আবরার হত্যা, ভোলা ট্রাজেডি ও ভারতচুক্তি সরকারের নতজানু নীতির বহিঃপ্রকাশ

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

চলমান ঘটনা প্রবাহর বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা, ভোলায় নৃশংস হত্যাকান্ড, ক্যাসিনোর উদ্ভব, দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি ও বৈধতার মোড়কে চুরির মহোৎসব ও সরকারের নতজানু রাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দেশ আজ অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ভারত সফরে যুগযুগ ধরে অমিমাংসিত তিস্তা চুক্তির বিষয়টি উপেক্ষা করে দেশের স্বার্থবিরোধী যে সকল চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন, তা বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকগণ মেনে নিতে পারে না। এসকল দুরাবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্র গড়তে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

আজ ২৪ অক্টোবর’১৯ইং বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- বরিশাল মহানগরের সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  কথা বলেন তিনি।

তাই আসুন আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করি।

সদস্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর ও বরিশাল মহানগর সভাপতি মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বরিশাল সিটিতে অধিক হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে, এটা কোনো জনদরদী মেয়রের মাধ্যমে আমরা আশা করি না। সুতরাং বরিশাল সিটির জনসাধারণের দিকে তাকিয়ে অত্যাধিক হারে ট্যাক্স আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সিটি কর্পোরেশনকে ফিরে আসতে হবে। অপরদিকে খেটে খাওয়া অটোরিক্সা চালকদের সাথে বহুদিন ধরে টালবাহানা করা হচ্ছে। এদেরকে বারবার নিষিদ্ধ করার পায়তারা করা হচ্ছে। আমরা আজকের সম্মেলন থেকে বলতে চাই অটোরিক্সা-ইজিবাইক চালকদের বিকল্প কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে তাদের রুজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিবেন না। যদি আপনারা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেন, তবে আমরা মজলুম জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হবো।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, বরিশালের বিগত ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিগণ বরিশালবাসীর সাথে বারবার প্রতারণা করেছেন। যার প্রমাণ বরিশালের রাস্তাঘাটসহ সামগ্রিক উন্নয়নের দূরাবস্থা। আমরা আশাবাদী, আগামীদিনে বরিশালবাসী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী ব্যক্তিদের বয়কট করে নীতিবান, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব বেছে নিবেন। তাই আমি ধর্ম-বর্ণ-দল- মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের বরিশালবাসীর প্রতি আহবান করছি, আসুন আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামীর সমৃদ্ধ বরিশাল গড়ার শপথ গ্রহণ করি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। তিনি বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার মাধ্যমে মানুষের বাক স্বাধীনতা হরনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। তারা আবরার হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানচিত্রকে হত্যা করেছে। আমরা মনে করি এর সাথে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনের সম্পৃক্ততা আছে। একই সাথে ভোলায় হত্যাকান্ডের নির্দেশদাতাদের সাথেও ইসকনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সচেতন মহলের ধারণা। সুতরাং বাংলাদেশে ইসকনের সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ করা এখন সময়ের দাবী। সবশেষে বরিশালের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি আমার আহবান হলো- স্বাধীনতার পর বরিশালবাসী বারবার প্রতারণার স্বীকার হয়েছে। এসকল প্রতারকদের থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং সমৃদ্ধ বরিশাল গড়তে মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাইকে আপনাদের নেতা নির্বাচন করুন। তিনি আপনাদের আশা- আকাঙ্খা ও প্রতিশ্রæতি রক্ষায় শতভাগ সফল হবেন ইনশা-আল্লাহ।

দলের বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া হামিদীর সঞ্চালনায় সদস্য সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জামিয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা নেছার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহানগর উপদেষ্টা মাওলানা সৈয়দ নাছির আহমাদ কাওছার, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, মাওলানা লুৎফর রহমান, জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা ইদরীস আলী, সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বরিশাল মহাগনর সেক্রেটারী প্রিন্সিপ্যাল ওমর ফারুক, ইসলামী আইনজীবী পরিষদ মহানগর সভাপতি এ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা নূরে আলম সিদ্দিকী ও সেক্রেটারি মাওলানা আমানুল্লাহ আমান (চেয়ারম্যান, চাঁদপুরা ইউনিয়ন পরিষদ), ইসলামী যুব আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আরিফুর রহমান, ইশা ছাত্র আন্দোলন মহানগর সভাপতি এস.এম ছাব্বির রহমান, জেলা সভাপতি আরমান হোসাইন রিয়াদ প্রমূখ।

/এসএস

মন্তব্য করুন