৬ মাস ধরে ঘুমাতে পারেন না নুসরাতের মা; চোখে ভাসে ঝলসানো নুসরাত

প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

পাঁচ দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পোড়া যন্ত্রণা ভোগ করে না ফেরার দেশে চলে যান যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। তার পোড়া যন্ত্রণা নিয়ে চলে যাওয়ার সেই স্মৃতি গত ৬ মাসে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন মা শিরিন আক্তার।

তিনি বলেন, ‘ঘুরেফিরে চোখের সামনে ভাসে ঝলসে যাওয়া নুসরাতের সেই বীভৎস ছবি; মেয়ের শরীরের পোড়া গন্ধ এখনও নাকে এসে লাগে। আমি ঘুমাতে পারি না।’ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) নুসরাতের মা শিরিন আক্তার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গলার কাছে, বুকের ভেতর দলা পাকিয়ে ওঠা যন্ত্রণা আড়াল করে মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে থাকেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই নারী। তবে ক্ষণে ক্ষণে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিরিন আক্তার বলেন, ‘সেই ঘটনা সারাক্ষণ মনে ভাসে, শরীর ভারী হয়ে আসে। চলাফেরা করতে পারি না। ওই ঘটনার পরপরই মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

তবে কোনও ডাক্তারের কাছে যাননি বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) নুসরাত হত্যা মামলার রায়। এ ব্যাপারে শিরিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি চাই, অভিযুক্ত প্রত্যেক আসামির সর্বোচ্চ সাজা হোক। আমার একমাত্র মেয়েকে ঘাতকরা যেভাবে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তেমন কঠিন সাজা যেন দেওয়া হয় অভিযুক্ত প্রত্যেক আসামিকে।’

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়।

৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদরাসার কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যায়। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন