রোহিঙ্গা স্থানান্তর স্থগিত রাখার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভাসানচরে স্থানান্তর স্থগিত রাখার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নভেম্বর বা ডিসেম্বরে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ ভাসান চরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণার পর এই আহ্বান জানালো ওয়াশিংটন।

জাতিসংঘ থেকেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে না গেলে তাদের সেখানে জোর করে নেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সরকার ভাসানচর নিয়ে কোনও লুকোচুরি করছে না। সব নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলে আগ্রহী কূটনীতিকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ। কোনও কিছু লুকোচুরি খেলতে চাই না। তবে আগে কাজ শেষ হোক।’

‘দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার’ শীর্ষক কংগ্রেশনাল এক শুনানিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

কংগ্রেশনাল শুনানিতে অ্যালিস ওয়েলস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বারবার আশ্বস্ত করেছেন। স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা স্থানটিকে উপযুক্ত ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত ভাসানচরে কোনও শরণার্থীদের স্থানান্তর স্থগিত রাখার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যর্পণের পরিবেশ সৃষ্টি এবং আনান কমিশনের সুপারিশ অনুসারে তাদের অধিকার দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে।

মিয়ানমার থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলো থেকে ভাসানচরে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরে গত বছর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। সাগরবর্তী এই বিস্তীর্ণ চরটির উন্নয়নে ২৮ কোটি ডলার ব্যয় করছে বাংলাদেশ। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই চরটির উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ভাসানচরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে যায়নি।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিকে ভয়েস

মন্তব্য করুন