রাবি শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগের ২ কর্মী বহিস্কার

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

মুজাহিদ হোসেন, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী সোহরাব মিঞাকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করেছে প্রশাসন। শৃঙ্খলা কমিটির জরুরী সভায় বহিস্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান।

রোববার বেলা ১২ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বই হাতে নিয়ে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে এসে সাময়িক বহিস্কারের ঘোষণা দেন প্রক্টর। পরে স্থায়ীভাবে বহিস্কার ও তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা।

বহিস্কৃতরা হলেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ও বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের হুমায়ন কবির নাহিদ।

একই দাবিতে এদিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস রোডে ‘নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্যের ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আক্তার হোসেন মজুমদার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, আইইআর ইনস্টিটিউট এর অধ্যাপক আক্তার বানু আল্পনা প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশি শক্তির আস্তানা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় ছাত্রদের মানসিক ও দৈহিক নিপীড়নের মত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেই চলেছে। বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীকে ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্তরা গায়ের জোরে হল থেকে বের করে দিচ্ছে। অছাত্র বখাটে কর্তৃক ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা নিত্য দিনের হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরও প্রশাসনের নিরাপত্তার বিষয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

এ সময় তারা কয়েকটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, নিপীড়ক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী বহিষ্কার, দায়িত্বে অবহেলার জন্য হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, কোনো নির্যাতন হলে প্রশাসন মামলার তদারকি, ব্যয়ভার বহন করা, হলগুলো সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা, বৈধ শিক্ষার্থীদের সিট নিশ্চিত করা।

এদিকে হামলাকারীদের স্থায়ী বহিস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক অন্তু বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রলীগের একের পর এক বেপরোয়া হামলা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে একটি ভয়ের রাজ্যে পরিণত করেছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের জীবনের ন্যূনতম নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই ছাত্রলীগের এসব গুন্ডাদের বাঁচিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সোহরাবের উপর হামলায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিস্কারের করতে হবে।

এদিকে শনিবার রাতে শহীদ শামসুজ্জোহা হল থেকে ঘটনায় জড়িতের অভিযোগে চার জনকে আটক করে নগরীর মতিহার থানা পুলিশ। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকজনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান জানান, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে মৌখিকভাবে বহিস্কারের কথা জানিয়েছি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। লিখিত কোনো বিজ্ঞপ্তি দেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, অফিসিয়াল প্যাডে কোন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের তৃতীয় ব্লকের ২৫৪ নম্বর কক্ষে সোহরাবকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী রাকিবুল ইসলাম ওরফে আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবির নাহিদ মারধর করে। এক পর্যায়ে দুইজন মিলে রড দিয়ে সোহরাবকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে ও হাত ভেংগে দেয়।

বর্তমানে ভুক্তভোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। (ছবি সংযুক্ত) প্রশাসন ভবন ঘেরাও।

/এসএস

মন্তব্য করুন