো দিয়ে আগে মানুষ গোসল এবং প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতেন। দুর্ঘটনার সময় ফায়ারসার্ভিস ও এলাকাবাসির প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্ঘটনা নির্মূল করা হতো। কিন্ত এখন খাল সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসি, ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী মানুষের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব রামগঞ্জের আশারকোটা, কোমরতলা, পানিয়াল ও রামগঞ্জ পৌর সোনাপুর বাজারের কয়েকটা প্রভাবশালী ব্যবসায়ীমহলের কারনেই খালের এই মরণদশা। যেমন মিষ্টির দোকান, মুদি দোকান, ঔষধের দোকান, ফলের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোর যাবতীয় বর্জ্য এই খালে ফেলা হয়। ফলে পরিবেশ দূষণ ও মানুষের দুর্ভোগ দিনদিন বেড়েই চলছে।

স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টির কামন করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, রামগঞ্জ টু হাজিগঞ্জ এলাকায় যে বীরেন্দ্র খালটি রয়েছে এ খালের বিষয়ে ডিসি মহোদয় বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের রামগঞ্জ অংশের খালটির খনন কাজ অচিরেই শুরু করা হবে।

বিরেন্দ্র খালের ব্যাপারে মামলা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

এ ব্যাপারে আরো জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই খালগুলো অবৈধ দখল হয়ে যায়। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা শেষে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসএস

মন্তব্য করুন