উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের প্রমাণ চীনের ফাঁস হওয়া সরকারি নথিতে

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর দেশটির সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক সরকারি নথিতে। শুধু নৃতাত্ত্বিক উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলমানরাই নয়; বরং একই অবস্থা অঞ্চলটির অন্য মুসলিমদেরও। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্টরা দীর্ঘ দিন থেকেই বলে আসছেন, জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে অন্তত ১০ লাখ মুসলিমকে আটক করে রেখেছে চীন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসঙ্ঘের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে চীন বরাবরই মুসলিমদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমানের বাস। জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশই উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশী মিডিয়ার সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ মুসলিমদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে বেইজিং।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা নথিটি ফাঁস হয়েছে চীনের একজন ঊর্ধ্বতন রাজনীতিকের কাছ থেকে। এতে দেখা গেছে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিভাবে ২০১৪ সালে অঞ্চলটি সফরকালে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অঞ্চলটির মুসলিমদের ব্যাপারে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

একটি ট্রেন স্টেশনে চুরি হামলার পর অঞ্চলটি সফর করেন শি জিনপিং। ওই হামলার জন্য উইঘুরদের দায়ী করা হয়ে থাকে। এরপর দেয়া সিরিজ ভাষণে একনায়কতন্ত্রের উপাদানগুলো ব্যবহার করে ‘সন্ত্রাসবাদ, অনুপ্রবেশ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে’ লড়াইয়ের নির্দেশ দেন।

একই সাথে উইঘুর মুসলিমদের ব্যাপারে কোনোভাবেই অনুকম্পা না দেখানোর নির্দেশ দেন তিনি। চীনা প্রেসিডেন্টের এমন নির্দেশের ব্যাপারে রয়টার্সের পক্ষ থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ফ্যাক্স করা হয়েছে। এর কোনো জবাব মেলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চীনের লড়াই কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়; বরং জিনজিয়াং থেকে উইঘুর মুসলমানদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে বেইজিং।

আই.এ/

মন্তব্য করুন