এতদিন হাস্যোজ্জ্বল থাকলেও এবার কাঁদতে দেখা গেল ওসি মোয়াজ্জেমকে

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

এবার আদালতে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, যাকে এতদিন হাস্যোজ্জ্বলই দেখা যাচ্ছিল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বিচারের শেষভাগে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় সাবেক এই ওসিকে কাঁদতে দেখা গেল।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সামনে তিনি বললেন, এই অভিযোগে যত বড় শাস্তিই দেন না কেন, তার চেয়ে বড় শাস্তি আমি পেয়ে গেছি।

এ আদালতে মোয়াজ্জেমের বিচার চলেছে ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে। রায়ের আগেই কীভাবে শাস্তি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন?

আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি বলেন, সামাজিকভাবে এই মামলার কারণে হেয় হয়েছি অনেক। আমার ১৫ বছরের ছেলে স্কুলে যেতে পারে না। আমি ১০টা খুন করলেও এত বড় সাজা হত না। ৭০/৭৫ বছর বয়সী আমার মা, আমার মেয়ে এই ঘটনায় খুব মর্মাহত হয়েছেন।

মোয়াজ্জেম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি কী অপরাধ করলাম! উনি (বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন) যদি ভিডিওটা পুরোপুরি দেখতেন তবে এই মামলা করতেন না। উনি ভিডিও ঠিকমত দেখেনই নাই।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি গত মার্চ মাসে তার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। সেসময় সোনাগাজী থানায় তার জবানবন্দি নেন তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এসময় তিনি নুসরাতের ভিডিও করেন।

বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, নুসরাতের মা, ভাই ও দুই বান্ধবী, দুই পুলিশ সদস্য ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন। বৃহস্পতিবার আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের পর যুক্তিতর্ক শেষ হলেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে যাবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় তার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনকে গত ২৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড দেয় ফেনীর নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সেই রায় ডেথ রেফারেন্স হিসেবে শুনানির জন্য ইতোমধ্যে হাই কোর্টে গেছে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন