রাবির জোহা হলের আতঙ্ক ছিলেন ছাত্রলীগের সেই দুই কর্মী

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলকে নিজেদের সাম্রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন ছাত্রলীগের দুই কর্মী নাহিদ ও আসিফ লাক। নিজেদের খেয়ালখুশি মতো হলের সিট বাণিজ্য চাঁদাবাজি, মাদকসেবন সহ নানান ধরনের অপকর্মের মাধ্যমে এই হল কি তারা গড়ে তুলেছিলেন তাদের আখড়া হিসেবে।

হলের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের কথায় কথায় লাঞ্ছনা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরকে চুরি ও মাদক সেবনের অপবাদ দিয়ে চাঁদা আদায়, রীতিমতো জিম্মি করার ঘটনা ঘটাতো সেই দুই ছাত্রলীগ কর্মী। শুধু হল নয় ক্যাম্পাসেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের এই দুই কর্মী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলে সিট বাণিজ্যের গডফাদার হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন ছাত্রলীগের এই দুই কর্মী। তাদের নজরদারি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী হলে উঠতে পারতো না। একজন শিক্ষার্থীকে হলে উঠার জন্য তারা প্রতি সিটের জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা করে নিতো। এছাড়া অসহায় শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে নিয়মিত চাঁদা আদায়ও করতো এই দুই ছাত্রলীগ কর্মী।

জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, এরা হলের ডাইনিংয়ের ছাদে প্রায় বহিরাগতদের নিয়ে এসে গাঁজা সেবন করে। ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না৷ এরা প্রত্যেক রুমে গিয়ে কে কবে চলে যাবে সেটার খোঁজখবর রেখে বড়ভাইদের দ্রুত হল থেকে চলে যাওয়ার আলটিমেটাম দেয়। যেখানে প্রশাসন নিশ্চুপ।

এছাড়া সবশেষ, গত ১৪ নভেম্বর পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে আবারো আলোচনায় আসেন নাহিদ। তার একদিন পরই শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব মিয়াকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় ছাত্রলীগের এই দুই কর্মী।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করলেও ছাত্রলীগ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে নিশ্চিত করেছেন ওই ঘটনার তদন্ত কমিটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সোহরাব বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। এতে একজন গ্রেপ্তার ও দুইজন পলাতক আছে বলে নিশ্চিত করেছে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান।

/এসএস

মন্তব্য করুন