অভিভাবক শূন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: শীর্ষ ৫ প্রশাসনিক পদ শূন্য

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

সাব্বির আহমেদ, ববি: শীর্ষ ৫ প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকায় অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। গত ২৭ মে ৪ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে উপাচার্য শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই কোনো উপ-উপাচার্য নেই। রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এতদিন ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ কে এম মাহবুব হাসান ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করলেও তার মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন এ পদটিও ফাঁকা রয়েছে। পুরোপুরি অভিভাবক শূন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও চলছে অচলাবস্থা। আটকে আছে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা, ফলাফল। এতে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলোর ডিনের দায়িত্ব পালন করেন উপাচার্য। ফলে ওইসব বিভাগের পরীক্ষা, ফলাফল প্রকাশসহ সব কার্যক্রম স্থবির রয়েছে।

এদিকে ভিসি না থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার মধ্যেই দায়িত্বহীনতা লক্ষ্য করা গেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্থগিত হয়ে আছে শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পাঁচ মাস আগে সরে যেতে হয় তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হককে। পরে ওই পদে রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয় ট্রেজারার একেএম মাহাবুবকে। ২০১৫ সালে যোগ দেয়া ট্রেজারারের মেয়াদও শেষ হয় গত ৭ অক্টোবর। ওইদিন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইদিন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ফজলুল হকের মেয়াদ শেষ হলে ট্রেজারারের সঙ্গে তিনিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেন। সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি অভিভাবক শূন্য।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, উপাচার্য না থাকায় একাডেমিক, অর্থ ও সিন্ডিকেট সভা হচ্ছে না ছয় মাস ধরে। এ কারণে সিলেবাস ও ফলাফল কার্যক্রম অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না। খণ্ডকালীন শিক্ষকও নিয়োগ হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া খুবই জরুরি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী রেজিষ্টার মো. মিলন বলেন, উপাচার্য না থাকায় একাডেমিক, অর্থ ও সিন্ডিকেট সভা হচ্ছে না ফলে একাডেমি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে যাবার মতো। খুব শীঘ্রই উপাচার্য নিয়োগ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, খুব দ্রুতই ভিসি নিয়োগ জরুরি। সেটা না হলে আমরা সেশন জটে পড়ব।

/এসএস

মন্তব্য করুন