ব্রেক্সিট নাটকের বর্তমান অধ্যায়ে ব্রিটেনে চলতি সপ্তাহে কী ঘটতে পারে?

প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

ব্রিটিশ সংসদে সময়মতো ব্রেক্সিট চুক্তির অনুমোদন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট, দ্বিতীয় গণভোট অথবা ব্রেক্সিটে বিলম্ব – চলতি সপ্তাহে নানা রকম সম্ভাবনা উঠে আসছে। বরিস জনসন এখনো ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চাইছেন।

ব্রেক্সিট নাটকের বর্তমান অধ্যায়েও ব্রিটেনে চলতি সপ্তাহে কী ঘটতে পারে, তা অনুমান করা আগের মতোই কঠিন। শনিবার ব্রিটিশ সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তির দ্বিতীয় সংস্করণ অনুমোদন করাতে না পারলেও হাল ছাড়তে রাজি নন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আইন মানতে বাধ্য হয়ে তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হয়েছে।

তবে সেই আবেদন যাতে গুরুত্ব না পায়, সেই লক্ষ্যে তিনি মরিয়া উদ্যোগ নিয়েছেন। সোমবার (২১ অক্টোবর) থেকে ব্রিটেনের সংসদে জনসন ও বিভিন্ন ইস্যুতে তার বিরোধীদের মধ্যে নতুন সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সরকার সোমবার ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চালাতে চায়। তবে স্পিকার সেই অনুমতি দেবেন কিনা অথবা অন্য কোনো বাধা সৃষ্টি হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

ব্রিটিশ সংসদে জনসনের বিরোধীরা একাধিক পালটা উদ্যোগ নেবার তোড়জোড় করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থার অভাবের কারণে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট-বিরোধীরা বিচ্ছেদ চুক্তি আইনে পরিণত করে তবেই সেটির প্রতি সমর্থন জানাতে চান।

কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা সেই সব আইন প্রণয়নে বাধা দিয়ে ৩১শে অক্টোবর চুক্তিহীন ব্রেক্সিট অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে বলে তাদের মনে আশঙ্কা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জনসনও ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে অবিচল রয়েছেন। বিরোধি লেবার দল দ্বিতীয় গণভোটের শর্তে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের ইঙ্গিত দিয়েছে।তাদের মতে, এবার ব্রিটেনের ভোটারদের হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তুলে দেবার সময় এসে গেছে।

উল্লেখ্য, সপ্তাহান্তে হাজার হাজার মানুষ নতুন গণভোটের দাবি জানিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ইইউ তড়িঘড়ি করে ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিক আবেদনে সাড়া না দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার ২৭টি ইইউ সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত লন্ডনে এ বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে কিনা, তা জানতে ইইউ সে দিকে লক্ষ্য রাখতে চায়।৷ জনসনের চিঠিও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি দেশ ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আন্টি রিনে ব্রেক্সিটের ক্ষেত্রে তৃতীয় বিলম্ব মেনে নেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহান্তেই এক জরুরি ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে ব্রিটেনের আবেদন মেনে নিতে পারেন – এমন সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। এমনকি ব্রেক্সিটের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বিলম্বের পক্ষেও অনেকে সওয়াল করছেন।

ব্রিটেন ও ইইউ ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলেও সেই সিদ্ধান্ত সময়মতো কার্যকর করা কার্যত অসম্ভব। ফলে প্রশাসনিক বিলম্বের কথাও শোনা যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে নতুন করে তিনটি চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।একটিতে স্বাক্ষর না করেই ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছেন, একটিতে ছিল সময়সীমা না বাড়ানোর আবেদন, অন্যটিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা। ইইউ সম্মেলনে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতি সমর্থন আদায় করতে পারলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন সংসদে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন। বিরোধীদের সঙ্গে আপোশ সম্ভব না হলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া অনিশ্চিত।

এদিকে ইইউ সম্মেলনে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতি সমর্থন আদায় করতে পারলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন সংসদে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন। বিরোধীদের সঙ্গে আপোশ সম্ভব না হলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ইইউ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দু-দুটি সাফল্যের স্বাদ পেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। প্রথমে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হলো। তারপর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা একযোগে সেই চুক্তির প্রতি সমর্থন জানালেন। দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রও অনুমোদন করেন তাঁরা। জনসন সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অংশ না নিয়ে দেশে ফিরে সংসদে তার ‘নতুন’ ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সমর্থন আদায় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে সেই কাজ যে মোটেই সহজ হবে না, বৃহস্পতিবারই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন