ভোলা ট্রাজেডি: অজ্ঞাতনামা ৫ হাজারের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

ইসমাঈল আযহার, সিনিয়র রিপোর্টার

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ হাজার জনকে আসামী করে মামলা করেছে পুলিশ। সেখানে সব ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসক। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে দুইটি পৃথক কমিটি। গত রোববার রাতেই বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক আবিদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত এসব আসামীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের কথিত ফেসবুক ম্যাসেজ নিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ ফেসবুক মেসেজে নবী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে তিনি কটূক্তি করেন। ওই ফেসবুক ম্যাসেজটি স্থানীয়ভাবে পোস্ট আকারে ছড়িয়ে দেয়া হলে উত্তেজনা আরো বাড়তে থাকে৷ শুক্রবার বিকেলে ওই যুবক নিজেই বোরহানউদ্দিন খানায় গিয়ে অভিযোগ করেন যে তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে৷ পরে যার সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল ১০ টায় তৌহিদী জনতার নামে একটি ব্যানারে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে লোকজন সদরে আসেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে ৪ জন নিহত ও দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

এঘটনায় স্যোশাল মিডিয়াসহ সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তৌহিদী জনতার ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলে নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে মুসল্লি আহত ও ৪ জনের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি হাসপাতালে গিয়ে গভীর রাতে আহতদের খোঁজ-খবরও নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে ফেসবুক ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে ধৈর্য্যধারণ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’

পুলিশ-জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ঘটনায় আমি যতদূর জানি পুলিশ আত্মরক্ষার্থেই গুলি ছুড়েছে। তবে গুলির অনুমতি কে দিয়েছে এটা তদন্ত করে বের করা হবে।

এদিকে বোরহানউদ্দিনে এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সেখানে প্রচুর অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব নিযুক্ত রয়েছে। সকাল থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ ছিল। ব্যক্তিগত ছাড়া বোরহানউদ্দিনে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ ছিল।

এঘটনায় সরকারের কাছে সুষ্ঠ তদন্ত ও ৬ দফা দাবি জানান ভােলার সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ।

৬ দফা

১. অনতিবিলম্বে ভােলা জেলা পুলিশসুপার ও বােরহানউদ্দিনের ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে গুলির হুকুমদাতা ও গুলিবর্ষণকারীদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।

২. আমাদের মহানবী (স.) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে।

৩. মহানবী (স.) ও আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটূক্তিকারী ‘বিপ্লব চন্দ্র শুভকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে।

৪. ভােলার বােরহানউদ্দিনের সংঘর্ষে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের পরিবারকে। সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৫. সরকারী খরচে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যাবস্থা করতে হবে।

৬. গতকালের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং কোন হয়রানীমূলক মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই দাবী পূরণের সার্বিক ব্যাবস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘােষণা না দেওয়া হলে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ-ভােলা বৃহত্তর কঠিন কর্মসূচী গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিল দলটি।

হতাহতের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ। পড়তে ক্লিক করুন (ভোলার ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের ব্যাখ্যা ও তদন্ত কমিটি গঠন)

আই.এ/

মন্তব্য করুন