বাড়ছে সরকারের ঋণ; ঘাটতি মেটাতে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ধার

প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

সরকারের ব্যাংক ঋণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের ভাটা পড়েছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ বা ধার নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। কিন্তু চার মাসেই ৩৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা নিয়ে ফেলেছে।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রাজস্ব আদায় এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে বাধ্য হয়েই সরকারকে ব্যাংক থেকে প্রচুর ঋণ নিতে হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত। আর সরকারি ঋণের এই চাপে বেসরকারি খাতের ঋণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য ঘেটে দেখা যায়, ৩১ অক্টোবর শেষে ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের স্থিতি বা পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই (জুলাই-অক্টোবর) নিয়েছে ৩৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকেই নেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৬ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। মুনাফা কমায় নিরাপদ এই বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) ৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে তিন ভাগের এক ভাগ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে সবমিলিয়ে ১১ হাজার ৩০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।এরমধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে সাত হাজার ৬৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবেই এই দুই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ ছিল নয় হাজার ৫৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কড়াকড়ি এবং কর বাড়ানোর ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কম হবে ধরে নিয়ে এবারের বাজেটে এ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য কম ধরেছে সরকার।চলতি বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্য ধরা আছে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বিক্রি বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হয় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্রে ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা।সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় এ খাত থেকে ঋণ পাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহনের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম ১৭ শতাংশের মতো। গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন