সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া আবারও কানাডায় সরকার গঠন করছেন ট্রুডো

প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই কানাডায় সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন দেশটির উদারপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত জাস্টিন ট্রুডো। ৩৩৮ আসনের পার্লামেন্টে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৭০টি আসন। তবে সোমবারের নির্বাচনে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি অব কানাডা সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে বিজয়ী হলেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্রিটিশ ভিত্তক গণমাধ্যম বিবিসি মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে।

খবরে বলা হয়, দলটিকে এখন একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হবে। হাতে ব্যালট গণনার কারণে ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ফল জানা যাবে। কানাডার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি-র লাইভে ট্রুডোর লিবারেল পার্টিকে ১৫৭টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি এগিয়ে রয়েছে ১২১টি আসনে।

ব্লক কুবেকুয়া, নিউ ডেমোক্রেটিক ও গ্রিন পার্টি অব কানাডা এগিয়ে রয়েছে যথাক্রমে ৩২, ২৪ ও তিনটি আসনে। একটি আসনে জয় পেয়েছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দৃশ্যত সংখ্যালঘু সরকারের সুবিধা পেতে যাচ্ছে বামপন্থী রাজনৈতিক দল নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি)।

সেক্ষেত্রে ২৪টি আসন নিয়ে কিংমেকারে পরিণত হবেন দলটির নেতা জগমিত সিং। এদিকে নির্বাচনের জয়ের আভাস পেতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ট্রুডোর সমর্থকরা। মন্ট্রিলে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, বন্ধুরা আপনারাই এ বিজয় এনে দিয়েছেন। অভিনন্দন।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের টিমের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য এবং এই দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য তোমায় ধন্যবাদ কানাডা। আপনি যাকেই ভোট দিন না কেন, আমাদের টিম সব কানাডিয়ানের জন্য কাজ করবে।’

এবারের নির্বাচনকে জাস্টিন ট্রুডোর জন্য একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে দৃশ্যত ক্ষমতায় ফিরলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে ট্রুডোর। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন আইন পাস করতে অন্য দলগুলোর শরণাপন্ন হতে হবে তাকে।

১০টি প্রদেশ নিয়ে গঠিত কানাডা আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। প্রায় চার কোটি মানুষের দেশটিতে এবারের নির্বাচনে মোট ছয়টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণায় নিজের উদার অভিবাসননীতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েন জাস্টিন ট্রুডো।

জলবায়ু ইস্যুতেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। তবে দুই ডজনেরও বেশি কানাডিয়ান শিক্ষাবিদের স্বতন্ত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জাস্টিন ট্রুডো তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির ৯২ শতাংশই পূর্ণাঙ্গ কিংবা আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। গত ৩৫ বছরে অন্য যে কোনও কানাডিয়ান সরকারের চেয়ে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের হার সর্বোচ্চ।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন